জেলার সংবাদ

ভাতিজির সঙ্গে সৎ চাচার অসৎ কাণ্ড, অতঃপর…

ঢাকা,১৩ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ভাতিজিকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে চাচা মো. আহাদের (২২) বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি এবং বিচারের  দাবিতে ৭ মে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চাচার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ধর্ষিতা।

উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের জয়পাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহাদ ওই গ্রামের মৃত জয়নাল উদ্দীনের ছেলে। সে মেয়েটির বাবার সৎ ভাই।

শুক্রবার বিকালে ধর্ষিতা পরিবারের সদস্যরা জানান,  মেয়েটি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় একটি গার্মেন্টেসে কাজ করতো। অসুস্থতার কারণে দেড় বছর মেয়েটিকে আহাদের মা (মেয়েটির দাদি) জাহেরা বেগমের কাছে রেখে যায় তার বাবা-মা। মেয়েটি কিছু সুস্থ হয়ে উঠলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে চাচা আহাদ।

বিষয়টি জাহেরা বেগম, চাচা আজিদ, ওয়াজিদ, আসাদ, চাচী ঝর্ণা বেগম, মোমিনা বেগমকে জানালে মেয়েটিকে ভয় দেখিয়ে কাউকে কিছু না বলতে নিষেধ করেন।

কিছুদিন পর মেয়েটি গর্ভবতী হলে তার ওপর অত্যাচার শুরু করে আহাদের পরিবারের সদস্যরা। পরে বাচ্চা নষ্ট করার চেষ্টা করে তারা।

ধর্ষিতার মা বলেন, ‘আহাদের ভয়ে আমার মেয়ে কোলের শিশুটিকে নিয়ে ৪ মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’

মায়ের কথা অনুযায়ী, শনিবার আটপাড়া উপজেলায় বানিয়াজান এলাকায় খালার বাড়িতে গেলে মেয়েটি জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে আহাদ তাকে সিলেট নিয়ে যায়। সেখানে ৮ মাস থাকার পর তার সন্তান হয়। পরে সে ওই সন্তানকে হত্যার চেষ্টা চালায়।সেখান থেকে পালিয়ে বাবার বাড়িতে যাই।

তিনি জানান, গ্রামের বাড়িতে এলাকার মাতবর মোফাজ্জল, বাচ্চু মিয়া, ছোটন, জুলহাজ, সেকুল মিয়াকে নিয়ে এক সালিশ হয়। সেখানে তাকে অপরাধী বানানো হয়। এরপর থেকেই মা-বাবার অত্যাচার শুরু করে। ওদের অত্যাচারে খালার বাড়ি আশ্রয় নেয়।

সংশ্লিষ্ট সালিশের মাতবর খসরু মিয়া ঘটনার জানান, এ নিয়ে কয়েকবার দেন-দরবার হয়েছে। আহাদ ও তার পরিবারের লোকজন মেনে না নেয়ায় বিষয়টি মীমাংসা হয়নি।

আহাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে ফোনটি বন্ধ করে দেন।

কাইটাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ রয়েল জানান, ধর্ষিতার বাবা গ্রামে বিচার না পেয়ে আমার কাছে আসলে তাকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button