রাজনীতি

সংলাপ নিয়ে শঙ্কা বিএনপিতে

ঢাকা, ১৮ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপ লোক দেখানো বা আইওয়াশ কি-না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বিএনপিতে। দলের নেতারা বলছেন, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে তত্কালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে বিএনপি বৈঠক করে নিরপেক্ষ ও আস্থাশীল নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপতি স্ব-উদ্যোগে সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন। ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয়। কাজী রকিব উদ্দিন আহমদকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে যে ইসি গঠন করা হয় সেখানে বিএনপির প্রস্তাব পাত্তা পায়নি। এবারো একই অবস্থা হতে পারে এমনটা প্রত্যাশা করছে না বিএনপি। তবে নীতিনির্ধারক নেতারা আশঙ্কা করছেন, সরকারের পরামর্শের বাইরে রাষ্ট্রপতি হয়তো কিছুই করবেন না। তারপরও ১৩ দফা প্রস্তাব নিয়ে আজ দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ করতে বঙ্গভবন যাচ্ছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী একজন সদস্য ইত্তেফাককে বলেন, সংবিধানের ১১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন করার কথা থাকলেও গত ৪৪ বছরেও তা করা হয়নি। ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রণীত বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যদিও বর্তমান সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি কিছুই করেন না বলে মনে করা হয়। তবে রাষ্ট্রপতি আন্তরিক হলে দেশে বিবদমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন করতে নিরপেক্ষ ইসি গঠন করতে পারেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের আন্তরিকতার প্রথম পরীক্ষা হবে আসন্ন নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্যদিয়ে। তারা কি একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চান? না ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচন চান- তা সুস্পষ্ট হবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ তথা সার্চ কমিটির কাঠামোর ওপর আগামী রাজনীতির অনেক কিছু নির্ভর করছে। সরকার আন্তরিক হলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করবে। আমরা প্রত্যাশা নিয়ে যাচ্ছি রাষ্ট্রপতির কাছে। তিনি গোটা জাতির অভিভাবক। দেশের মানুষ তার দিকেই তাকিয়ে আছেন। আমরা আশা করবো- এটা যেন আইওয়াশ না হয়। আমরা চাই সেই ধরনের নির্বাচন কমিশন, যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি সকল দলের আস্থা থাকবে। যদি রাষ্ট্রপতি বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে শুধু শাসক দলের অনুগতদের খোঁজেন তাহলে কোনো আস্থা থাকবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি আন্তরিক হলে সবকিছুই সম্ভব। সার্চ কমিটি গঠনের পর বোঝা যাবে সরকার প্রকৃতপক্ষে কী চায়। তিনি বলেন, ইসি পুনর্গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক; কিন্তু যদি দেখা যায় আমাদের সঙ্গে সংলাপ হলো, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হলে; কিন্তু রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি করলেন সরকারের ইচ্ছা বা ইঙ্গিতে; তখন এই সংলাপ কোনো কাজে আসবে না।
উল্লেখ্য, তত্কালীন রাষ্ট্রপতি ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে ডাকেন; কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনড় বিএনপি তখন সার্চ কমিটির জন্য কোনো সুপারিশ বা প্রস্তাব দেয়নি। এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। তত্ত্বাবধায়কের দাবি থেকে তারা সরে এসেছেন। তারা চাচ্ছেন- শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনকালীন গ্রহণযোগ্য সরকার। বিএনপি তুলনামূলক বিতর্কের বাইরে থাকা নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে সার্চ কমিটি করতে রাষ্ট্রপতিকে প্রস্তাব দিবে। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানাতে পারেন তিনি। রাষ্ট্রপতি যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা কমিশনার পদে কোনো নাম চান, বিএনপি তাতে সাড়া দেবে এবং তাত্ক্ষণিক প্রস্তাবিত নাম রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেবে।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button