জাতীয়

রাজধানীতে পাড়ায় পাড়ায় ছোটদের গ্যাং : কিশোর খুনের ঘটনা বাড়ছে

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি , (ডেইলি টাইমস ২৪):

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজকুনি পাড়ায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে  প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আবদুল আজিজ (১৬)নাম এক কিশোর খুন হয়েছে। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।   শুধুই কি সামান্য খেলাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা?

জানা গেছে, আজিজের বন্ধু মাফিজুর তাদের প্রতিপক্ষের একটি ছেলেকে চাকু দিয়ে ভয় দেখান। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে সাইমুন, জুয়েল ও মনিরসহ ৪ থেকে ৫ জন কিশোর তেজকুনিপাড়া এলাকায় গেলে আজিজ হাতে থাকা চাকু দিয়ে সাইমুনকে আঘাত করতে যায়। সাইমুন সেই আঘাত প্রতিহত করে আজিজের মাথায় পাল্টা আঘাত করে। পুলিশের হাতে আটক হওয়া সাইমন জানিয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আজিজ তাকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করে। সে পাল্টা আঘাত করলে আজিজের মৃত্যু হয়। পরে আজিজকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, আজিজ আগেই মারা গেছে। তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

গত ৮ জুন উত্তরায় বন্ধুদের মারধরে আদনান কবীর নামের এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। সে উত্তরার ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। বাসা উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে।   আদনান হত্যার পেছনে জানা গেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।   কিশোররা এলাকাভিত্তিক ‘গ্যাং’ বানিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে।   রাজধানীর উত্তরায় কিশোরদের এরকইম দুটো গ্রুপের নাম ‘নাইন স্টার’ আর ‘ডিস্কো বয়েজ। ‘

এইসব গ্রুপের লিড দেয় এলাকার ‘বড়ভাইয়েরা। ‘  এদের কাজ নিজ এলাকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আধিপত্য ধরে রাখা। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রকাশ্যে ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে হুমকি দেয়া হয়।   এই দুই গ্রুপের বিরোধে আদনান কবীর নামক ওই ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।   সে সময় আদনান গ্রুপের ছেলেরা ছিল না তাকে একা পেয়েই মারধর করা হয়েছে।

তেজকুনি পাড়ার ঘটনার সাথে উত্তরার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।   সময়ের সাথে পরিবর্তন হচ্ছে গ্রুপিং-এর। জানা গেছে, আজিজ হত্যার পেছনেই রয়েছে এই গ্রুপিং।   স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খেলাঘর-এর মাঠকে কেন্দ্র করে এলাকার ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী একদল  কিশোরের মধ্যে কে কার বড়, এ নিয়ে মাঝে মাঝে ছোটখাট ঝগড়া হতো । তবে এদের মধ্যে যারা একটু সিনিয়র, তারা ঝগড়া মিটিয়ে দেয়।

জানা যায়, সম্প্রতি কিশোর আজিজ ও একই গ্রুপের সায়মনের মধ্যে কে কার বড়, এ নিয়ে ঝামেলা হয়। তারা কেউ কাউকে মানতে চায় না।   মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) রাতেও এনিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় সিনিয়রদের হস্তক্ষেপে তা মিটমাটও হয়ে যায়।

তবে আজিজকে মারার জন্য আগে থেকেই সুযোগ খুঁজতে ছিল সায়মন। বুধবার দুপুরে রেললাইন কলোনির বাসা থেকে বের হলে খেলার মাঠের পাশে সায়মনের সঙ্গে দেখা হয় আজিজের। শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এসময় একজন ব্যাট দিয়ে আঘাত করে আজিজকে। সে পালানোর জন্য দৌড় দেওয়ার চেষ্টা করে। তখনই সাময়ন চাকু দিয়ে আজিজের মাথায় আঘাত করে।

আজিজের বাবা গেছে গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরে। মা ছিল কাজে। আমি দুপুরে তারে (আজিজ) ভাত খাওয়াইছি। খাওয়ার পর সে বাইরে যায়। এর দুমিনিট পরই  হুনি (শুনি) আমার নাতিরে মাইরালাইছে।   সাদী নামে নবম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থী জানান, দুপুরে বি কে আলতাফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে কাউকে মারা হবে, এ ধরনের পরিকল্পনা হচ্ছিল। তারাই হয়তো আজিজকে মেরেছে। তবে পরিকল্পনার ব্যাপারে কোনও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম ছোট ভাই-বড় ভাই’ গ্রুপিংয়ের কথা স্বীকার করে বলেন, এই সমস্যাটা তাদের মধ্যে ছিল।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button