খেলাধুলা

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ৫ বোলার

ঢাকা,২৯ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

১৯৯৮ সালে অভিষেক হওয়ার পর আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ৭টি আসর দেখে ফেলেছে ক্রিকেট বিশ্ব। টুর্নামেন্টে ব্যাটসম্যান-বোলার সকলেই নৈপুণ্য দেখিয়ে নজর কেড়েছেন। অনেকের পারফর্মেন্সই জায়গা পেয়েছে রেকর্ড বইয়ে। ১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অষ্টম আসর মাতাতে প্রস্তুত ক্রিকেট বিশ্ব।  অষ্টম আসরের রেকর্ড যুক্ত হওয়ার আগে জেনে নিন প্রথম ৭টি টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ৫ বোলারদের সম্পর্কে :

১. কাইল মিলস (নিউজিল্যান্ড) ১৫ ম্যাচে ৪৮৩ রানে ২৮ উইকেট : ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথমবারের মত খেলার সুযোগ পান নিউজিল্যান্ডের ডান-হাতি পেসার কাইল মিলস। ঐ আসরে পুল পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তার দল নিউজিল্যান্ড। যে কারণে মাত্র ২ ম্যাচ খেলার সুযোগ পান তিনি। এরপর ৪টি আসরেই অংশ নেন মিলস। ঐ ৪ আসর থেকে ২৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। ফলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ শিকারী মিলস। তার সেরা বোলিং ফিগার ৩০ রানে ৪ উইকেট। ২০১৩ সালের সর্বশেষ আসরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজের সেরা বোলিং ফিগার দাঁড় করান ব্ল্যাক-ক্যাপসদের হয়ে ১৭০ ম্যাচে ২৪০ উইকেট শিকারী মিলস।

২. মুত্তিয়া মুরালিধরন (শ্রীলঙ্কা) ১৭ ম্যাচে ৪৮৪ রানে ২৪ উইকেট : শ্রীলঙ্কা স্পিন লিজেন্ড মুত্তিয়া মুরালিধরন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ১৭ ম্যাচে ২৪ উইকেট শিকার করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। তার ইকোনমি রেট ওভারপ্রতি ৩ দশমিক ৬। ২০০২ সালে নিজের তৃতীয় আসরে সেরা বোলিং ফিগার দাঁড় করান মুরালি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৫ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নেন তিনি।

ঐ আসরে তার দুর্দান্ত বোলিং নৈপুন্যে টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে শ্রীলঙ্কা। অবশ্য পরে বৃষ্টির কারণে ভারতের সাথে শিরোপা ভাগাভাগি করতে হয় লঙ্কানদের। ঐ আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন তিনি। ৫ ম্যাচে ১০ উইকেট নেন এই চ্যাম্পিয়ন স্পিনার। ২০০৬ আসরে ৬ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন মুরালিধরন। তবে ২০০৯ সালে একেবারেই ব্যর্থ ছিলেন তিনি। গ্রুপ পর্বে ২ ম্যাচে অংশ নিয়ে মাত্র ১ উইকেট নেন টেস্টে ৮০০, ওয়ানডেতে ৫৩৪ ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৩ উইকেট শিকারী মুরালি।

৩. লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা) ১৩ ম্যাচে ৫৮৭ রানে ২২ উইকেট : বিশ্ব ক্রিকেটে ইর্য়কারদের রাজা বলা হয় ডান-হাতি পেস বোলার শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গাকে। গত এক যুগ ধরে শ্রীলঙ্কার পেস আক্রমনের ভরসার প্রতীক তিনি। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেকোন পরিস্থিতিতে বোলিং করার সামর্থ্য রয়েছে তার। তবে গেল কয়েক বছর ধরে ইনজুরি খুব সমস্যা করেছে মালিঙ্গার ক্যারিয়ারে। তার পরও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের দিক দিয়ে তৃতীয়স্থানে রয়েছেন মালিঙ্গা।

১৩ ম্যাচে ২২ উইকেট শিকার রয়েছে তার। তার সেরা বোলিং ফিগার ৩৪ রানে ৪ উইকেট। ২০০৬ আসরটি ছিলো তার ক্যারিয়ার সেরা। ৬ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে পরের দুই আসরে বল হাতে নিজের সেরাটা দিতে পারেননি মালিঙ্গা। ২০০৯ সালে ৩ ম্যাচে ৪ ও ২০১৩ সালের আসরে ৪ ম্যাচে ৭ উইকেট নেন মালিঙ্গা।

৪. ব্রেট লি (অস্ট্রেলিয়া) ১৬ ম্যাচে ৫৯১ রানে ২২ উইকেট : আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় শ্রীলঙ্কার পেসার লাসিথ মালিঙ্গার সমান ২২ উইকেট রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার স্পিড স্টার ব্রেট লিরও। অবশ্য এজন্য তিনি খেলেছেন ১৬ ম্যাচ।

গতি ও বাউন্সারে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট ছিলেন লি। অস্ট্রেলিয়ার আরেক পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রার সাথে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বহু ম্যাচে বোলিং উদ্বোধন করেছেন তিনি। তার সেরা বোলিং ফিগার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৮ রানে ৩ উইকেট। ২০০২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐ ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন লির বোলিং সঙ্গী ম্যাকগ্রা। দুই পেসারের ৮ উইকেট শিকারে পুল পর্বে নিউজিল্যান্ডকে ১৬৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পাঁচটি আসরে খেলতে পেরেছেন লি। ২০০৬ ও ২০০৯ সালের আসরে ৫ ম্যাচে ৬টি করে উইকেট নিয়েছেন তিনি। ২০০০ সালে প্রথম চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে নামেন লি। ঐ আসরে মাত্র ২ উইকেট নিলেও, পরের দুই আসরে যথাক্রমে ৫ ও ৩ উইকেট নেন লি।

৫ গ্লেন ম্যাকগ্রা (অস্ট্রেলিয়া) ১২ ম্যাচে ৪১২ রানে ২১ উইকেট : ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা পেসার অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রা। বলের গতি ও ধারাবাহিকভাবে লাইন-লেন্থ বজায় রেখে পুরো ক্যারিয়ার সম্পন্ন করেছেন তিনি।  আধুনিক যুগে জেসন গিলেস্পি, ব্রেট লি, শেন ওয়ার্নের সাথে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং অ্যাটাকের যোদ্ধা ছিলেন ম্যাকগ্রা।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ১২ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ শিকারে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন ৪৭ বছর বয়সী ম্যাকগ্রা। তার সেরা বোলিং ফিগার ২০০২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭ রানে ৫ উইকেট। তার দুর্দান্ত নৈপুন্যে ঐ ম্যাচে বড় জয়ের স্বাদ পায় অস্ট্রেলিয়া। তবে ঐ আসরের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় অসিরা।

২০০০ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথম অংশ নেন ম্যাকগ্রা। এরপর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আরও তিনটি আসরে খেলেন তিনি। নিজের প্রথম আসরে উইকেটশুন্য ছিলেন ম্যাকগ্রা। তবে পরের আসরে দুর্দান্তভাবে ঘুড়ে দাঁড়ান তিনি। পরের আসরে ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট নেন এই পেসার।

২০০৪ সালে ৩ ম্যাচে ম্যাকগ্রার শিকার ছিলো ৩ উইকেট। ২০০৬ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলেন। ৫ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে নিজের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ক্যারিয়ার শেষ করেন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button