জাতীয়

মামলায় আপস করতে পরিবারের ওপর চাপ!

ঢাকা,১৪ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আপস করতে তাদের পরিবারকে নানাভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, ধর্ষিতা দুই ছাত্রীর একজনের পরিবার একটি মানবাধিকার সংস্থার সহায়তা চাইলেও আরেকটি পরিবার ভয়ে এগোতে চাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি ধর্ষিত দুই ছাত্রীর পক্ষে আইনি লড়াই করতে চায়।

জানতে চাইলে সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী  বলেন, ‘আমরা পরিবার দুটির পক্ষে আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি। তবে কাজ করতে গিয়ে অভিযোগ পাচ্ছি, মামলায় আপস করার জন্য পরিবার দুটোর ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে। ধর্ষকদের অনেক টাকা আছে। তারা মামলা থেকে রক্ষা পেতে টাকা উড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, অপরাধীরা যত বড় ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অপরাধ প্রমাণের প্রথম ধাপের অগ্রগতি হয়েছে। দুই ধর্ষক গ্রেফতার হয়েছে। অপরাধ প্রমাণের অংশ হিসেবে ধর্ষণে সহায়তাকারী বাকি তিনজনকেও গ্রেফতার করতে হবে। সেই সঙ্গে দুই ছাত্রীর পরিবারকে সুরক্ষা দিতে হবে।

আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার বিচারের জন্য কি আলামত ও সাক্ষ্যের প্রয়োজন হবে জানতে চাইলে সালমা আলী বলেন, বড় এভিডেন্স হচ্ছে ধর্ষিত দুই ছাত্রীর বয়ান (জবানবন্দি)। গ্রেফতার হওয়া আসামিরা যদি পুলিশের কাছে কার্যবিধির ১৬১ ধারায় এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হবে বিচারের জন্য। ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীর মধ্যে একজন ঘটনার পর তার কাপড়চোপড় রেখে দিয়েছেন। সেখানেও আলামত রয়েছে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তা আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি বলেন, আলামত যেন সরিয়ে ফেলা না হয় বা পাজামা-জামা যেন বদলে ফেলা না হয় এবং তা যেন রক্ষিত থাকে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

এদিকে ধর্ষণের শিকার একজনের সালোয়ার-কামিজের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আবদুল মতিন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় এ আবেদন করেন।

ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ধর্ষিত এ ছাত্রীর পরিহিত সেই রাতের পোশাক এখন মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর পোশাক ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণে সহায়ক। ঘটনার এক মাস পর ওই দুই তরুণীর শরীর থেকে ধর্ষণের আলামত না পেলেও পোশাক থেকে সহজেই আলামত পাওয়া যাবে। এটি তদন্তে এবং বিচারের ক্ষেত্রেও সহায়ক আলামত হিসেবে বিবেচিত হবে।

সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ বলেন, এ মামলা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট এভিডেন্স আছে। সব আসামিকে ধরা গেলে, তাদের জবানবন্দিও এভিডেন্স হিসেবে গণ্য হবে। তারা কিভাবে ধর্ষণে সহায়তা করেছে, কার কি ভূমিকা ছিল তা স্পষ্ট হবে। সেই সঙ্গে মামলাটি নিবিড়ভাবে মনিটরিং করতে হবে।

২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন দুই বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণী। ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করেন নির্যাতনের শিকার এক তরুণী। মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক ও রেগনাম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া দু’জনের মধ্যে একজনের ৬ দিন এবং অপরজনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এই মামলার অন্য তিন আসামির মধ্যে রয়েছে- সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম হাসান মো. হালিম), সাফাতের দেহরক্ষী ও গাড়িচালক। মামলার পর আসামিরা পলাতক রয়েছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button