লাইফস্টাইল

ধূমপানের নেশা থেকে মুক্তির উপায় জেনে নিন

ঢাকা, ০২ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

আসুন আমরা সিগারেট-ফ্রি জীবন কাটাই। কিন্তু কীভাবে সম্ভব? সেটাই জানালেন বিশিষ্ট চিকিৎসকরা।

সুখটানে অসুখ
ধূমপান সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে ফুসফুসে। যা থেকে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমার সমস্যা খুব বেড়ে যায়। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় হার্টও। ধূমপান হার্ট রেট বাড়ায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে, পেশির মধ্যে রক্ত, অক্সিজেন ঠিক মতো পৌঁছয় না। যে কোনও বয়সিদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের একটি বড় কারণ ধূমপান। বর্তমানে ক্যানসারের সবচেয়ে বড় কারণ ধূমপান। টানা ২০ বছরের বেশি সময় দিনে ১-২টি করে সিগারেট খেলে ফুসফুস ক্যানসার হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘদিন ধূমপানের জন্য সিওপিডি, ক্রনিক ব্রংকাইটিস এর সমস্যা দেখা দেয়। ‌ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ধূমপান করলে সদ্যোজাতর সঠিক বৃ‌দ্ধি হয় না। শিশুর নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। বেশি ধূমপান করলে খিদে কমে, পেটে আলসার হতে পারে। ধূমপানের অভ্যাস মারাত্মক ক্ষতি করে অল্পবয়সীদের। মানসিক অবসাদ বাড়তে থাকে। খিদে কমায় ওজন কমে, ঘনঘন কাশি, শ্বাসকষ্ট হয়। সাইনাসের সমস্যা দেখা যায়।   নারীদের ধূমপানে ঋতুস্রাব স্বাভাবিক হয় না।

সর্বনাশা নেশা
সিগারেট বা তামাকের নিকোটিন সরাসরি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্কের ডোপামিন (স্নায়ু উদ্দীপক) কেমিক্যালকে বেশি মাত্রায় উদ্দীপিত করে। এই কেমিক্যাল অনুভূতি, আবেগ, মোটিভেশন, সুখ বুঝতে সাহায্য করে। ধূমপানের মাধ্যমে নিকোটিন রক্তে মেশে। যতক্ষণ নিকোটিন শরীরে বা রক্তে বেশি থাকে ততক্ষণ ব্রেন উদ্দীপিত থাকে। মন ভাল হয়, চাপ কমে। সেই কারণে ধূমপান থেকে মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়। তবে নিকোটিন শরীরে খুব কম সময় পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ফলে একবার ধূমপান করার পর যখনই তার প্রভাব শরীর থেকে কমতে থাকে তখন আবার ধূমপান করার ইচ্ছা জাগে। এই ভাবেই আস্তে আস্তে ধূমপানে আসক্তি বাড়ে। নিকোটিন মন ভাল করলেও এরসঙ্গে আরও অনেক বিষাক্ত কেমিক্যাল শরীরে প্রবেশ করিয়ে দেয়, যা থেকে একাধিক অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি হয়।

ধূমপায়ীর আশপাশে থাকাও বিপজ্জনক
যে ধূমপান করবে তার যেমন ক্ষতি তেমনই ক্ষতি চারপাশে থাকা মানুষদেরও। বিশেষ করে শিশুদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। প্রেগন্যান্ট মহিলাদের সামনে ধূমপান শুরু করলে সদ্যোজাতের ওজন খুব কম হয়। বড়দের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিং থেকে ফুসফুস ইনফেকশন, সর্দি, শ্বাসকষ্ট হয়। বিষাক্ত কেমিক্যাল শরীরে প্রবেশের মাত্রা সবচেয়ে বেশি সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিং-এ। যা হার্টের অসুখের সম্ভাবনা বাড়ায়। হতে পারে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেল, স্ট্রোক।

মুক্তির উপায় জেনে রাখুন
১. বন্ধু কিংবা সহকর্মী যতই একটা সিগারেট খেতে অনুরোধ করুক শুনবেন না। সহকর্মীকেও ধূমপান ছাড়ার জন্য বোঝান। যদি ধূমপান না করে কোনওভাবেই থাকতে না পারেন তা হলে চেষ্টা করুন যাঁরা ধূমপান করে না তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে।
২. অবসর সময়ে বই পড়ে, গান শুনে ও হাঁটতে গিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
৩. মুখ ও হাত ব্যস্ত রাখতে মুখে চুইংগাম রাখুন, হেলদি স্ন্যাক্স খান। ভিডিও গেম খেলুন।
৪. খাওয়া শেষ হলে তাড়াতাড়ি টেবিল ছেড়ে উঠুন। তারপর নিজের যে কাজ করতে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে সেই কাজ করুন। তবে সিগারেট নয়।
৫. যে পরিমাণে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে তা দ্রুত কমান। যে কাপে ও যে জায়গায় গিয়ে চা খান সেটা বদলান। নতুন অভ্যাস শুরু করুন।
৬. গাড়িতে ধূমপান কখনোই নয়। গাড়ি অ্যাসট্রেতে নোট রাখুন, ‘স্মোকিং ইজ ইনজ্যুরিয়াস টু হেলথ। ‘
৭. পার্টিতে গেলে স্মোকিং জোন থেকে দূরে থাকুন। ইচ্ছে ও মনের জোরকে বেশি গুরুত্ব দিন।
৮. সিগারেট না খেয়ে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি করলে উপকার বেশি। এতে শরীরে নিকোটিনের চাহিদাও মেটে ও সিগারেটের প্রতি আসক্তিও কমে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button