জাতীয়

আসামিরা ‘বন্ধুত্ব’ শব্দটিকে কলঙ্কিত করেছে: বিচারক

ঢাকা, ১৫ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিবিএ চতুর্থ বর্ষের ছাত্র অমিত সাহা হত্যা মামলায় দুই বন্ধুর ফাঁসি ও একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, আসামিরা ‘বন্ধুত্ব’ শব্দটিকে কলঙ্কিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রায়ে অমিতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আপত্তি জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

রায়ে আসামি আসফাক আহমেদ শিহাব ও আল আমিন ইসলাম পিন্টুকে মৃত্যুদণ্ড এবং রুহুল আমিন রুবেলকে  যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া দণ্ডবিধির ৩৯৪/৩৪ ধারা ও ৪১১/৩৪ ধারায় আসামিরা দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে মোট ৬০ হাজার টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দেয়া হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, তিন অক্ষরের ‘বন্ধু’ শব্দটির অর্থ যার ওপর বিশ্বাস রাখা যায়। ‘বন্ধুত্ব’ হচ্ছে মমত্ব, আনুগত্য, ভালবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও গভীর বিশ্বাসের মিশ্রণ। বন্ধুত্বের মধ্যে লোভ-লালসা থাকবে কেন? কী অপরাধ ছিল অমিত সাহার ও তার পরিবারের? বন্ধু নির্বাচনই কী তার অপরাধ ছিল? নাকি অমিত সাহার পরিবারের ভুল ছিল বন্ধুনামীয় শত্রুদের সঙ্গে অমিত সাহাকে মিশতে দেয়া?

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অমিত সাহার খুনিরা ‘বন্ধুত্ব’ শব্দটিকে কলঙ্কিত করেছে। বন্ধুর মাঝে থাকবেনা কোনো লোভ-লালসা, থাকবে মমত্ব, ভালবাসা ও শ্রদ্ধাÑ সেই চরিত্রের বন্ধুত্ব করে নিজে নিরাপদ থাকা যায়।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর দুপুর ১টা থেকে দুপুর আড়াইটার মধ্যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে অমিত সাহাকে হত্যার পর লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। তারপর ঘটনাস্থল থেকে আসামিরা একটি এক্স কমপ্যাক ল্যাপটপ, একটি মাইক্রোম্যাক্স ট্যাব, একটি কোরআই থ্রি সিপিইউ, স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন মালামালসহ প্রায় ৮ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার রাতেই পুলিশ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শিহাব, পিন্টু ও রুবেলকে গ্রেফতার করে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করে। ওই রাতেই নিহতের বাবা শ্যামল চন্দ্র ভূইয়া বাদি হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করেন।

২০১৩ সালের ২৯ এপ্রিল ওই তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০১৩ সালের ২৪ জুলাই এ মামলায় চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত। চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে এ মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে।

রায় ঘোষার পর অমিত সাহার বাবা শ্যামল চন্দ্র ভূইয়া  বলেন, ‘রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর করা আমাদের একমাত্র দাবি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা পরস্পর বন্ধু। এদের মধ্যে আসামি শিহাব একই বাসায় ভাড়া থাকতেন। মূলত ডাকাতি করার সময় আমার ছেলে তাদের চিনে ফেলায় আসামিরা অমিতকে হত্যা করে।’

রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পিপি মো. আবু আবদুল্লাহ ভূঞাও রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে  বলেন, ‘আদালত থেকে আমরা ন্যয়বিচার পেয়েছি। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ মামলাটির অভিযোগ প্রমাণে আমরা সক্ষম হয়েছি।’

রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করা হবে জানিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. সাফায়েত হোসেন সজিব যুগান্তরকে বলেন, ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রুহুল আমিন রুবেল তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে শুধু খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার হওয়ার কথা বলেছেন। সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button