জেলার সংবাদ

পাইলট প্রকল্পের মালামাল আত্মসাতকারীর কাণ্ড!

ঢাকা,২২ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে বিএডিসি’র (বাংলাদেশ এগ্রিক্যালচার ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন) আওতায় মঙ্গা পাইলট প্রকল্পের সেচ যন্ত্র (শ্যালো মেশি) ও প্রায় এক হাজার ফুট প্লাস্টিক পাইপ গোপনে বিক্রি এবং পানি রিজার্ভ করে রাখার হাউজের ইট রড খুলে তা আত্মসাৎ করার ঘটনা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। সরকারি সম্পদ আত্মসাতকারী তাজুল ইসলাম ওরফে সাহেব নামের ওই ব্যক্তি নিজেই বিক্রি করে উল্টা চুরি হয়েছে বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর থানা পুলিশকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার সরেজমিনে খোঁজ-খবর নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

কুড়িগ্রাম বিএডিসি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে মঙ্গা পাইলট প্রকল্পের অধিনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের মাঝে কম খরচে বিভিন্ন ফসলের সেচ সুবিধার জন্য সরকারিভাবে রাজীবপুরের মিয়াপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলাম ওরফে সাহেব এর বাড়িতে প্রায় ১০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এতে একটি শ্যালো মেশিন, এক হাজার ফুট প্লাস্টিক পাইপ এবং পানি রিজার্ভ রাখার জন্য একটা হাউজ তৈরি করে দেওয়া হয়। এটা দেখভালের দায়িত্ব পড়ে বাড়ির মালিক স্কুল শিক্ষক তাজুল ইসলামের ওপর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাজুল ইসলাম শ্যালো মেশিনটি ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করে একই গ্রামের মনু শেখের পুত্র শাহাদত হোসেনের কাছে। পাইপগুলো কোথায় বিক্রি করেছে তা জানা যায়নি। বিষয়টি যখন এক কান দু’কান হয়ে যায় তখন নিজেকে রক্ষা করতে তিনি গত ২০ এপ্রিল রাজীবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন, যার নম্বর-৫৭৮। এতে শ্যালো মেশিন ও পাইপ গুলো চুরির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বিএসডিসি কুড়িগ্রাম কার্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলী (রৌমারী রাজীবপুরের দায়িত্বে) সুমন চন্দ্র জানান, শ্যালো মেশিন ও পাইপ চুরি করে বিক্রি করা এবং পানি রিজার্ভ রাখার হাউজ ভেঙ্গে ফেলা বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

তাজুল ইসলাম ওরফে সাহেব রাজীবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিষয়ের সহকারি শিক্ষক। তার পিতার নাম মৃত জামাল উদ্দিন। এ অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি। এখন আর কোনো সমস্যা নেই। থানায় জিডি করেছিলাম সেটা আবার পাওয়াও গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাইপগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ সেচ সুবিধা না নেয়ার কারণে হাউজটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু বলতে রাজি হননি। ’

এদিকে জানা গেছে, পাইলট প্রকল্পের মালামাল চুরি হওয়ার বিষয়টি থানায় জিডি আকারে অভিযোগ করলেও পুলিশ প্রথমে কোনো তৎপরতা চালায়নি। জিডির বিষয়টি এএসপি সার্কেল (রৌমারী) সিরাজুল ইসলাম জানতে পেরে থানা পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি। এ অবস্থায় রাজীবপুর থানার এসআই জুনাইয়েদ হোসেন গত বৃহষ্পতিবার ওই গ্রামে গিয়ে চোরাই মেশিনটি উদ্ধার করলেও তা থানায় না নিয়ে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসআই জুনায়েদ হোসেন বলেন, আমি মেশিনটি উদ্ধার করে তাজুল ইসলামের বাড়িতে দিয়ে এসেছি। চুরির মেশিন পাওয়া গেছে এবং সেটা যার বাড়িতে ছিল সেখানে রাখা হয়েছে, তাতে আপনাদের সমস্যা কোথায়। পাইপ আর হাউজ’র বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছে কেউ অভিযোগ করেছে যে, আপনি মাথা ঘামান। ’

এ ব্যাপারে রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাউজুল কবীর জানান, ওই বিষয়ে কোনো তথ্য নেই আমার দপ্তরে। এটা বিএডিসির বিষয়। তারপরও আমি খোঁজ-খবর নিব এবং বিএডিসিকেও অবহিত করব। কিভাবে সরকারি সম্পদ কালোবাজারে বিক্রি হয়।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button