জেলার সংবাদ

সেই স্কুলছাত্রের লাশ সেফটিক ট্যাংকে

ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

গাজীপুরের সেই স্কুলছাত্র আতিকুরের লাশ সেফটিক ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ধারণা করা হয়েছিল লাশটি ইট ভাটায় পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

 শুক্রবার দুপুরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাউলতিয়ার কারখানা বাজারের দক্ষিণ পাশে একটি মৎস খামার সংলগ্ন সিরাজুল ইসলামের বাংলো বাড়ির সেফটিক ট্যাংকি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
জয়দেবপুর থানার এসআই রাজিব শেখ জানান, ওই বাড়ির গৃহকর্মী সকালে বাড়িতে পরিচ্ছন্নতা কাজ করার সময় তীব্র দুর্গন্ধ পান। পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা দুর্গন্ধস্থল সেফটিক ট্যাংকির ঢাকনা খুলে একটি লাশ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরে নিহত স্কুলছাত্র আতিকুরের স্বজনরা মরদেহটি আতিকুরের বলে সনাক্ত করেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর স্থানীয় কাউলতিয়া জহির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আতিকুর রহমান বাসা থেকে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য বাইরে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে আতিকের পরিবারের লোকজন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ইটের ট্রাকে করে আতিককে ঢাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আতিকের বড় ভাই আশিক ওই ট্রাকের চালককের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে চালক জানায়, আতিক তার ট্রাকেই আছে। ইটভাটার মালিক ইমরান দেওয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও জানান আতিক তাদের কাছে আছে।

শনিবারও আতিক ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন ছেলে আতিকের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় রোববার আতিকের বাবা আবদুর রশিদ জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এক পর্যায়ে বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানানো হলে সোমবার কাউন্সিলর কার্যালয়ে শালিস বসে। এতে ইটভাটা মালিক ইমরান এবং ট্রাকের চালক, হেলপার ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিল।

শালিসের এক পর্যায়ে আতিক মারা যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। এ সময় ইটভাটা মালিক ইমরান দেওয়ান কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে ওই শালিশে ট্রাকচালকসহ ৪ জনকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বুধবার আবদুর রশিদ বাদী হয়ে দেওয়ান ব্রিক্সের মালিক বিপ্রবর্থা এলাকার মো. হেলাল দেওয়ানের ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩৫), একই এলাকর আবদুর বারেকের ছেলে ট্রাকচালক আবদুল আলিমসহ (২৮) ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিন আসামি ট্রাক চালক আবদুল আলিম, মোঃ শফিকুল ইসলাম ও খোরশেদ আলম গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইলিয়াস রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, আদালতে ৩ আসামি স্বীকার করেন, ঢাকায় ইট নামানোর সময় ইটের সঙ্গে আতিক মাটিতে পড়ে যায়। তার শরীর ঠাণ্ডা থাকায় সে মারা গেছে বলে তারা মনে করে। বিষয়টি মালিক ইমরান দেওয়ানকে জানালে তিনি লাশ বস্তায় ভরে ইট ভাটায় নিয়ে যেতে বলেন।

মালিকের কথামত তারা আতিকের মরদেহ বস্তায় ভরে ট্রাকসহ ইটভাটায় নিয়ে যায়। ভাটা মালিক তাদের চলে যেতে বলে। এর পর আতিকের মরদেহ কি করা হয়েছে তা তারা জানেন না। তারা শুনেছেন আতিকের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button