জেলার সংবাদ

কামালপুর, যেখানে রাষ্ট্রপতির আপন ঘর…

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, (ডেইলি টাইমস ২৪):

কিশোরগঞ্জের আর দশটা গ্রামের মতোই মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রাম। কি প্রকৃতি-পরিবেশ, কি লোকাচার-সামাজিকতা কোনোকিছুতেই ভিন্নতা নেই।

তবুও কামালপুর গ্রামের পরিচয় আর গৌরব দুই-ই অন্য গ্রামগুলোর থেকে আলাদা। এ গ্রামেই আপন নিবাস বর্তমান রাষ্ট্রপতি ভাটির শার্দুলখ্যাত মো. আবদুল হামিদের।

মূলত পানির জনপদ কামালপুর। বর্ষায় চারদিকে অথৈ পানি আর শুকনো মৌসুমে হাওরজুড়ে সবুজের সমারোহ।

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনের কামালপুর গ্রামে ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন ২০তম রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তার বাবা হাজি মো. তায়েব উদ্দিন ও মা মোছা. তমিজা খাতুন।
রাষ্ট্রপতির ছেলেবেলা কেটেছে কামালপুরে। এখানেই তার শেকড় আর ঘর-গেরস্থালির শুরু। ফলে এখানকার জল-হাওয়া তাকে খুব টানে। ফলে মাটির টানে বারবার ছুটে আসেন নিজ জন্মভিটা কামালপুরে।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর যতবার হাওরাঞ্চলের মিঠামইন সফরে এসেছেন, ততবারই রাতযাপন করেছেন কামালপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে।

তাকে নিয়ে গর্ব গ্রামের মানুষেরও। রাষ্ট্রপতির ছেলেবেলার বন্ধু হাজি মোনতাজ উদ্দিন ও দারোগ আলী বলেন, বাল্যবন্ধু যখন রাষ্ট্রপতি তখন একটা গর্বতো থাকেই। মানুষকে বলি দেশের রাষ্ট্রপতি একসময় আমাদের খেলার সাথী ছিল। কত সুখের ছিল সেই ছেলেবেলা। তিনি মাঝে-মধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসলে তাকে দেখতে যাই। ভালো লাগে।

সম্প্রতি সরেজমিনে কামালপুর গ্রামে রাষ্ট্রপতির বাড়িতে গিয়ে প্রবেশ ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই ইটের দেয়াল ও টিনের বাংলো টাইপ ঘর। এই ঘরের বারান্দার সামনের অংশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। আর উল্টো দিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ম্যুরাল।

বাংলো ঘর পেরিয়ে এগুলেই সামনে বিশাল উঠান। উঠোনের চারদিকে ইটের দেয়ালসহ টিনের ঘর। এসব ঘরের একটি টিনের দোতলা ঘর। এ ঘরের সামনে একটি ফলকে লেখা রয়েছে মো. আবদুল হামিদ, অ্যাডভোকেট। গ্রামে আসলে এ ঘরের দোতলার একটি কক্ষে রাতযাপন করেন রাষ্ট্রপতি।

এদিকে, এলাকার মানুষের সুবিধার্থে রাষ্ট্রপতির বাড়ি লাগোয়া একটি মসজিদ তৈরি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির বাড়ির কেয়ারটেকার নাসির মিয়া বলেন, রাষ্ট্রপতি আসলেই গাঁয়ের মানুষজন ছুটে আসেন। তিনি খুব মিশুক মানুষ। সবার সঙ্গে কথা বলেন। খোঁজখবর নেন। তিনি আসলেই কামালপুরে একটা আনন্দ বিরাজ করে।
রাষ্ট্রপতির পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি কামালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরে ভৈরব কেবি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি  পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে নিকলী জেসি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাস করেন।

কলেজজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির যুক্ত হয়ে গুরুদয়াল কলেজ ভিপি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। পরে ঢাকার সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি শেষ করে রাজনীতির পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ জজকোর্টে আইন পেশায় যোগ দেন তিনি। তিনি জেলা বার সমিতির পাঁচবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুল হামিদ অষ্টগ্রাম-ইটনা-মিঠামইন সংসদীয় আসন থেকে সাত সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে ১৩ জুলাই তিনি সংসদের ডেপুপি স্পিকার নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের ১১ জুলাই থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতের ২০০১ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত  হয়ে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার নির্বাচিত হন।

এরপর ২০১৩ সালের ১৪ মার্চ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৩ সালের ২২ এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ভাটির শার্দুল আবদুল হামিদ।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button