জেলার সংবাদ

সৎ মায়ের আগুনে ঝলসে মৃত্যুমুখে যুবক

ঢাকা,১৩ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

ধার দেয়া টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে সৎ মায়ের দেয়া আগুনে ঝলসে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এক যুবক।

গত ২২এপ্রিল নওগাঁর ধামইরহাটে আগ্রাদ্বিগুণ ইউনিয়নের তালন্দর কাটিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই যুবকের নাম ফারুক হোসেন (২০)।

জানা গেছে, বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হওয়ায় দিনমজুর ফারুক হোসেন জেলার পত্মীতলা উপজেলার ঘোষনগর গ্রামে মা ফাইমা বেগমের সঙ্গে বসবাস করতো।

এদিকে ফারুকের বাবা আজিজার রহমান অনত্র বিয়ে করে জেলার ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুণ ইউনিয়নের তালন্দর কাটিপাড়া গ্রামে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন। তবে ফারুকের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় প্রায় বাবার বাড়িতে আসা যাওয়া করত।

ফারুক তালন্দর কাটিপাড়া গ্রামের কাছাকাছি দারকাদিঘী নামক একটি দিঘীতে পাহারাদারের কাজ করতো। সে সুবাদে ফারুক প্রায় ২৮ হাজার টাকা জমা করে। বোরো ধান উঠলে এই টাকা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত তিন মাস আগে ধার নেয় বাবা আজিজার রহমান ও সৎ মা মরজিনা বেগম।

গত ২২ এপ্রিল ফারুক তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে রাতে সৎ মা, বাবা, প্রতিবেশী এনামুল হক, আতোয়ার হোসেন ও জয়নাল তাকে মারপিট করে ঘরে আটকে রাখে। ফারুক ঘুমিয়ে পড়লে ভোর রাতে সৎ মা মর্জিনা বেগম শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

ফারুকের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পত্মীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আগুনে ফারুকের গলা থেকে কোমর পর্যন্ত পুড়ে যায়।

চিকিৎসকরা ফারুককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়। কিন্তু আর্থিক দুরাববস্থার কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। সেখানেই ১৬দিন চিকিৎসা শেষে গত ৮ মে মা ফাইমা বেগম তাকে গ্রামের বাড়ি পত্মীতলার ঘোষনগরে নিয়ে যায়। ফারুক অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

ফারুকের মা ফাইমা বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য পত্মীতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের কাছে ধর্ণা দিয়ে কোন লাভ হয়নি। এছাড়া ধামইরহাট থানায় মামলা করার জন্য গেলেও মামলা নেয়া হয়নি।

ফারুকের সৎ মা মর্জিনা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফারুক নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার করার চেষ্টা করেছিল।

পত্মীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রঞ্জন বলেন, তার শরীরের প্রায় ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। ঘা অনেকটাই শুকিয়ে গেছে। শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নত হওয়ায় ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছে।

ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সানোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button