মুক্তমত

বাজেট ২০১৭-১৮

ঢাকা, ০৩ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। গতবারের মতো এবারের বাজেটকেও উচ্চাভিলাষী আখ্যায়িত করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকার দুর্বল অর্থনৈতিক ভিত্তির বাজেট ঘোষণা করায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। কাজেই এটি একটি বাস্তবায়ন অযোগ্য বাজেট। দেখা যায়, প্রতি বছর অনেক বড় বাজেট দেয়া হয়। সন্দেহ নেই, এর মধ্যে ‘লোক দেখানো’ একটি প্রবণতা থাকে, যে বৃত্ত-বলয় থেকে এবারও বের হতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। এ কথা সর্বজনবিদিত, উন্নয়ন বাজেটের বিশাল আকার থাকলেও বছর শেষে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়। এবারের বাজেটও এ ছক থেকে বের হতে পারবে না বলেই মনে হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ীদের কয়েকটি দাবি ছিল। দুঃখজনক হল, বাজেটে এসব দাবির কোনো প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়নি। বিশেষ করে ভ্যাট ১৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ বাড়বে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দেখা দেবে।

বস্তুত ঘোষিত বাজেটকে এক ধরনের ‘মিশ্রণ’ হিসেবে অভিহিত করা চলে- যেখানে কিছু উচ্চাভিলাষ আছে, আছে সাহসী পদক্ষেপ, আবার একই সঙ্গে রয়েছে উদাসীনতাও। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাজেট বাস্তবায়নের সঙ্গে রাজস্ব আদায়, অর্থ ব্যয় ও ঘাটতি অর্থায়ন- এ তিনটি বিষয় জড়িত। এবার রাজস্ব আদায়ে সাড়ে ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। এ কথা ঠিক, চলতি অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কিছুটা বাড়বে; তবে লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলেই মনে হয়। এছাড়া বাজেটে ঘাটতি অর্থায়ন মেটাতে বৈদেশিক অর্থায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৮০ শতাংশ। এ লক্ষ্য পূরণ করতে হলে অবশ্যই পাইপলাইনে জমে থাকা ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে অন্তত ৩০ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করতে হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে এ হার ১৫-১৬ শতাংেশর ঘরে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা প্রস্তাবিত বাজেটের সামনে অন্তত চারটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। এগুলো হল, রফতানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, রেমিটেন্সে ধস, কর্মসংস্থান না হওয়া এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা। উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার পর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগবান্ধব নয় বলে মন্তব্য করেছে।

এবারের বাজেটে বিনিয়োগ প্রতিবন্ধকতা দূর হবে, এমন প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। বলা চলে, এবারের বাজেট দেশের শিল্পোদ্যোক্তাসহ সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীকে হতাশ করেছে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা তাদের বিশ্লেষণেও এ হতাশার কথা ব্যক্ত করেছেন। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হলে নতুন শিল্প যেমন গড়ে উঠবে না, তেমনি চলমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও সম্প্রসারিত হবে না। এর ফলে কর্মসংস্থানের পথ সংকুচিত হবে, যা মোটেই কাম্য নয়। বিনিয়োগের মন্দাভাব কাটাতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারকে অবশ্যই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। বিনিয়োগ, বিশেষ করে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা দরকার, সেগুলো উপেক্ষিত হলে কীভাবে বাজেটের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ হবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button