আলোচিত সংবাদ

গরুর মাংসের বাজারে প্রতারণা: ব্যানারে ৪৭৫, বিক্রি ৫০০ টাকায়

ঢাকা, ০৩ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

রমজানে রাজধানীর গরুর মাংসের দোকানগুলোতে শুরু হয়েছে নতুন প্রতারণা। দোকানের সামনে ও দেওয়ালে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত প্রতিকেজি গরুর মাংসের দাম ৪৭৫ টাকা লেখা ব্যানার বা কাগজের স্লিপ লাগানো থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। রমজানের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোশেন নির্ধারিত ৪৭৫ টাকা কেজি দরে কোথাও গরুর মাংস বিক্রি করতে দেখা যায়নি। রাজধানীর শান্তিনগর, শাজাহানপুর, খিলগাঁও গোরান, মিরপুর, শ্যামলী ও সেগুন বাগিচার মাংসের দোকানগুলোয় সিটি করপোরেশন নির্ধারিত মাংসের দরের চার্ট টানানো হলেও ৫০০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিটি করপোরেশন থেকে যদি ৪৭৫টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করতে বাধ্য করে, তাহলে তাদের ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। তারা জরিমানা দিতে ব্যবসা করতে পারবেন না বলেও জানান।

সেগুন বাগিচা হাই স্কুলের সামনের গলির মাংস ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেনের দোকানের গায়ে সিটি করপোরেশনের দর (দেশি গরুর মাংস সর্বোচ্চ প্রতিকেজি ৪৭৫ টাকা, আদেশক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন) লেখা স্লিপ লাগানো রয়েছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়। কারণ জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের দরে গরুর মাংস বিক্রি করা সম্ভব নয়। কারণ আমাদের প্রতিকেজি মাংসের খরচই পড়ে ৪৮০ টাকার ওপরে। এ অবস্থায় আমরা ৪৭৫ টাকা দরে কিভাবে বিক্রি করব?’ আরেক  প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘প্রশাসনের বাড়াবাড়িতে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছেন। সারাদিন ব্যবসা করে লাভ হয় না ৫০০ টাকা। সেখানে যদি জরিমানা দিতে হয় ৫০হাজার টাকা। তাহলে কে ব্যবসা করবে বলেন?’

একই চিত্র দেখা গেছে শান্তিনগর বাজারে। সেখানকার মাংস ব্যবসায়ী রউফ খান বলেছেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘দাম দিয়ে গরু কিনি। বিক্রি করে সেই দাম যদি না ওঠে, তাহলে আমরা কি চুরি করে খাব? না ডাকাতি করব? সবসময় আইন দিয়ে দেশ চলে না। বাজারের বাস্তবতা ভিন্ন।’

শাজাহানপুরের হালাল মিট নামের দোকানের মাংস বিক্রেতা আবদুল কাদের বলেছেন, ‘গাবতলী বাজারে চলছে সরকার দলীয় ইজারাদারদের মাস্তানি। সেই মাস্তানির খেসারত দেই আমরা। ১০০ টাকার খাজনা দেই ৫ হাজার টাকা। দাম কমিয়ে বিক্রি করব কিভাবে?’

মিরপুর পাইকপাড়ার মাংস ব্যবসায়ী গোলাম রসুল টেলিফোনে বলেন, ‘সিটি করপোরেশন থেকে যদি ৪৭৫ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস বিক্রি করতে বাধ্য করে, তাহলে আমাদের ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। আমরা তো জরিমানা দিতে পারব না।’

এদিকে ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সংস্থার পক্ষ থেকে বজারে মনিটরিং চলছে। কোথাও অনিয়ম হলে জরিমানাও করা হচ্ছে। ৪৭৫ টাকা সব দিক বিবেচনায় নিয়ে মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেই ঠিক করা হয়েছে। এখন চিল্লাচিল্লি করলে চলবে না।’

তবে রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত দরের ব্যানার অনেক দোকানেই লাগানো হয়নি। তবে বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম দাবি করেছেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার দোকানগুলোয় ব্যানার লাগানো হয়েছে।’ তিনি আবারও বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার দোকানে নির্ধারিত মূল্যের ব্যানার লাগানো সম্ভব হয়নি। তারা আমাদের সহায়তা করছে না। ’

রমজানের ৫ম দিন শুক্রবারও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। সুযোগ বুঝে অনেকে ৫১০/৫২০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করেছেন। মাংস ব্যবসায়ী সমিতির দাবি, রাজধানীর অনেক স্থানেই ৪৮০ টাকা কেজি দরেও মাংস বিক্রি হয়েছে।’ রবিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সমিতির অনেকেই ৪৭৫ টাকা কেজি দরেও গরুর মাংস বিক্রি করেছেন।

জানতে চাইলে মাংস ব্যবসায়ী নেতা রবিউল আলম জানিয়েছেন, ‘রাজধানীর সব মাংস ব্যবসায়ী সিটি করপোরেশন নির্ধারিত দরে গরুর মাংস বিক্রি করেনি। অনেক মাংস ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দরের বেশি দামে গরুর মাংস বিক্রি করেছে। আমরা আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে রাজধানীর সব মাংসের দোকানে নির্ধারিত দামের ব্যানার লাগাতে পারিনি। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সহায়তা করলেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কোনও সহায়তা করছে না।’

রবিউল আলম বলেন, ‘আমরাবিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করছি।  সমিতির ব্যবসায়ীদের বলেছি, আপনারা সরকার নির্ধারিত দরে গরুর মাংস বিক্রি করুন। যেকোনও সময় হয়তো ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামবে। তখন যদি কোনও ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দরে মাংস বিক্রি না করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ দোষী সাব্যস্ত করলে আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে কিছু বলার থাকবে না।’ তিনি আবারও সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে, অন্যদিকে পশুর হাটের ইজারাদারের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করতে হবে।’

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button