জাতীয়

বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণ: সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে

ঢাকা, ০৩ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক পরীক্ষায় কোনো আলামত পাওয়া না গেলেও সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস ফরেনসিক) রুমানা আক্তার সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় সিআইডির ফরেনসিক প্রতিবেদন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।’

তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে মামলায় জব্দ করা বিভিন্ন আলামতের পরীক্ষা করা হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরীক্ষাগারে। ধর্ষণের শিকার একজন শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত পোষাক ও ধর্ষণে জড়িত মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে হালিমের নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার ম্যাচিং রিপোর্টও পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, আসামিদের কাছ  থেকে জব্দ করা ৬টি মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনও হাতে পেয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এছাড়া দ্য রেইনট্রি  হোটেল থেকে জব্দ করা সিসিটিভি সার্ভার মেশিন ও হোটেলে অবস্থানের নথিপত্রও তারা পরীক্ষা করেছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযোগ প্রমাণে পুলিশের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে। তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১৯ জুনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার নির্দেশে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত সহায়ক কমিটির প্রধান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘তদন্তে ইতোমধ্যে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তাতে প্রমাণিত হয় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তাই অভিযোগ প্রমাণে আমাদের কোনো অসুবিধাই হবে না। ’

গত ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণী। এ ঘটনার ৪০ দিন পর ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন এক তরুণী।

এজাহারভুক্ত অপর চার আসামি হলেন-পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক ও রেগনাম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ, সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ (আবদুল হালিম), গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ (রহমত)।

পাঁচ আসামিকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমানে তারা কারাগারে আটক রয়েছে। এদের মধ্যে সাফাত আহমেদ, সাদমান সাকিফ, নাঈম আশরাফ ও বিল্লাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button