জাতীয়

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে প্রতিনিধিদল পাঠাবে ভিয়েনা

ঢাকা,৩১ মে, (ডেইলি টাইমস ২৪):

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের দ্রুত সাড়া হিসেবে অস্ট্রিয়া সরকার দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার খাতসমূহ নির্ধারণে আগামী মাসে ঢাকায় একটি সরকারি প্রতিনিধিদল পাঠাবে।

দু’দেশের পররাষ্ট্র দফতরের মধ্যে আলোচনার জন্য আগামী মাসে অস্ট্রিয়ার ভাইস মিনিস্টারের (পলিটিক্যাল) নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে। পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক আজ বুধবার এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অস্ট্রিয়ার ফেডারেল চ্যান্সেলর ক্রিস্টিয়ান কের্ন এর আনুষ্ঠানিক আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত দু’দেশের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সম্মেলনে যোগ দিতে ৩০ থেকে ৩১ মে ভিয়েনা সফর করেন।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর এটাই ছিল বাংলাদেশের কোনো সরকার প্রধানের প্রথম অস্ট্রিয়া সফর। এই সফরের মধ্যে দিয়ে দু’দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে জানান শহিদুল হক।

তিনি বলেন, অস্ট্রিয়ার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে অর্থনীতি ও বাণিজ্য সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সহায়তা এবং সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসনসহ অনেক বৈশ্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

শেখ হাসিনা অস্ট্রিয়ার ফেডারেল প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভ্যান্ডার বিলেনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী চ্যান্সেলরের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনা করেন। অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিষয়ে শেখ হাসিনার অভিমত ও এ অপরাধ দমনে বাংলাদেশের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ছিলেন।

এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সামরিক কায়দায় এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এই সমস্যার মূল কারণ উদঘাটন করে এর মোকাবেলায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন স্থানে দ্বন্দ্ব সংঘর্ষের কারণে শরণার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি চলতি মাসে রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব ইসলামিক আমেরিকান সম্মেলনে স্লাফার্ড অস্ত্র সরবরাহের চেইন বন্ধ করা এবং এ ব্যাপারে উন্নত দেশগুলোর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে তাঁর উত্থাপিত প্রস্তাবের উল্লেখ করেন।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদীদের অর্থায়ন বন্ধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুসলমানদের বিভেদ আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করতে হবে।

বৈঠকে দুই নেতা জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের ব্যাপারে আলোচনা করেন। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার অন্যান্য প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কথা উল্লেখ করে আরো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে আইএইএ’র সহযোগিতা কামনা করেন।

শহীদুল হক বলেন, অস্ট্রিয়ার নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে ফেডারেল প্রেসিডেন্ট জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে সহায়তার জন্য তাদের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন।

তবে এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে প্যারিস সমঝোতার ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আইএইএ’র চেয়ারপার্সন রাষ্ট্রদূত তেবোগো সিকোলো চলতি বছরের ১ জুন ৩ দিনের সফরে ঢাকা আসবেন। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শন এবং আইএইএ’র সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপারে আলোচনা করবেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী আইএইএ’র সঙ্গে বাংলাদেশের পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক যকিয়ো আমানোর সঙ্গে বৈঠক করেন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button