জেলার সংবাদ

খুনিদের অর্থের কাছে অন্ধকারে তদন্ত প্রতিবেদন

ঢাকা, ৯ জানুয়ারি , (ডেইলি টাইমস ২৪):

কুমিল্লার হোমনায় মাদ্রাসাছাত্রী সুমাইয়া জাহান বিথি (১৪) হত্যা মামলার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের জন্য এখন শেষ ভরসা আদালত। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের অর্থের কাছে গত দুই বছরেও তদন্ত প্রতিবেদনের রহস্য উন্মোচন হয়নি।

ফলে সুশিল সমাজ ও এলাকাবাসীর মাঝে নানান জল্পনা-কল্পনার চাউর উঠে। আজ সোমবার উপজেলার জয়পুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রীর মা রহিমা আক্তার তারা দাবি করছেন, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আসামি পক্ষের নিকট সন্তুষ্ট হয়ে আদালতে পরিকল্পিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।নিহত বিথি উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের দড়িকান্দির প্রবাসী জহিরুল ইসলামের মেয়ে ও অনন্তপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, হোমনা উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের প্রবাসী জহিরুল ইসলাম বাদলের মেয়ে ও অনন্তপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া জাহান বিথিকে প্রেম সংক্রান্ত বিয়ে অনিহা থাকায় একই গ্রামের মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে বজলু মিয়াসহ তার পরিবারের লোকজন মিলে মেয়েটিকে বিষপানে হত্যা করে। আর এ ঘটনা রাতারাতি ধামাচাপা দিতে পুলিশের কতিপয় দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তার সাথে আতাত করে দড়িকান্দি গ্রামের আলমগীর হোসেন নামের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মিথ্যা তথ্য সাজিয়ে হোমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে। যেখানে সুস্থ একটি মেয়েকে পেটের পিড়ার রোগী উল্লেখ করা হয়। এরপর নিহতের মা রহিমা ইসলাম সন্তান শোকে পাগল প্রায় থাকার সুযোগে সুষ্ঠ বিচারের কথা বলে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয় হোমনা থানা পুলিশের এসআই সফিউদ্দিন ভূইয়া। এরপর দীর্ঘ ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও কোন বিচার না পাওয়ায় এবং উল্টো নিহতের পিতাকে দেশে আসলে হত্যা করা হবে বলে আসামি পক্ষ হুমকি দেয়। অবশেষে রহিমা ইসলাম বাদী হয়ে পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় গত ২০১৫ সালের ১০ আগষ্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগটি আমলে নিয়ে কুমিল্লার বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শুভ্রা চক্রকর্তী বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দেন। পরে হোমনা থানা পুলিশ আসামিদের নিকট সন্তুষ্ট হয়ে সঠিক তদন্ত ছাড়াই ওই সাদা কাগজে নেওয়া মামলার বাদী রহিমা ইসলামের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মনগড়া কিছু তথ্য উপস্থাপন করে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন প্রদান করে। এরপর মামলাটি পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) কুমিল্লাকে অধিকতর তদন্ত করার জন্য আদালত নির্দেশ প্রদান করেন।

এরপর পিবিআই এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ একাধিকবার ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসী ও স্বাক্ষীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন তদন্তের পর বিজ্ঞ আদালতে পূর্বের রিপোর্টের সাথে আরো কিছু মনগড়া তথ্য উল্লেখ্য করে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদীর সাথে আসামি পরিবারের পূর্ব মনোমালিন্য, মামলা মোকদ্দমা ও বিরোধের জেরেই মামলাটি রুজু হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও কাল্পনিক। আসলে বাদীর সাথে আসামিগণের পূর্বে কোন মামলা বা মনোমানিলন্য ছিল না বলে এলাকাবাসী জানায়। এ ছাড়াও লাশটি উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করলেই এ ঘটনার সত্যতা বেড়িয়ে আসবে বলে লাশটি কবর থেকে উত্তোলনের ব্যবস্থাও করা হয়নি বলে বাদী রহিমা ইসলাম জানায়। উক্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, আমলী আদালত নং-৪ এর বিজ্ঞ সিনিয়র ম্যাজিষ্ট্রেট বিপ্লব দেবনাথ এর আদালতে বাদী রহিমা ইসলাম হাজির হয়ে নারাজি প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করে আগামী ১১ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাড. আক্তার হামিদ সোহেল সিনিয়র এ্যাড. আতিকুল ইসলামের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার বাদী রহিমা ইসলাম জানান, আমি অসহায় মানুষ। আমি কোথাও ন্যায় বিচার পাইনি। আশা করছি বিজ্ঞ আদালত নারাজি আমলে নিয়ে আমার নিষ্পাপ মেয়ে হত্যার বিষয়টি লাশ উত্তোলনের মাধ্যমে সুষ্ট বিচারের ব্যবস্থা করে দিবেন এবং অপমৃত্যুর মামলা দায়েরকারী আলমগীর মেম্বারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, প্রেম গঠিত ঘটনায় অনিহা করায় গত বছরের ১৮ মার্চ সুমাইয়া জাহান বিথিকে বিষাক্ত কেড়ির ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। এরপরে হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন সকালে স্থানীয় মেম্বার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আসামিদের মিলে থানায় একটি মিথ্যা অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

 

 

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button