রাজনীতি

‘তৃতীয় পক্ষ’ নিয়ে আইভীর শঙ্কায় বিএনপির নানা দুশ্চিন্তা

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

আর দু’দিন পরেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নির্বাচন। ভোটের আগে নারায়ণগঞ্জে এখন সবচেয়ে আলোচিত শব্দ ‘তৃতীয় পক্ষ’। এই শব্দদ্বয় সামনে এনেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভী। বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদের মতবিনিময় সভায় আইভী শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ খুব ভালো, তবে তৃতীয় পক্ষ গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে।’ বিএনপিও বলছে নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত ভালো, তবে আইভীর তৃতীয় পক্ষের শঙ্কা নিয়ে এখন নানা কথা বলছেন বিএনপি নেতারা।

শনিবার নারায়ণগঞ্জ শহরে বিএনপির কার্যালয়ে নাসিক নির্বাচনে দলের প্রচারকাজের প্রধান সমন্বয়কারী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও ইত্তেফাকের সঙ্গে একান্ত আলাপে আইভীর ওই ‘তৃতীয় পক্ষ’র বিষয়টি তোলেন। গয়েশ্বর বলেন, ‘এই তৃতীয় পক্ষটা কে? আইভী কাকে বা কাদেরকে ইঙ্গিত করেছেন? তিনি কি তার দলের কোনো পক্ষকে বুঝিয়েছেন, যারা এখানে দলের ভেতরে তার প্রতিপক্ষ? নাকি অন্যকিছু বুঝিয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়। আমার ব্যাখ্যা তিনরকম। প্রথমত, আইভী আসলে সুশীলদের নিয়ে চলেন, তার নিজস্ব কিছু কর্মী-সমর্থক-শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন, তিনি ওই অর্থে মনেপ্রাণে আওয়ামী লীগার নয়, ২০১১ সালের নির্বাচনে তারাই তাকে জিতিয়েছিলেন, কিন্তু আইভী এবার নৌকার প্রার্থী হওয়ায় তার সেই তৃতীয় পক্ষ বিরাগভাজন হয়ে গোলযোগ বাঁধাতে পারেন। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের শেষদিকে এসে আইভী হয়তো বুঝেছেন-তার জয়ের সম্ভাবনা কম, এজন্য নার্ভাসনেস থেকেও তিনি তৃতীয় পক্ষের কথা সামনে আনতে পারেন। আর তৃতীয়ত, এমনও হতে পারে যে-২০০৭ সালে যারা ওয়ান-ইলেভেন ঘটিয়েছিল তারা এই নাসিক নির্বাচনে একটা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।’
এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলীর সঙ্গে মতবিনিময়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছিলেন, ‘সুষ্ঠু ভোট নিয়ে আমি শঙ্কিত। কারণ বারবার দাবি করার পরেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি।’ সাখাওয়াতের এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ  টেনে ওই মতবিনিময়ে আইভী বলেছিলেন, ‘সাখাওয়াত ভাইয়ের চেয়ে আমি বেশি রিস্কে। কেন এই রিস্ক সেটা সবাই জানেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে কারা আসছেন আমরা তাদের চিনতে পারছি না। বাইর থেকে কোনো সন্ত্রাসী এসে ঢুকছে কিনা সেটা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা দরকার।’
এই শঙ্কা সম্পর্কে জানতে চাইলে আইভী ইত্তেফাককে বলেন, ‘সন্ত্রাসী যদি আমার ভাই বা আত্মীয়-স্বজনও হয় তাকে ধরা হোক। কারণ আমি নিজেও এটা নিয়ে শঙ্কিত। আমরা প্রার্থীরা সহাবস্থানে থেকে কাজ করছি, কোথাও কোনো খারাপ কিছু ঘটছে না। আমার পাশ দিয়ে বিএনপির মিছিল যাচ্ছে, কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে কারা আসা-যাওয়া করছে এটা নিয়ে আমার দুশ্চিন্তা আছে, সেটা আমি প্রশাসনকেও বলেছি।’
গতকাল রবিবারও প্রার্থীদের প্রচারণায় ঘুরে ফিরে সেই ‘তৃতীয় পক্ষ’ প্রসঙ্গটি ওঠে আসে। বন্দর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরাপাড়া, নবীগঞ্জ, কাইতাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত বলেন, ‘আপনারা ওনাকে (আইভীকে) জিজ্ঞাস করেন-তৃতীয় পক্ষটা কে? আমরা এখানে তৃতীয় পক্ষ দেখি না। আমরা দেখি দুইটা পক্ষ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা ইতিপূর্বে বলেছি, আমরা বিরোধী দল, কোনো খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করব না, আমি শান্তিপ্রিয় লোক, সবসময় শান্তিপূর্ণভাবে-নিরপেক্ষ ভোট হোক, সেটা চাচ্ছি। তৃতীয় পক্ষ ওনার লোকই। আমরা আচরণবিধি ভঙ্গের যে অভিযোগগুলো আনছি সেগুলো অস্বীকার করার জন্য এবং পরিস্থিতি অন্যদিকে প্রবাহিত করতে কাল্পনিকভাবে উনি তৃতীয়পক্ষ তৈরি করছেন।’
বৈধ অস্ত্র নিষিদ্ধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি: নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী আজ সোমবার থেকে আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নাসিক এলাকায় সকল প্রকার বৈধ অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীসহ সব প্রার্থীই ভোটের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানালেও স্থানীয় প্রশাসন তা আমলে নেয়নি। যদিও নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী নারায়ণগঞ্জে গিয়ে বলে এসেছেন, অবৈধ অস্ত্র থাকবে না। কিন্তু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মেয়র প্রার্থীরা।
কাল মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে প্রচারণা:আগামীকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোট উপলক্ষে গত ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়। নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন, যদিও এরমধ্যে এলডিপির প্রার্থী কামাল প্রধান শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন। আর সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৫৬ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আইভীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ : আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আইভী ভোটের প্রচারে এক ঠিকাদারের গাড়ি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত। বিষয়টি স্বীকার করে আইভী বলেছেন, নিজের গাড়ি না থাকায় তিনি শুধু ওই ঠিকাদারের গাড়ি নয়, আত্মীয়-স্বজনের গাড়িও ব্যবহার করছেন। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিএনপি প্রার্থীর এ ধরনের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ’ বলে আখ্যায়িত করেন আইভী।
গতকাল নির্বাচনী গণসংযোগকালে সাখাওয়াত সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনি (আইভী) যে পাজেরো গাড়িটি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন, গাড়িটি হচ্ছে সিটি করপোরেশনের একজন ঠিকাদারের। সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারি কাজকর্মের ৭০ হতে ৮০ শতাংশ সেই ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে। আজকে তার গাড়িতে করে প্রচার চালাচ্ছেন,  ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন, এতেই বোঝা যায়, জনগণ যে দাবি করেছিল, ৭০-৮০ ভাগ ঠিকাদারি কাজ তাকে দিয়েছেন, সেটার মাধ্যমে বোঝা যায় সেই বিশেষ ঠিকাদার তাকে সুবিধা দিয়েছে এবং তার ঠিকাদারি ব্যবসার সাথে সাবেক মেয়রও জড়িত।’
গতকাল  সকালে নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর এলাকায় গণসংযোগকালে আইভী নির্বাচনী প্রচারে আবু সুফিয়ান নামের ঠিকাদারের গাড়ি ব্যবহার প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সুফিয়ান যুবলীগের কর্মী। ঠিকাদারি ওর পেশা। আমি শুধু সুফিয়ানের গাড়ি ব্যবহার করি না। আমার বোন-ভাই অনেকের গাড়ি ব্যবহার করি। আমার নিজের গাড়ি নেই, আমি কী করব?
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button