আন্তর্জাতিক

ইসরাইলের স্বীকৃতি প্রত্যাহারের চিন্তা ফিলিস্তিনের

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি , (ডেইলি টাইমস ২৪):

সিনিয়র ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ হুশিয়ারি জানিয়েছে, মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়া হলে ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে দেয়া স্বীকৃতি তারা প্রত্যাহার করে নিতে পারে।

হবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে দূতাবাস স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। গত মাসে কট্টরপন্থী আইনজীবী ডেভিড ফ্রাইডম্যানকে ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মনোনীত করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের মুখপাত্র কেলিঅ্যান কনওয়েও এক মার্কিন রেডিওকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘দূতাবাস সরানোটা ট্রাম্প প্রশাসনে বিশেষ প্রাধান্য পাবে।’

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ শাতায়েহ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এক চপেটাঘাত, আর এর মানে হচ্ছে দুই রাষ্ট্র সমাধান প্রক্রিয়ার সমাপ্তি।’

শাতায়েহ বলেন, ‘আমার ধারণা ফিলিস্তিনি মুসলিম ও খ্রিস্টানদের জন্য জেরুজালেমের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জেরুজালেমে দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার মতো কোনো ঘটনা কঠিন প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে। যে ব্যাপারটা আমরা আন্তরিকভাবে বিবেচনা করছি সেটা হল পিএলও ও ইসরাইলের মধ্যে পারস্পরিক স্বীকৃতি।’

ফিলিস্তিনি নেতারা তাদের প্রতিবাদ জানাতে এই শুক্রবার বিশ্বব্যাপী সব মসজিদে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে রোববার সব গির্জায় ঘণ্টা বাজানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এতদিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ তাদের দূতাবাস তেল আবিবেই রেখেছে। শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার জন্যই তা করা হয়। তবে এবার ট্রাম্প প্রশাসনে দূতাবাস সরানোর ঘোষণা দেয়ার পর পুরো শান্তি প্রক্রিয়াই ভেস্তে যেতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শাতায়েহ জানিয়েছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর দেয়া ভাষণেই ট্রাম্প দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দিতে পারেন বলে এক কূটনৈতিক সূত্রে তিনি জেনেছেন। এর বিপরীতে পাল্টা জবাব দেয়ার কথা ভাবছে ফিলিস্তিনি গ্রুপগুলোর জোট প্যালেস্টাইন লিবারেশন অরগানাইজেশন (পিএলও)।

তিনি বলেন, ‘পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে দেয়া স্বীকৃতি ফিরিয়ে নিতে পারে পিএলও। পারস্পরিক স্বীকৃতির অংশ হিসেবেই পিএলও ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ১৯৯৫ সালে অসলো চুক্তি অনুযায়ী পিএলও ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৯০ এর দশকের শুরু থেকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। শান্তি আলোচনায় জেরুজালেমের এক বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এ শহরটি ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মেরই তীর্থস্থান। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে।

১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভক্ত রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরাইল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে শতাধিক বসতি স্থাপন করেছে ইসরাইল। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button