খেলাধুলা

পাকিস্তান-ভারত ম্যাচে স্মরণীয় স্লেজিং

ঢাকা, ০৪ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

পাকিস্তান-ভারত ২২ গজে মুখোমুখি মানেই ধুন্ধুমার লড়াই। এই লড়াই, এই ম্যাচের উত্তেজনা যে কোন উচ্চতায় পৌঁছায়, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আর উত্তেজনার পারদ যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন মাঠে ব্যাটে-বলের লড়াইয়ের পাশাপাশি কথার যুদ্ধও হবে।

এই হাইভোল্টেজ দ্বৈরথে চারটি স্মরণীয় স্লেজিংয়ের ঘটনা তুলে ধরা হল।

জাভেদ মিয়াঁদাদ বনাম কিরণ মোরে
মিয়াঁদাদ কোনো কালেই চুপ থাকার পাত্র নন। সেসময় পাকিস্তান দলের এক বিখ্যাত চরিত্র। ১৯৯২ বিশ্বকাপে কিরণ মোরে ক্রমাগত উত্ত্যক্ত করছিলেন মিয়াঁদাদকে। কট বিহাইন্ডের আবেদন করা থেকে এ বিতর্কের শুরু। বল ব্যাটের অনেক দূর দিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও মোরে আবেদন করেন। মিয়াঁদাদের ব্যাপারটা পছন্দ হয়নি। মোরেকে সরাসরি গিয়ে বলেন। আম্পায়ারকেও জানান, মোরে ক্রমাগত বিরক্ত করছেন। পরের বলেও একইভাবে মোরে আবেদন জানাতে শুরু করেন। যদিও মিয়াঁদাদ ক্রিজের মধ্যেই ছিলেন। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়। রাগের চোটে মিয়াঁদাদ ক্রিজের মধ্যেই লাফাতে থাকেন। মোরেকে নকল করে। মিয়াঁদাদকে স্লেজিং করে রাগিয়ে দিতে সেবার যে পুরোপুরি সফল হয়েছিলেন মোরে, তা ওই লাফানোতেই প্রমাণ।

বেঙ্কটেশ প্রসাদ বনাম আমির সোহেল
প্রসাদ স্বভাবে শান্ত। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের উত্তেজনা থেকে তিনি নিজেকে দূরে রাখতে পারেননি। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে ভারত প্রথমে ব্যাট করে ২৮৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল। পাকিস্তানের দুই ওপেনার আমির সোহেল আর সাঈদ আনোয়ার চালিয়ে খেলতে শুরু করেন। একের পর এক চার মারতে থাকেন আমির সোহেল। প্রসাদ বল করতে এলে আমির সোহেল খোঁচা দিয়ে বাউন্ডারির দিকে আঙুল তুলে ইঙ্গিত করেন, তোমার পরের বলটা বাউন্ডারির ঠিক ওই জায়গায় পাঠাব। কিন্তু প্রসাদ বোল্ড করে দেন সোহেলকে। তারপর? প্রসাদ আঙুল তুলে সাজঘরে যাওয়ার নির্দেশ দেন সোহেলকে। ওই প্রথম প্রসাদকে অতটা উত্তেজিত হতে দেখেছিল গ্যালারি।

কামরান আকমল বনাম গৌতম গম্ভীর
২০১০ এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল। আকমল হঠাৎ করেই চিৎকার করতে থাকেন কট বিহাইন্ডের। আকমলের এই অকারণে চিৎকার বরদাস্ত হয়নি গম্ভীরের। এগিয়ে যান আকমলের দিকে। ছাড়ার পাত্র নন আকমলও। একে অন্যের চোখে চোখ রেখে যুদ্ধ লাগে লাগে যখন, ঠিক তখনই ভারত অধিনায়ক ধোনি ও আম্পায়ার বিলি বাউডেন দু’জনকে শান্ত করেন।

হরভাজন সিং বনাম শোয়েব আখতার
এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের শেষ ওভারের আগের ওভারে বল করতে এসেছেন শোয়েব আখতার। ব্যাটসম্যান হরভাজন। পরপর দুটি ডট বল করার পর শোয়েব ভাজ্জির দিকে এগিয়ে গিয়ে কিছু কথা বলেছিলেন। লক্ষ্য ছিল রাগিয়ে দিয়ে হরভাজনের উইকেট তুলে নেয়া। কিন্তু শেষ ওভারে মোহাম্মদ আমিরের বলে সুরেশ রায়না আউট হলেও, ছয় মেরে ম্যাচটা ছিনিয়ে নেন হরভাজন। তারপর? হরভাজন যেভাবে হুঙ্কার ছেড়েছিলেন তা ভোলার নয়। শোয়েবকে কটাক্ষ করেই যে তিনি ওই হুঙ্কার দিচ্ছেন তা শরীরী ভাষায় ছিল স্পষ্ট।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button