রাজনীতি

বিএনপির নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখায় যা থাকছে

ঢাকা,০৫ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার’-এর রূপরেখা প্রনয়ন করছে বিএনপি। যার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে—হস্তক্ষেপমুক্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। বেশ কিছুদিন আগে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার আস্থাভাজন থিংট্যাঙ্ক, অভিজ্ঞ সিনিয়র নেতা ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করে এই রূপরেখা প্রনয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। তারা সেটির খসড়া তৈরির কাজ করছেন।
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে অনেক আগেই সরে এসেছে বিএনপি। দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প যাতে কিছু প্রক্রিয়াগত পার্থক্য থাকবে। এই সহায়ক সরকার পরিচালনা হতে পারে অংশিদারত্বের ভিত্তিতে। দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, উপযুক্ত সময়ে এই রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরবেন খালেদা জিয়া।
দলের স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য জানান, এই সহায়ক সরকার হবে তিন মাস মেয়াদের। রাষ্ট্রপতির অধীনে নির্বাচনকালীন এই সরকারের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্রেট কোটায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব থাকছে।   রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কাঠামো চূড়ান্ত করতে পারেন। ওই নেতা জানান, তখন সংসদ বহাল থাকবে। প্রধানমন্ত্রীও দায়িত্বে থাকবেন। এই রূপরেখায় নির্বাচনকালীন তিন মাস প্রধানমন্ত্রীর ছুটিতে থাকার প্রস্তাব থাকছে। যাতে বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী স্বপদে বহাল থেকে ছুটিতে থাকার মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের কাঠামোতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত নির্বাচনকালীন সরকারের কথাও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। যে সরকারে সংসদের তত্কালীন বিরোধী দল বিএনপি থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
গত ১৮ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়া তার গুলশানের অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যতিরেকে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন যাতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারে সে উদ্দেশ্যেই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রয়োজন। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ভবিষ্যতে যথাসময়ে জাতির সামনে তুলে ধরব।
এ প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক বলেন আর সহায়ক বলেন, যে কোনো একটা হতেই পারে। যাদের রাজনৈতিক কোন অভিলাষ থাকবে না এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে রাষ্ট্রপতি যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন, একইভাবে বিএনপির প্রস্তাবিত ‘সহায়ক সরকার’ নিয়েও সংলাপ করতে পারেন। আমরা আশা করি, তিনি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়েও উদ্যোগ নেবেন।
দলের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অর্থই হলো নির্দলীয় লোকদের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখা। এই প্রক্রিয়ায় ১০ ভাগ টেকনোক্রেট কোটায় স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপনসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। রাষ্ট্রপতি নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের এসব মন্ত্রনালয়ে নিয়োগ দিতে পারেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তিন মাসের জন্য ছুটি নিতে পারেন। সংসদ তো বহাল থাকছেই। সমস্যা নেই। তখন রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীদের দিয়ে কাজ করাতে পারবেন। বিএনপির যে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা হচ্ছে তাতে এসব বিষয় থাকবে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, দলের চেয়ারপার্সন উপযুক্ত সময়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা মনে করি অবাধ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারই হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। অন্য নামেও নিরপেক্ষ সরকার হতে পারে। আমরা চাই নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেজন্য নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেওয়া হবে। নি:সন্দেহে এটি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হবে।
প্রসঙ্গত, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দু’দফা সরকার বিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এবার নির্বাচনকালীন এই নতুন সরকারের রূপরেখা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
১৯৯৬ সালে তত্কালীন বিএনপি সরকারের শাসনামলে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। এরপর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ২০১১ সালে ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ত্রয়োদশ সংশোধনী সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে আদালত তা বাতিল ঘোষণা করে। পরের মাসে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করে সরকার।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button