জেলার সংবাদ

তনু হত্যা রহস্যের কূলকিনারা হলো না ৯ মাসেও

ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

মাসের পর মাস পার হচ্ছে। নয় মাস পেরিয়ে গেছে; কিন্তু তনুর হত্যাকারীরা ধরা পড়ছে না। যতই দিন যাচ্ছে বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশা আমাদের ততই গ্রাস করছে। সেনানিবাসের মতো স্পর্শকাতর একটি এলাকা থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হলো। তাকে তো কেউ না কেউ মেরেছে, তবে কেন ঘাতকরা আজও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তবে কী সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর চাইতে ঘাতকরা বেশি শক্তিশালী? আমাদের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে। ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। জানি না বিচার পাব কি-না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে কথাগুলো বললেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন। এদিকে তদন্তের অগ্রগতি বা মামলা নিয়ে সাংবাদিকদের নিকট মুখ খুলছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আজ মঙ্গলবার তনু হত্যাকাণ্ডের নয় মাস পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ এ সময়ে দেশব্যাপী আলোচিত এ হত্যা রহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। ঘাতকদের শনাক্ত করা কিংবা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি সংস্থাটি। মামলার তদন্তসহায়ক দলের প্রধান সিআইডি-ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ এবং তদন্ত তদারক করছেন সিআইডি-কুমিল্লার পুলিশ সুপার ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন। পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পর গত ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি-কুমিল্লা। গত মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ৩ জনের শুক্রাণু (বীর্য) পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল এবং হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে তারা নিশ্চিত হয়েছিল। তবে কোথায়, কেন এবং কীভাবে তনুকে হত্যা করা হয়েছে তা নিয়ে নানা মহলে গুঞ্জন চলছে। দুই দফা ময়নাতদন্তেও তনুর ‘মৃত্যুর কারণ’ অস্পষ্ট থাকায় বেশকিছু দিন দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সিআইডির একটি সূত্র জানায়, ‘তনুর পোশাকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে মামলার তদারক ও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বেশ কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে আরো জিজ্ঞাসাবাদসহ ফরেনসিক ল্যাবে নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাদের রক্ত নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের ডিএনএ প্রোফাইল দেখা হয়েছে; কিন্তু এসব পরীক্ষায় কোনো ফল আসেনি।’
দীর্ঘ ৯ মাসেও তনু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে না পারা, সামরিক-বেসামরিক অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা, দুই দফা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করতে না পারা, এমনকি ডিএনএ পরীক্ষায় ৩ ধর্ষণকারীর শুক্রানু পেলেও এ পর্যন্ত ধর্ষক/ঘাতকদের ডিএনএ ম্যাচ করে ঘাতকদের শনাক্ত করতে না পারায় এ মামলার ভবিষ্যত্ কিংবা বিচার পাওয়া নিয়ে তনুর পরিবার ও বিভিন্ন মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে। মেয়ের শোকে দিনে দিনে অসুস্থ হয়ে পড়া তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘তাকে (তনু) তো কেউ না কেউ মেরেছে, তবে কেন ঘাতকদের আজও ধরা যাচ্ছে না। তনুর হত্যাকারীরা কী এতোটাই শক্তিশালী যে তাদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে মাসের পর মাস হিমশিম খেতে হবে।’ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি-কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘মামলার তদন্ত নিজস্ব গতিতে চলছে, তাই তদন্তাধীন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিতরে জঙ্গল থেকে সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button