জাতীয়

পাশে আছি, পাশেই থাকব

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, (ডেইলি টাইমস ২৪):

ভারতের তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে খুবই সুসম্পর্ক বিরাজ করছে। তবে দু’দেশের স্বার্থ রক্ষা করে এ সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব।

বিশেষ করে পশ্চিমবাংলার সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান নিবিড় সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিবেশী হিসেবে এ সহযোগিতা উভয় দেশের জনগণকে অনেক বেশি উন্নতি করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

রোববার যুগান্তরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সাক্ষাৎকারে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ, সীমান্ত পরিস্থিতি প্রভৃতি বিষয়ে আলোকপাত করেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মধ্যে বিশেষ সম্পর্কের বিষয়েও আলোকপাত করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্তে শান্তি বজায় থাকুক- এটাই আমরা চাই।

ভারতের তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পার্থ চট্টোপাধ্যায় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে দু’দিনের বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। সফর শেষে শনিবার রাতে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। পশ্চিমবঙ্গের এ রাজনৈতিক নেতার শেকড় অবশ্য বাংলাদেশেই।

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার বাবার বাড়ি সাতক্ষীরা আর মায়ের বাড়ি খুলনা। তিনি বলেন, এবারের সফরে এসে খুবই ভালো লেগেছে। কম সময়ের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাদুঘর, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ অনেক স্থানই দেখেছেন।

তিনি বলেন, আমার অনেক ভালো লেগেছে নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। আমরা অনেক সময় ধরে কথা বলেছি। রাজ্জাক আমার মামার বন্ধু। আমাদের পাড়ায় থাকতেন। ছোটবেলায় তিনি অনেক স্মার্ট ছিলেন।

তৃণমূলের এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। দু’দেশের মানুষ সর্বদা পরস্পরের মধ্যে কথাবার্তা বলেন। পশ্চিমবাংলার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও নিবিড়। শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতা ব্যানার্জির সম্পর্ক একেবারে সর্বজনবিদিত।

জঙ্গিবাদ দমন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ দমন নিয়ে যে কড়া অবস্থান শেখ হাসিনা নিয়েছেন, সেটা বিশ্বে আর কেউ নিতে পারবে না, এটা নজিরবিহীন। নৈশভোজে আমি শেখ হাসিনাকে বলেছি, অসম্ভব সাহস আপনার। জঙ্গিবাদ নিয়ে পুরো দিকনির্দেশনা দিয়ে দিলেন।

তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে মমতা ব্যানার্জির মনোভাব এখন কেমন- জানতে চাইলে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এ ব্যাপারে আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না। ভারতে এমন দ্বিপক্ষীয় ইস্যু কেন্দ্রীয় সরকার দেখাশোনা করে থাকে। আমি তিস্তা ইস্যুতে কোনো মন্তব্য করব না। কারণ বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখাশোনা করে।

তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তিস্তা ইস্যুতে মমতাকে রাজি করানোর জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইলিশ নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইলিশ চাইলেই তো তিস্তার বথা বলবে। তাই ইলিশের কথা তুলিনি। কারণ তিস্তার ব্যাপারটা তো কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপার।

ইলিশ রফতানির অনুমতি না চাইলেও এ সফরকালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের খাবারের মেন্যুতে বিভিন্ন পদের ইলিশ ছিল বলে জানান। টাঙ্গাইলের চমচমসহ নানা ধরনের মিষ্টি খেয়েছেন তিনি।

সীমান্তে হত্যা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চাই সীমান্তে শান্তি বজায় থাকুক। তবে পুরো বিষয়টি দিল্লি ও ঢাকা দেখাশোনা করে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমাদের দেশের মানুষের, সরকারের ও মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা নিয়ে আমি বাংলাদেশে এসেছি। আমরা বাংলাদেশের পাশেই আছি, থাকব সব সময়ই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তৃণমূল কংগ্রেসের এ নেতা বলেন, সোনার বাংলা তৈরি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। দেশের উন্নয়নে তার অবদান অনেক। তিনি বাংলাদেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতার জন্য ছয়দফা, ’৬৯-এ গণঅভ্যুত্থান পরিশেষে ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন তার বাবা। শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য অনেক কষ্ট, অনেক সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া বাংলাদেশ চিন্তা করা যায় না। দু’বাংলার ভূখণ্ড আলাদা হতে পারে, তবে হৃদয় থেকে কখনও আমরা আলাদা হতে পারিনি। তাই সব সময়ই আমরা এক। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, লালন, জীবনানন্দ, শামসুর রাহমান- সবাই আমাদের। তারাই আমাদের অনুপ্রেরণা।

সূত্রঃ যুগান্তর

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button