জেলার সংবাদ

সন্তানদের জন্য মনে কষ্ট নিয়ে অপেক্ষায় থাকি’

ঢাকা,১৪ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

“সন্তানদের জন্য মনে কষ্ট নিয়ে অপেক্ষায় থাকি। বছরের অন্য দিনগুলোতে না আসলেও ঈদের দিন সারাক্ষণ অপেক্ষা করি। শুধু ওদের একবার দেখতে চাই। মন ভরে আদর করে ভালবাসা দিয়ে মুড়িয়ে কাছে রাখতে চাই। কোনো ঈদে সন্তানকে দেখতে পেলে ভাল লাগে। আর না এলে মনে কষ্ট নিয়ে অপেক্ষায় থাকি”- এভাবেই সন্তানদের জন্য অপেক্ষায় থাকার কথা জানালেন সত্তোর্ধ বয়সের আনোয়ারা বেগম।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় সুখের সংসার ছিল আনোয়ারা বেগমের। স্বামী মারা যাওয়ার পর তার আশ্রয় হয় শান্তি নিবাস নামে এই বৃদ্ধাশ্রমে। তিনি আরও জানান, ছেলেরা নয়। মেয়েরাই আমার খোঁজ নেয়। তারও যে মা!

ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকায় সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত শান্তি নিবাসে বর্তমানে বাস করেন সাত নারী। এরা হলেন-আনোয়ার বেগম, আয়েশা বেগম, মনা, বুবলী, কমলা বেগম, বকুল ও ময়না। এদের মধ্যে বুবলী বাকপ্রতিবন্ধী। কথাই বলতে পারে না। তার বুবলী নাম দিয়েছে শান্তি নিবাসের কর্মীরা। আর আয়েশা শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার বিয়ে হয়নি। এ ছাড়াও এখানে আশ্রিত অন্য পাঁচজনেরই এক জীবনে গল্পই অনেকটা এক রকম। এক সময় স্বামী ও সন্তান নিয়ে সুখের সংসার ছিল। কিন্তু স্বামী মারা যাওয়ার পরপরই এদের ভাগ্য বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হয় এই শান্তি নিবাসে। এদের সকলের বয়স ষাট থেকে সত্তরের কোঠায়। কেউ আগের জীবনের কথা বলতে চান না। জীবনের এ শেষ প্রান্তে এসে তাদের শেষ চাওয়া সন্তাননরা যেখানেই থাকুক না কেন ভাল থাকুক। সুস্থ থাকুক।

আশ্রিতদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা শান্তি নিবাসের আয়া হালিমসা বেগম জানান, এদের সেবা করতে নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। সেজন্য সন্তান হিসেবেই এদের সেবাযত্ন করি। কখনও কোনো কাজে অবহেলা করি না। অসুখে এদের সেবা করি। আবার এদের সাথেই আনন্দ ভাগ করে নেই।

শান্তি নিবাসের উপ-তত্ত্বাবধায়ক সায়েদুর রহমান জানান, আমরা এখানে মায়েদের সেবা-যত্ন করে কাজ করি। তাদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেদিকে আমরা বিশেষভাবে নজর দেই।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এএসএম আলী আহসান বলেন, আমাদের সংসার অনেক বড়। এ সংসারে যেমন আছে এতিম সন্তানরা। তেমনই আছেন এসব মায়েরা। তাই সব দিক খেয়াল রাখতে হয় আমাদের। যেন কেউ একটুও কষ্ট না পায়।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে শান্তি নিবাসে বিশেষ খাবার ও ফলাহারের আয়োজন রয়েছে। আমরা সকলেই এ মায়েদের পাশে আছি। তাদের ফেলে আসা সংসারের কথা মনে করে যাতে তারা কষ্ট না পায়। কিন্তু মায়ের মন তো। সংসার ও সন্তানের জন্য তাদের মন অবশ্যই কাঁদে। আমরা সব সময় তাদের আনন্দে রাখার চেষ্টা করছি।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button