জেলার সংবাদ

ডাকাতের পরিবর্তে সাজা খাটছেন কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা!

ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

চকরিয়ায় এক ডাকাতের ১২ বছরের সাজার বদলি খাটছেন কন্যাদায়গ্রস্ত হতদরিদ্র পিতা। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুবনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতি ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলার আসামি আবদুল হামিদ ও হতদরিদ্র শওকত ওসমান একই গ্রামের বাসিন্দা।

১৯৯১ সালে ঈগল পরিবহনের একটি বাস চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীর জঙ্গল এলাকায় পৌঁছলে ৭ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেয়। এ সময় বাসের চালক, হেলপারসহ ২০-২৫ জন যাত্রী আহত হন। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় ডাকাতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। আসামিরা উপজেলার ডুলাহাজারার উলুবনিয়া, কাটাখালী ও ডুমখালী এলাকার বাসিন্দা।

কক্সবাজার দ্বিতীয় জেলা দায়রা জজ আদালত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলায় ৫ বছর ও বিস্ফোরক মামলায় ৭ বছর করে সর্বমোট ১২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এলাকাবাসী জানান, ওই মামলার ৫নং আসামি উলুবনিয়া গ্রামের ডুলা মিয়ার ছেলে আবদুল হামিদ। আবদুল হামিদ ওই বছরই (ডাকাতির পর পর) তথ্য গোপন করে সৌদি আরব চলে যান। সৌদি আরবে থাকাবস্থায় তার ১২ বছরের সাজা হয়।

পরে জানা যায়, ডাকাত আবদুল হামিদের ওই ১২ বছরের সাজা খাটছেন একই গ্রামের আলী আহমদের ছেলে শওকত ওসমান। ১৮ আগস্ট শওকত নিজেকে ডুলা মিয়ার ছেলে আবদুল হামিদ দাবি করে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। সেই থেকে শওকত ডাকাত হামিদের সশ্রম সাজা খাটছেন। আবদুল হামিদের ভাই সাহাব উদ্দিন বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

জেলা কারাগারে গিয়ে শওকতের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বললে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, কারাগারে আমি আবদুল হামিদ হলেও আসলে আমার নাম শওকত ওসমান। আমি ডাকাত হামিদের বদলি খাটছি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী মোহনা অসুস্থ। আমরা খুব গরিব। সংসারে দুই কন্যাসহ ৫ ছেলেমেয়ে রয়েছে। মূলত বড় মেয়েটিকে বিয়ে দেয়ার জন্যই আমি এ ধরনের প্রস্তাবে রাজি হয়েছি।’

ডাকাত হামিদের বড় ভাই সাহাব উদ্দিন, আমার বড় ভাই আবদুল মালেক ও ডুমখালীর আমিন ফিশারিজের মালিক মন্জুর আলমসহ আরও কয়েকজনের চাপে এ ভুল পথে পা দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, ‘আমি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার আগে ওরা ২০ হাজার টাকা দিয়েছিল। কথা ছিল আমার দুই মেয়ের বিয়ের সব খরচ দেবে, ছেলের কর্মসংস্থান করে দেবে, পরিবারের ভরণপোষণ করবে। কিন্তু আমি কারাগারে যাওয়ার পর তারা কোনো কথাই রাখেনি।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button