জেলার সংবাদ

নরসিংদীতে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২

ঢাকা,০৮ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর চরাঞ্চল বাঁশগাড়ীতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের ফের রক্তক্ষয়ী টেঁটাযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত এবং গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। এ সময় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে বাশগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের সোবহানপুর গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে আরশ আলী (২৫) ও একই ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের জহর মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া (২২)। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁরা সাহেদ সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এই নিয়ে বাঁশগাড়িতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দাড়াল চারজনে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বাশগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকার। কিন্তু নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর পছন্দের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সিরাজুল হক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই ব্যক্তি নিহত ও অর্ধশত মানুষ আহত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাহেদ সরকারের কয়েকশত সমর্থক এলাকা ছাড়া হতে বাধ্য হন। গত ১৮ ও ১৯ এপ্রিল সাহেদ সরকার পাশ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোর লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে নদী পথে এসে টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুজন নিহত ও অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়।  এরপর বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল হক সরকার গ্রুপ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়, আর সাহেদ সরকার গ্রুপ এলাকা দখলে আসে। ওই ঘটনার পর আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে সিরাজুল হকের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এলাকা দখলের চেষ্টা চালালে সাহেদ সরকারের সমর্থকরা বাধার সৃষ্টি করে। এতে দু’পক্ষের মধ্যে টেটা ও বন্ধুক যুদ্ধ শুরু হয়। এই টেটা ও বন্ধুক যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজনগর গ্রামের জহর মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া ও ছোবানপুর গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে আরশ আলী নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ২০ জন। আহতদেরকে নরসিংদী, নবিনগরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বন্ধুক ও টেটা যুদ্ধ চলাকালে অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বেলা ৫টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোনো সময়ই পুনরায় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক বলেন, ঘটনার সময় তিনি রায়পুরায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ছিলেন। তিনি বিস্তারিত জানতে পারেননি। তিনি শুনতে পেয়েছেন যে সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। শাহেদ সরকারের লোকজন তার নিজের ভিটি বাড়িসহ কমপক্ষে ২ শতাধিক বাড়ি-ঘর ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছেন।

অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া বাশগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকারের ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগ করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, আধিপত্ব বিস্তারের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ। এ পর্যন্ত দুজন নিহত হয়েছে। বেশ কয়েক জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button