রাজনীতি

৫ জানুয়ারির কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি: রিজভী

ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর , (ডেইলি টাইমস ২৪):

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দেশে বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশে কর্মসূচি পালনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ভোটারবিহীন সরকারের গণতন্ত্রের প্রতি যদি ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ থাকে তাহলে আশা করি তারা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে কোনো টালবাহানা করবেন না।
শনিবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব বলেন।
সবাইকে আগাম নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে রুহুল কিবর রিজভী বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ছিল ভোটারবিহীন বিতর্কিত একতরফা নির্বাচন। ক্ষমতায় টিকে থাকতেই সংবিধান সংশোধন করে দলীয় সরকারের অধীনে একটি একতরফা নির্বাচন করেছে আওয়ামী লীগ। যা ছিল একটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নির্লজ্জ তামাশা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য জ্বালাও পোড়াও করে দেশকে ধ্বংসস্তূপ বানাতে যারা ছাড়েনি তারাই সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ছেঁটে ফেলে দেয়। এটা যেন শাসক দলের জমিদারি মনোবৃত্তি।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দেশে-বিদেশে কেউই মেনে নেয়নি। ঐ নির্বাচন নিয়ে বিশ্ব দরবারে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আজও সে নির্বাচন বিশ্ববাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েই আছে। আওয়ামী লীগের নেতারাও সে সময় বলেছিল সে নির্বাচনটি ছিল নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। কিন্তু সে প্রহসনের নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী নেতারা সে কথা ভুলে গিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখলেন।
তিনি বলেন, কাজী রকিব উদ্দিনের নির্বাচন কমিশনও একটি তামাশার বাক্সে পরিণত হয়েছে। এ কমিশন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে কবর দিয়ে শুধুমাত্র প্রভুদের কলের পুতুল সেজে নির্লজ্জভাবে কাজ করে গেছে।
তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী মানুষের সকল অধিকার হরণ করে নিয়েছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের শুধু বন্দুক যুদ্ধের নামে বিচারবর্হিভূত হত্যার শিকারই করা হয়নি, তাদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে সীমাহীন মাত্রায়। নিষ্ঠুরতা নির্মমতা রক্ত, লাশ যেন আজকে বাংলাদেশের চেহারা। পৈশাচিক কায়দায় বিরোধী দলের সভা সমাবেশকে বাধা দেয়া হচ্ছে। বাক, ব্যক্তি, মুদ্রণ, ধর্মীয় ও চিন্তার স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে অমানবিক নিষ্ঠুর কায়দায়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, গণতন্ত্রের সারবত্তা হচ্ছে সভা-সমাবেশ। সভা-সমাবেশ করতে না দেয়াটা দুঃশাসনের নিয়ম। অবশ্য আওয়ামী লীগের মুখরচক গণতন্ত্রে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকারই কথা। কারণ তারা দেশে নিজেদের দল ছাড়া ভিন্ন দল বা ভিন্ন মত সহ্য করতে পারে না। তাই এরাই বার বার গণতন্ত্রের পথচলাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। মানুষের অধিকার হরণ করেছে বারংবার।
রিজভী আরো বলেন, রাত পোহালেই আগমন ঘটবে একটি নতুন বছরের। গণতন্ত্রহীণ দেশে নতুন বছরের আগমনে মানুষের প্রত্যাশা সরকারি প্রভাবমুক্ত নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button