আলোচিত সংবাদ

দুইজন নয়, চার তরুণীকে ‘ধর্ষণ’ করেছিল সাফাত-নাঈম

রাজধানীর বনানীর হোটেল ‘দ্য রেইন ট্রি’তে ধর্ষণের মামলার ঘটনায় গ্রেফতার আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। এ অনেকটা কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে পড়ার মতো।

জানা যায়, ঘটনার দিন অর্থ্যাৎ ২৮ মার্চ রাতে দু’জন নয়; চার তরুণীকে ‘ধর্ষণ’ করেছিল আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু আবদুল হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ।

অভিযোগকারী দুই শিক্ষার্থীর মতোই অন্য দুই তরুণীকেও একই দিন হোটেলে আনা হয়েছিল। তবে তাদের মধ্যে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। অন্য দু’জনের কথা এতদিন অজানা ছিল।

রিমান্ডে নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদের এ তথ্য জানা গেছে। তবে তার দাবি, ‘সম্মতি’ নিয়েই ওই রাতে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে দুই বন্ধু।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ধর্ষণের শিকার অন্য দুই তরুণীর পরিচয় ও অবস্থান জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তরুণীদের কাছ থেকে তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনেই আরও তথ্য নেওয়ার জন্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে তাদের ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ধর্ষণের শিকার হয়ে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। মান-সম্মান ও প্রাণের ভয়ে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও তাদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। এ কারণে তারা ভয় পেয়ে নিজেদের এক রকম লুকিয়ে রেখেছেন।

এদিকে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাফাতের গাড়ি চালক বিল্লালের দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে এ ঘটনার মিল রয়েছে। এর আগে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিল্লাল জানিয়েছিলেন, মার্চের ২৮ তারিখে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি সাফাত আহমেদকে নিয়ে হোটেল রেইন ট্রিতে যান। এ সময় সাফাত তাকে গুলশান থেকে তার কথিত গার্লফ্রেন্ড ও মেয়ে বন্ধুকে আনতে গুলশান-২ এর আগোরা এবং বনানীর ১১ নম্বর সড়কে যেতে বলেন। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে হোটেল রেইন ট্রিতে নিয়ে আসতে বলেন।

বিল্লাল সাফাতের নির্দেশ অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ওই দুই তরুণীকে নিয়ে হোটেলে ফিরে আসেন। পরে আবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই দুই তরুণীকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসেন। ধারণা করা হচ্ছে ওই দুই তরুণীই প্রথম ধর্ষণের শিকার হয়। এরপর ধর্ষণ করা হয় অভিযোগকারী দুই তরুণীকে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে সাফাত আহমেদের জন্মদিনে যোগ দিতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই দুই তরুণী। ওই ঘটনার ৪০ দিন পর ৬ মে সন্ধ্যায় বনানী থানায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা (মামলা নং ৮) করেন ওই তরুণীরা।

এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামি হলেন- সাফাত আহমেদ, সাদমান সাকিফ, নাঈম আশরাফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও তার দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ (রহমত)। বর্তমানে পাঁচ আসামিকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদিকে এ মামলায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। যারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা হলেন- সাফাত আহমেদ ও তার গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন এবং সাফাত আহমেদের বন্ধু সাদমান সাকিফ।

সূত্র: দৈনিক সমকাল

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button