জাতীয়

বরঞ্চ চাকরিটা না পেলেই অন্যায্য হতো’

ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি , (ডেইলি টাইমস ২৪):

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে যার রিকশাভ্যানে চড়ে গ্রাম ঘুরেছিলেন, সেই কিশোর ভ্যানচালক ইমাম শেখ চাকরি পাচ্ছে বিমানবাহিনীতে। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

অনেকেই কিশোর ভ্যান চালকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছেন। এবার আরেকপক্ষ সেসব প্রশ্নের কড়া জবাব দিচ্ছেন। ইমাম শেখের চাকরিপ্রাপ্তিতে গতকাল সারাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া ছিল ‘ভ্যান’ময়।রাশিদ ইকবাল নামে একজন একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী নিজের ফেসবুকে লিখেছেন,  ‘বিমানবাহিনীতে শুধু পাইলট আর সৈনিকই থাকেনা; মালি, ধোপা, কুক, বেয়ারা, কেয়ারটেকাররাও থাকে। যোগ্যতা অনুসারে এর যেকোনও চাকরি তাকে দেয়াই যায়, এতে দোষের কিছু নেই। প্রতিবন্ধী বাবার ছেলে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে এতটুকু না পেলেই বরং অনায্য হতো! তখন এই আপনারাই বলতেন প্রধানমন্ত্রী ভ্যানে চড়েও ছেলেটার জন্য কিছু করলেন না! এটা নিয়ে এত মাখামাখির কিছু নেই।   আসলে জাতি হিসেবে আমরা অনেক হিংসুটে এবং হুজুগে! কারো ভালো হলে আমাদের সহ্য হয় না, কেউ কারো ভালো করলেও আমাদের সহ্য হয় না। ‘

প্রধানমন্ত্রীকে নিজের রিকশা ভ্যানে বহন করার সময় কথা হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক আলাপচারিতায় মুগ্ধ ইমাম শেখ।
ইমাম শেখ বলেন, আসলে আমি বিশ্বাস করতে পারতেছিলাম না দ্যশের প্রধানমন্ত্রী আপা আমার ভ্যানে চড়ছে। আমি নিজেরে ধন্য মনে করি। তিনি একবার আমার খবর জিগাইলেন। ওই সময় অন্য অফিসার কি যেন বললেন তারপর আমিও আর কিছু বলতে পারলাম না।

কী বলতেন? আমার একটা চাকরির কথা বলতাম।    কেন?  ইমাম শেখ জানালেন তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ মানসিক রোগী, মা গৃহিণী। ইমাম শেখরা দুই ভাই, তিনবোন।     ভাইও ভ্যান চালক। কিন্তু অর্ধেক বেলা পর্যন্ত ভ্যান চালাতে পারলেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইমাম শেখ একাই সংসার চালায়।

ইমাম তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমার এবং আমার পরিবারের প্রতি যে সহানুভূতি দেখিয়েছেন তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমি ভাষা দিয়ে আমার অনুভূতি জানাতে পারছি না। আমি আল্লাহর কাছে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করি।

ইমামের মা শাহানুর বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন মানুষ আমার ছেলের ভ্যানে উঠে এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন, এটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া। তারপর আবার আমাদের জন্য তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের মতো গরিবদের মূল্যায়ন করেছেন, এটা দেখে আমরা খুব খুশি হয়েছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আল্লাহ যেন তাঁকে ভালো রাখেন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button