জাতীয়

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা, বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন : শিল্পমন্ত্রী

ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের জনগণ ও সরকার যে সমর্থন এবং সহযোগিতা করেছিল, তা বিশ্বের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সাহায্যের পাশাপাশি ভারত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল।

এ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আড়াই লাখ ভারতীয় সেনার মধ্যে প্রায় দেড় হাজার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শিল্পমন্ত্রী বৃহস্পতিবার কলকাতার নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়ামে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ বিজয় উৎসব’ এর উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন এ উৎসবের আয়োজন করে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বাংলাদেশ বিজয় উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে সফল করার লক্ষ্যে ভারত সরকার বাংলাদেশি শরণার্থীদের লালন-পালনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে সাহায্য করেছিল। সে সময় ভারত ৬৯টি বেজ ক্যাম্প ও ১ শ উপ-বেজ ক্যাম্পে ১ লাখ মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এর পাশাপাশি যুদ্ধকালে বিশ্বের জনমতকে বাংলাদেশের অনুকূলে আনার জন্য ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সবচেয়ে বেশি অবদান রাখেন। তিনি বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে বিভিন্ন দেশের জনগণ ও সরকারের মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করেছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা সেদিন বাংলাদেশের জনগণের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তারা শরণার্থীদের নিজ পরিবারের সদস্যদের মতো আশ্রয় দিয়ে নিজেদের খাবার ভাগ করে খাইয়েছিল। কলকাতার থিয়েটার রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী অফিসটি বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জামদানি, টাঙ্গাইল তাঁত শাড়ি, রাজশাহীর সিল্ক, বুটিক, হস্ত ও কারু শিল্প, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, সিরামিক ও মেলামাইন সামগ্রী। এ ছাড়া কাচ্চি বিরিয়ানি, ভূনা খিচুড়ি, পিঠা-পুলি, সন্দেশসহ ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি মুখরোচক খাবার রয়েছে।

প্রতিদিন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা থাকছে। এর ফলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা বলা হয়।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button