জাতীয়

জয়ের ফ্যাক্টর বিএনপি-জামায়াতের ভোট

ঢাকা, ২৭ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

জেলা পরিষদে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করেনি। মূলত লড়াই হবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে। তবে জয়ের জন্য বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ভোটাররাই অন্যতম প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। দলীয় ভোটের বাইরে এসব ভোটারকে ম্যানেজ করতে নানা কৌশল নিয়েছেন প্রার্থীরা। কোথাও কোথাও ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখানো, টাকাসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এ নির্বাচনে সাধারণ জনগণ নয়, শুধু স্থানীয় সরকারভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিরাই ভোট দেবেন। তবে সব নাগরিকের ভোটাধিকার না থাকায় দেশব্যাপী জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কম। পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে স্থানীয় এমপিদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের স্বার্থে এমপিদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যালটে কোনো চিহ্ন দেয়া হলে তা বাতিল করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করে আনা হয়েছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্ যুগান্তরকে বলেন, ‘সুন্দরভাবে নির্বাচন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নির্বাচনী সামগ্রীও পৌঁছে গেছে। প্রথমবারের মতো এ নির্বাচনটিও আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জিং।’ তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের অন্য নির্বাচন থেকে কিছুটা আলাদা প্যাটার্নে হচ্ছে জেলা পরিষদের ভোট। দেশজুড়ে নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা কম হলেও প্রয়োজনীয় ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১ জন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তবে ভোট ও যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে অন্য নির্বাচন থেকে কিছুটা শর্ত শিথিল রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় একবারই সরাসরি নির্বাচন হয়েছিল। আর কোনো জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়নি। ১৯৮৮ সালে তৎকালীন সরকার প্রণীত স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সরকারের নিয়োগ দেয়ার বিধান ছিল। পরে আইনটি অকার্যকর হয়ে যায়। ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের জন্য নতুন আইন করে। এরপর ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর সরকার ৬১ জেলায় আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়। অনির্বাচিত এই প্রশাসকদের মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। এবার পার্বত্য তিন জেলা বাদে বাকি ৬১টিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় একজন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ১৫ জন সাধারণ ও পাঁচজন সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে ভোট হবে।

স্থানীয় সরকারভুক্ত সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে দলীয়ভাবে ভোট হলেও জেলা পরিষদে তা হচ্ছে না। গত নভেম্বরে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকারের সব স্তরে ভোটের জন্য বিল উত্থাপন করা হলেও পরে জেলা পরিষদের বিলটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

জয়ের ফ্যাক্টর বিএনপি-জামায়াতের ভোট : স্থানীয় সরকারভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতাই রয়েছেন। তারাও এ নির্বাচনের ভোটার। নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত কোনো প্রার্থী না দেয়ায় এসব ভোটারই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জয়ের জন্য ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। জানা গেছে, খুলনার ৬৮টি ইউনিয়ন, সিটি কর্পোরেশন ও দুটি পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ৯৭০। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ও মেম্বার মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৩শ’ ভোটই বিএনপি জামায়াতের। এ জেলায় শেখ হারুন সরাসরি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ায় এ বিপুলসংখ্যক ভোট পাবেন কিনা তা নিয়ে চিন্তিত দলটির নেতাকর্মীরা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন শেখ হারুন ও তার সমর্থকরা। অপরদিকে আরেক প্রার্থী অজয় সরকারও ভোট পেতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাতক্ষীরায় ২টি পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলো মিলিয়ে মোট ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ৫১ জন। এর মধ্যে ১৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরাসরি বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

এছাড়া দুই পৌরসভার মেয়রসহ পৌর কাউন্সিলরের ৮০ ভাগ ভোটারই বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদ দল সমর্থিত প্রার্থী। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। এ দু’জনই বিএনপি-জামায়াতের ভোট পেতে মরিয়া। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনসহ জেলার সব কটি পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধি রয়েছেন এক হাজার ১৭১ জন। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াতপন্থী জনপ্রতিনিধি রয়েছেন ৪৬৫ জন। অর্থাৎ মোট ভোটারের অর্ধেকই বিএনপি-জামায়াতপন্থী।

রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন মাহবুব জামান ভুলু। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী একই দলের নেতা মোহাম্মদ আলী সরকার। বিএনপি ও জামায়াতপন্থী ভোটারদের সমর্থন যিনি পাবেন তিনিই হবেন রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান- এমন হিসাব থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪৫টি ইউনিয়ন, চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত জেলা পরিষদে ভোটার সংখ্যা ৬৫৯ জন। ভোটারদের বড় অংশই বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের ভোট পেতে চেষ্টা করছেন পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীরা।

সিলেট বিভাগের চারটি জেলার মধ্যে হবিগঞ্জ ছাড়া তিনটি জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হচ্ছে। তিন জেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ভর করছে বিএনপি-জামায়াতের ভোটের ওপর। এ বিভাগের ভোটারদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াতের ভোট প্রায় সমান। এ কারণে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ অন্য কোনো রাজনৈতিক দল প্রার্থী না দেয়ায় এসব ভোটারের সিদ্ধান্তের ওপর জয়-পরাজয় নির্ভর করছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের।

সিলেট জেলা পরিষদে ভোটার ১ হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ ৩৭ জন ভোটারের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার আওয়ামী লীগবিরোধী। একই অবস্থা জেলার নির্বাচিত ১২টি উপজেলার ৩৬টি ভোটের মধ্যেও। তবে জেলার তিনটি পৌরসভার মেয়রসহ অধিকাংশ ভোটার আওয়ামী লীগের। চলতি বছর অনুষ্ঠিত জেলার ৮৮টি ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৪৫টি চেয়ারম্যান পদ দখল করতে সক্ষম হয়। বাকি ৪৩টিতে বিজয়ী হন বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। এসব ইউনিয়নের সদস্যরা অধিকাংশ আওয়ামী লীগবিরোধী বলয়ের। একই অবস্থা মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলায়। এ অবস্থায় দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ছুটছেন এখন বিএনপি-জামায়াতের ভোটারদের কাছে।

আরও জানা গেছে, বরিশাল জেলা পরিষদে মোট ভোটার ৮৯৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৮৯৬, বিএনপির ৩০০, ওয়ার্কার্স পার্র্টির ২৫, জামায়াতের ১৫ ও জাতীয় পার্টির ১০ জন। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের ভোট টানতে নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাইদুল ইসলাম ও বিদ্রোহী প্রার্থী খান আলতাফ হোসেন ভুলু।

বরগুনা জেলায় ৬১৫ জন ভোটারের মধ্যে ২০০ জনই বিএনপিপন্থী ও ৬ জন স্বতন্ত্র। নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন ও আরেক সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির নেতা জাফরুল হাসান ফরহাদের জয়ের অন্যতম ফ্যাক্টর হচ্ছেন বিএনপিপন্থী ভোটাররা। ঝালকাঠিতে ৪৫৪ জন ভোটারের মধ্যে বিএনপিপন্থী ১৩০ জন, জাতীয় পার্টির ২৫ জন ও জামায়াতের ৫ জন। এসব ভোটারকে নির্বাচনে জয়ের অন্যতম নিয়ামক হিসেবে দেখছেন প্রার্থীরা। পটুয়াখালী জেলায় ১০২৯ জন ভোটারের মধ্যে বিএনপির ৩১০, জাতীয় পার্টির ৭০ ও জামায়াতপন্থী ২০ জন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত খান মোশাররফ ও বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর শিকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পিরোজপুরে ৭৩৪ জন ভোটারের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩৮৬, বিএনপির ২১২ ও জামায়াতপন্থী ১৬ জন। এ জেলায়ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

২২ জেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী : জানা গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৯৩৮ জন। তবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২৭১ জন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার, মনোনয়নপত্রে ত্র“টি এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় কমেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা। এ নির্বাচনে ২২ জন চেয়ারম্যান, ১৩৯ জন সাধারণ সদস্য ও ৫৩ জন সংরক্ষিত সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফেনী ও ভোলায় সব পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ায় এ দুটি জেলায় ভোটের প্রয়োজন হবে না। আগামীকাল বুধবার ৩৯ জেলায় চেয়ারম্যান ও ৫৯ জেলায় সদস্যপদে ভোট হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে ১২৪ জন, সাধারণ সদস্যপদে ২ হাজার ৯৮৬ জন ও সংরক্ষিত সদস্যপদে ৮০৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে মূলত মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। অন্তত ২২টি জেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব জেলায় ভোট গ্রহণে সহিংসতার আশংকা করা হচ্ছে।

৬১ জেলায় মোট ভোটার ৬৩ হাজার ১৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪৮ হাজার ৩৪৩ ও মহিলা ভোটার ১৪ হাজার ৮০০ জন। ভোট কেন্দ্র ৯১৫টি ও ভোট কক্ষ ১ হাজার ৮৩০টি। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

তিন স্তরের নিরাপত্তায় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য প্রায় ২৩ হাজার : ইসি সূত্রে জানা গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের পাহারায় থাকবে ২০ জন পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ব্যাটালিয়ন আনসার ও আনসার ভিডিপির সদস্য। কেন্দ্রের বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে বিজিবি ও র‌্যাব। প্রতিটি উপজেলায় বিজিবির ২টি মোবাইল টিম ও ১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। পেট্রোলিং ও স্ট্রাইকিংয়ের দায়িত্বে থাকবে র‌্যাব। এ হিসাবে প্রতিটি উপজেলায় র‌্যাবের ২টি মোবাইল টিম ও ১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স (প্রতি টিমে ১০ জন করে সদস্য) থাকবে। এ ছাড়া ৯১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯১ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।

প্রচার শেষ, যানবাহনে বিধিনিষেধ : নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী সোমবার মধ্যরাতে প্রচার শেষ হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধির ৭৪(১) বিধি অনুযায়ী ভোটের ৩২ ঘণ্টা আগ থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা এতে বিজয়ী কিংবা পরাজিত প্রার্থী কেউ অংশ নিতে পারবেন না। এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে মোটরসাইকেলের ওপর। আজ মঙ্গলবার মধ্যরাতে ৯ ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এগুলো হল : বেবি ট্যাক্সি/অটোরিকশা, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিক-আপ, কার, বাস, ট্রাক ও টেম্পো।

এমপিদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ : জেলা পরিষদ নির্বাচনে ‘কিছু’ স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লংঘন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এমপিদের ‘শিগগির’ নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানান তিনি। সোমবার ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ নির্দেশ দেন এ কমিশনার। মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘কিছু প্রার্থী ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্য নানাভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন- এমন অভিযোগ লিখিত ও মৌখিকভাবে আমরা পেয়েছি। কেউ বলেছেন, ক্যামেরায় ছবি তুলে আনতে, কেউ বলেছেন ব্যালট পেপারের পেছনে বিশেষ চিহ্ন দিতে। এ ধরনের কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’ তিনি বলেন, ‘ভোটের আর দু’দিন রয়েছে। সংসদ সদস্যদের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা এলাকা থেকে চলে আসেন। আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে কেউ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সে যেই হোন না কেন অনিয়ম করলে ছাড় দেয়া হবে না।’

এ কমিশনার বলেন, কোনো ভোটার বা জনপ্রতিনিধি ভোট কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ভোটারকে তল্লাশি করে তা নিশ্চিত করবেন। ব্যালট পেপারের কোথাও পরিচিতিমূলক চিহ্ন ব্যবহার করলে তা বাতিল করা হবে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button