রাজনীতি

আপত্তি সত্ত্বেও নতুন সিইসিকে প্রত্যাখ্যান করছে না বিএনপি হার্ডলাইনেও যাবে না

ঢাকা,০৮ ফেব্রুয়ারী , (ডেইলি টাইমস ২৪):

নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে ঘোর আপত্তি থাকলেও তাকে প্রত্যাখ্যান করছে না বিএনপি। হার্ডলাইনেও যাবে না। তার ব্যাপারে অনাস্থাও প্রকাশ করবে না দলটি। আপাতত কোনো কর্মসূচিও দিবে না। তারা নতুন সিইসি নরুল হুদার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাবে। মঙ্গলবার রাতে বিশ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকে এসব উঠে এসেছে।
বৈঠকের পর বিএনপির গুলশান অফিসে প্রেস ব্রির্ফিং এ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের প্রতিফলন ঘটেছে বলে অভিযোগ করে বলেন, নতুন ইসি নিয়ে বিএনপি নিরাশ এবং হতাশ। একজন বিতর্কিত সাবেক সরকারি কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। কাজেই কে এম নরুল হুদার নেতৃত্বে সুষ্ঠ, অবাদ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে না।
২০ দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা চেয়েছিলাম যাদেরকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে তারা হবেন সৎ, দল-নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু সোমবার দিনের শেষ মুহূর্তে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত ১০ নাম থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার জনকে নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সব মহল থেকে দাবি ছিল, সার্চ কমিটি কর্তৃক বাছাইকৃত ১০ জনের নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে এবং তাদের জীবনবৃত্তান্ত ও কর্মঅভিজ্ঞতা সম্পর্কে সবাইকে তথ্য সরবরাহ করা হবে।
এ পন্থা অনুসরণ করা হলে প্রক্রিয়াটি কিছুটা হলেও স্বচ্ছতা পেতো। কিন্তু তা করা হয়নি। এর ফলে আমরা নিরাশ ও হতাশ হয়েছি।
‘রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই সিদ্ধান্তই আমরা মেনে নেবো’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে মির্জা ফখরুল বলেন, আসলে প্রধানমন্ত্রী জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন। সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী দুটো বিষয় ছাড়া (প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ) অন্য সব বিষয়ে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে বাধ্য। সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করতে পারি, নতুন ইসি গঠনে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
সিইসিকে একজন বিতর্কিত সাবেক সরকারি কর্মকর্তা উল্লেখ করে ফখরুল দাবি করেন, তার নেতৃত্বে কোনো প্রতিষ্ঠান নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। এমন একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের পর নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আমাদের প্রস্তাবের যৌক্তিকতা আরো দৃঢ় হয়েছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার  বলেন, বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগের দলীয় আস্থাভাজনদের দিয়ে কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে। সিইসি নুরুল হুদা ব্রান্ডেড আওয়ামী লীগর। তিনি কুমিল্লার ডিসি থাকা অবস্থায় সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে জনতার মঞ্চ উদ্বোধন করেন। এই বিতর্কিত আমলাকে দিয়ে আরেকটি রকিব উদ্দিন মার্কা নির্বাচন কমিশন করা হয়েছে। এতে আমরা বিক্ষুব্ধ।
স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত লোকদেরই ইসিতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ কমিশন আমরা গ্রহণ করব না। তিনি বলেন, নতুন সিইসি যাকে করা হয়েছে,সেই নুরুল হুদা ‘জনতার মঞ্চের’ অন্যতম নেতা। বিএনপি সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন তিনি। এজন্য তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল । তিনি পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের প্রধান ছিলেন। তার ছোট ভাই থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আমরা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবো। তার প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই।
স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের চলমান যে সঙ্কটগুলো রয়েছে,তার অন্যতম প্রধান সঙ্কট হচ্ছে,অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন,নির্বাচনী বিধি ব্যবস্থা, জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে একটি সুযোগ এসেছিলো। রাষ্ট্রপতি যে দল থেকেই নির্বাচিত হয়ে থাকুন না কেনো, এবার তার ওপর সবাই আস্থা রেখেছিলেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তিনি হয়তো দেশকে এই সঙ্কট থেকে উত্তরণে উদ্যোগ নেবেন।
এদিকে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে দলের পরবর্তী করণীয় চূড়ান্ত করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদা জিয়া। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভাইস চেয়ারম্যাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।
দলের নেতারা জানান, ইসি নিয়ে হার্ড লাইনে যেতে চায় না বিএনপি। তারা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে হার্ডলাইনে যেতে চায়।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button