জাতীয়

সংসদের হাতে ক্ষমতা নয়

ঢাকা,২৬ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে কিভাবে বিচারপতি অপসারণ করা হবে। ষোড়শ সংশোধনী অনুসারে কোনো বিচারপতি অপসারণের জন্য সংসদে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে কী হবে বলে প্রশ্ন রেখেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

তিনি জানান, এ শূন্যতা তাকে ভাবিয়ে তুলছে। বৃহস্পতিবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চে সপ্তম দিনের মতো শুনানি হয়। এদিনের শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ তার লিখিত বক্তব্য দেন।

এর একপর্যায়ে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার প্রসঙ্গ ওঠে। এদিন অ্যামিকাস কিউরিরা ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে মত দেন।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা সংসদের হাতে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা না দেয়ার পক্ষে মত দেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়াই শ্রেয় বলে মত দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠতম আইনজীবী টিএইচ খান। ষোড়শ সংশোধনী যে সংসদে পাস হয়েছে, সে সংসদ যে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে, সেই নির্বাচনকেই অবৈধ বলে বক্তব্য দিয়েছেন আইনজীবী টিএইচ খান। কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তবে জুডিশিয়ারির তদন্ত হবে এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে মতামত দিয়েছেন ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।

‘সিভিল সার্ভিস, পুলিশ, সচিবদের অপসারণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ করেন, সেনা সদস্যদেরও ডিসিপ্লিনারি আছে। তাহলে জুডিশিয়ারিদেরটা সংসদে যাবে কেন’Ñ বলে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। বৃহস্পতিবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে মতামত দিতে গিয়ে তিন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসব মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে মতামত উপস্থাপন শেষ করেছেন টিএইচ খান ও রোকন উদ্দিন মাহমুদ। ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বুধবার থেকে মত দিচ্ছেন। তার বক্তব্য অসমাপ্ত রয়েছে।

৮ ফেব্র“য়ারি এ মামলায় আপিল শুনানিতে সহায়তার জন্য ১২ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু বা সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তাদের লিখিত বক্তব্য জমা দিতে বলেন আপিল বিভাগ। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ১২ আইনজীবী হচ্ছেনÑ বিচারপতি টিএইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, এএফ হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার আজমালুল হক কিউসি, আবদুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া ও এমআই ফারুকী। ১২ অ্যামিকাস কিউরি লিখিত বক্তব্য আদালতে জমা দিয়েছেন। এখন তা উপস্থাপন করা হচ্ছে।

শুনানির সময় সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, শাসনতন্ত্রের সবচেয়ে পবিত্র আইন তারা সংরক্ষণ করেন। এখানে এমন কিছু সন্নিবেশিত করা হল, যাতে শূন্যতা সৃষ্টির সুযোগ আছে। কারও (বিচারক) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (সংসদে) না থাকলে তখন কী হবে। এটি তাকে ভাবিয়ে তুলেছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, সংসদে কোনো রাজনৈতিক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে। ঝুলন্ত পার্লামেন্টও হতে পারে। তখন কী হবে। অ্যামিকাস কিউরি রোকন উদ্দিন মাহমুদও তার লিখিত বক্তব্যে এ ধরনের শূন্যতার প্রসঙ্গ তোলেন।

অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতের শুনানিতে টানা দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বক্তব্য উপস্থাপনের পর প্রবীণ আইনজীবী টিএইচ খান নিজের শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে আদালতের কাছে অবশিষ্ট বক্তব্য তার ছেলের মাধ্যমে উপস্থাপনের সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানান। আদালত সে সুযোগ দিলে টিএইচ খানের পক্ষে তার ছেলে আফজাল এইচ খান লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময়ও তিনি (টিএইচ খান) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সুপ্রিমকোর্টের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ বয়সে আদালতে এসে সহায়তা করায় প্রধান বিচারপতি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তার লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন শেষে ফের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন রোকন উদ্দিন মাহমুদ। বেলা ১১টায় আদালত বিরতিতে যান। বিরতির পর আবারও রোকন উদ্দিন মাহমুদ বক্তব্য দেন। সবশেষে ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আগামী রোববার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়েছে।

৮ মে থেকে বুধবার পর্যন্ত আপিল শুনানির ৬ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন করেন আপিল আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা এবং রিট আবেদনের পক্ষে মনজিল মোরসেদ। শুরুতে হাইকোর্টের দেয়া রায় পড়ে শোনান মুরাদ রেজা।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
আদালতে বক্তব্য উপস্থাপনের পর টিএইচ খানের ছেলে আফজাল এইচ খান সাংবাদিকদের বলেন, উনি (টিএইচ খান) যে সাবমিশন দিয়েছেন সেটি হল, হাইকোর্টের যে রায় তা বহাল রাখার জন্য। ওই রায়ে বলা হয়েছে, ষোড়শ সংশোধনী ভয়েড এবং আল্ট্রাভাইরাস অর্থাৎ সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটাকে বাতিল করে দেয়াই শ্রেয়। ‘উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চাইলে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে এখানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করে সেখানে একটি নমিনাল বডি না করে ফাংশনাল বডি করে আরও ক্ষমতা বাড়িয়ে করা উচিত।’

এর আগে তার বক্তব্য উপস্থাপনের সময় টিএইচ খান বলেন, ‘ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়টি সেটেলড না করে ষোড়শ সংশোধনী আলোচনা ঠিক না। এটাকে প্রাসঙ্গিকভাবে দেখতে হবে। ষোড়শ সংশোধনী যেটাকে বলা হচ্ছে এবং এটি পাস করেছে যে সংসদ, সেই সংসদ যেভাবে নির্বাচিত হয়েছে, সে নির্বাচনটাই বৈধ ছিল না’। তিনি বলেন, ‘সরকার বলে আসছে, ত্রয়োদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানটি তারা বাতিল করেনি, করেছে আদালত। ত্রয়োদশ সংশোধনী আসলেই আদালত বাতিল করেছিল?

আর যদি ত্রয়োদশ সংশোধনী থেকে থাকে, এখনও বহাল থাকে তাহলে ত্রয়োদশ সংশোধনীর যে রায় দিয়েছেন ১৬ মাস পর তখন তার (সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক) শপথ ছিল না। অবসরে যাওয়ার ১৬ মাস আগে তিনি শর্ট অর্ডার দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দশম এবং একাদশ নির্বাচন হওয়া উচিত বলেছিলেন। যা মূল রায়ে ছিল না। ওই রায়ের কোনো বৈধতা নেই। কারণ ওই রায়টা যখন দিয়েছেন, তখন তিনি বিচারক ছিলেন না। বিচারক হিসেবে তিনি রায় দেননি।’ তিনি বলেন, ‘ওই রায়ে যে দু’জন বিচারপতি স্বাক্ষর করেছেন তারাও এ কাজটি ঠিক করেননি এবং তাদের স্বাক্ষরও গ্রহণযোগ্য না।’ বাকি চারজন যারা ছিলেন তাদের মধ্যে বর্তমান প্রধান বিচারপতি আলাদা রায় দিয়েছেন এবং বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা এবং বিচারপতি ইমান আলী আলাদা রায় দিয়েছেন। উনারা ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ আইন বলে উনাদের রায়ে উল্লেখ করেছেন।

প্রশ্ন হল, ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করল কে? এরপর টিএইচ খান পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘মজার বিষয় হল পঞ্চদশ সংশোধনী যেদিন পাস হয়েছে, তার পরে কিন্তু রায় প্রকাশ হয়েছে। রায় প্রকাশের আগেই সরকার পঞ্চদশ সংশোধনী সংসদে পাস করেছে। অথচ সরকার বলেছে, এটা আদালত বাতিল করেছে, আমরা করিনি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে টিএইচ খানের পক্ষে আফজাল এইচ খান বলেন, ৯৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে যে এত বিতর্ক, সেখানে বলা হচ্ছে ‘ইন ক্যাপাসিটি’ অথবা ‘গ্রস মিসকন্ডাক্ট’Ñ এ দুটো বিষয় বলা আছে সংবিধানে। আমাদের কথা হল, এর বাইরেও অনেক বিচারপতি শত শত মামলার রায় না লিখে অবসরে চলে যান। এছাড়া আদালতে বসে অনেক রকম কটূক্তি করেন বা এমন এমন বক্তব্য রাখেন যেগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের ব্যক্তিগত আচার-আচরণও নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

টিএইচ খানের বক্তব্য শেষে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বক্তব্য দেন। তিনি একটি প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘তোরে জজ বানাইছে কেডা’Ñ পত্রিকায় এরকম দেখেছি। যারা সংসদে দাঁড়িয়ে এরকম কথা বলেন, তাদের হাতে এটা (বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা) ছেড়ে দেবেন? তখন জুডিশিয়ারির স্বাধীনতা থাকবে? সুপ্রিমকোর্টের জজ নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ নেই। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেছেন। কিন্তু স্পিকার টুঁ শব্দ করেননি। সবচেয়ে ক্লাসে হচ্ছেন আপনারা (বিচারক)। শিক্ষা-দীক্ষায়-সম্মানে আপনারা ক্লাসে। আপনাদের সম্মান থাকবে না? বিচার বিভাগে স্বাধীনতা থাকবে না? তারা (সাংসদরা) আপনাদের নিয়ে এ রকম মন্তব্য করেন?

তিনি আরও বলেন, সিভিল সার্ভিসের ব্যক্তিদের কারা অপসারণ করে? পুলিশকে কারা করে? সেক্রেটারিদের কারা করে?Ñ আপনি? সংসদ? কেউ না। তাদের ঊর্ধ্বতনরা রিমুভ করেন। অর্থাৎ সহকারী সচিবদের তদন্ত করেন যুগ্ম সচিবরা। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। মিলিটারিদেরটা তাদের ডিসিপ্লিনারিতে আছে। তাহলে আপনাদেরটা কেন পার্লামেন্টে যাবে। সচিব, পুলিশÑ এদেরটা তো সংসদে যাচ্ছে না। তাহলে বিচারকদেরটা কেন? সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল না থাকলে এখানে অরাজকতা হবে। আর এটা (ষোড়শ সংশোধনী) যদি হয়ে যায়, তাহলে হাইকোর্টের জজদের তো আপনি (প্রধান বিচারপতি) কিছু বলতে পারবেন না। ওনারা যদি বেলা ১১টায় আসেন তখনও কিছুই বলতে পারবেন না। অথবা খাস কামরায় কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যখন কথা বলবেন, তখন সংসদ কি দেখবে?

এটা সংসদ জানবেও না। তাকে (সংসদকে) কে জানাবে?

শুনানির সবশেষে অসমাপ্ত বক্তব্য তুলে ধরেন সংবিধান প্রণেতা ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ উত্থাপন হয় তাহলে জুডিশিয়ারি তদন্ত হবে এবং সুপ্রিমকোর্ট জুডিশিয়াল কাউন্সিল এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে আন্তর্জাতিকভাবে যেসব আইনকানুন রয়েছে, জাতিসংঘ থেকে শুরু করে ইউরোপ বা কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে যেসব রুলস দেখা যাচ্ছেÑ সব জায়গায় এখন জুডিশিয়ারি যে কম্পিটেন্স এবং তাদের যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং তাদের যদি কোনো ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন প্রয়োজন হয় সেটা তারা নিজেরাই করবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানেও সে রকম একটা পদ্ধতি চালু আছে যা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। সুতরাং তারাই এটা বিবেচনা করবে। পার্লামেন্টারি রিমুভাল কোনো দেশেই কার্যকর হতে পারছে না। ভারত, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়াতেও না। সেখানে এ নিয়ে আরও বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয়।’

সংবিধান প্রণেতা ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘সারা দুনিয়াজুড়ে আমরা যে অবস্থা দেখছি, তাতে বিচারকদের অসদাচরণের কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে সেটি জুডিশিয়ারি ঠিক করবেন। সেটিই হবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের যেসব অভিজ্ঞতা আছে, সেগুলো আমি তুলে ধরেছি। এখন এটির বিবেচনার বিষয় আদালতের।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছি। এখন মতামত দেবেন আদালত। বেশিরভাগ দেশই সংসদ থেকে ফিরে এসেছে। তারা জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ওপরই দায়িত্ব দিয়েছে। যদি কোনো জাজ ভুল করেন, তার বিচার জুডিশিয়ারিই করবেন।’

‘বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নের সময় আপনারা এটি সংসদের হাতে কেন দিয়েছিলেন’Ñ এমন প্রশ্নের উত্তরে এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘তখন তো আমরা জুডিশিয়ারি গড়ে তুলতে পারিনি।

১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফেরার পর আমাদের প্রধান বিচারপতি কে হবেন তা খুঁজতে থাকি। ১১ জানুয়ারি আমরা প্রধান বিচারপতি খুঁজছি। কাউকে তো শপথ নিতে হবে।’ ‘প্রধান বিচারপতি হিসেবে সায়েমকে নিয়ে এলাম।

পরবর্তী পর্যায়ে তিনি তো সামরিক শাসকের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট হয়ে গেলেন। সময়ের কারণে সে সময়ে আমরা জুডিশিয়ারি গড়তে পারিনি। তখন আপাতত সংসদের হাতে দিয়েছি। কেননা, তখন সংসদ ছাড়া আর কিছু গড়ে ওঠেনি।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button