বিনোদন

টানা ২৫ দিন তবলা বাজিয়ে বিশ্বরেকর্ড করলেন লন্ডন প্রবাসী সুদর্শন

ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

হাতে চালিত বাদ্যযন্ত্র বিভাগে টানা ৫৬০ ঘণ্টা তবলা বাজিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশি তবলা বিশারদ সুদর্শন দাস। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কুজলমান্নাম রামকৃষ্ণানের গড়া ৫০১ ঘণ্টার রেকর্ড ভেঙে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বই-এ নিজের নাম লেখালেন তিনি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার অমূল্য রঞ্জন দাশ ও বুলবুল রাণী দাসের সন্তান সুদর্শন দাস ৪ বছর বয়সে চট্টগ্রামের আলাউদ্দিন ললিতকলা একাডেমিতে তবলায় হাতেখড়ি নেন। ১৯৯১ সালে আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জেতেন সুদর্শন।   ১৯৯২ সালে ভারতের শান্তিনিকেতনে পণ্ডিত বিজন চ্যাটার্জির কাছে তবলা বিষয়ে তালিম নেন তিনি। ১৯৯৮ সালে ভারতের বোলপুরের শান্তি নিকেতন থেকে সুদর্শন দাসকে তবলা বিশারদ উপাধি দেওয়া হয়।
পরে ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যে আইন পেশায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিলেও সুদর্শনের মন পড়ে ছিলো তবলায়। লন্ডনে প্রতিষ্ঠা করেন ‘তবলা ও ঢোল’ একাডেমি। বর্তমানে লন্ডনের নিউহ্যাম কাউন্সিলে আর্ট ও মিউজিক ইন্সট্রাকটর হিসেবে কাজ করছেন সুদর্শন। এছাড়া, ২০০৮ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুতে আন্তর্জাতিক তবলা প্রতিযোগিতায় রৌপ পদক জেতেন তিনি।
পুরো প্রক্রিয়াটির সমন্বয়কারী আবদুল হান্নান বলেন, ‘টানা ২৫ দিন তবলা বাজাতে গিয়ে সুদর্শন দাসকে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সিসি টিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষ। ক্যামেরায় ধারণ করা ৫৬০ ঘণ্টার ভিডিও রেকর্ড জমা দিতে হবে গিনেস কর্তৃপক্ষকে। এছাড়াও প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিট ও ২৪ ঘণ্টায় মোট ২ ঘণ্টা বিরতি নিতে পেরেছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যেই খাওয়া-দাওয়া, টয়লেট এমনকি ঘুমের কাজটিও শেষ করতে হয়েছে। ’
সুদর্শন জানান, এই অসাধ্য সাধনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো বসে বসে তবলা বাজনো। মৃদঙ্গের ক্ষেত্রে সুবিধা হলো বাদ্য যন্ত্রটি গলায় বেঁধে, হেঁটে বসে বা শুয়েও বাজানো যায়। যে সুযোগটি পেয়েছেন কুজলমান্নাম রামকৃষ্ণান, কিন্তু তাকে একটানা বসে থেকেই তবলা বাজাতে হয়েছে। তাছাড়াও তবলা বাজিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চান এমন কথা শুনে তেমন উৎসাহব্যঞ্জক পৃষ্ঠপোষকও খুঁজে পাননি শুরুর দিকে। তবে তিনি মনে করেন এই বিশ্ব রেকর্ড গড়ে গিনেস বুকে বাংলাদেশের নামটি যুক্ত করতে পারাটাই ছিলো তার কাছে সবচেয়ে বেশি আনন্দের।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button