আলোচিত সংবাদ

দেশে এখন সাড়ে ৮৩ লাখ সম্পদশালী!

ঢাকা, ০৪ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

দেশের ব্যাংকিং খাতে এখন এক লাখ টাকার ওপরে আমানত রেখেছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা ৮৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬ জন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে আমানত রেখেছেন ৮ কোটি ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৬ জন। তাদের মধ্যে এক লাখ টাকার ওপরে আমানত রেখেছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা ৮৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬। দেশের প্রেক্ষাপটে ১ লাখ টাকা যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে, তাদের সম্পদশালী মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি এই ব্যাংকগ্রাহকদের আমানতের ওপর আবগারি শুল্কহার বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের পর দিন শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকে যাদের এক লাখ টাকা রাখার সামর্থ্য আছে, তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পদশালী। এ কারণে তাদের ওপর বাড়তি কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা বাড়তি ভারটা বহন করতে পারবেন, সমস্যা হবে না।’

প্রসঙ্গত, প্রস্তাবিত বাজেটে, এক লাখ টাকার বেশি লেনদেনের ওপর আবগারি শুল্ক বিদ্যমান ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকে ১ লাখ টাকা থেকে ২ লাখ টাকা রেখেছেন, এমন ব্যক্তি এখন ৩৩ লাখ ৬২ হাজার ৯১৪। ২ লাখ টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা রেখেছেন, এমন ব্যক্তি ১৩ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৫। ৩ লাখ টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা রেখেছেন ৭ লাখ ৯১ হাজার ৮৯২।  ৪ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা রেখেছেন, এমন ব্যক্তি এখন ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬০৩ জন। ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা রেখেছেন, এমন ব্যক্তি এখন ১২ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, ব্যাংকগুলোতে ১০ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা রেখেছেন এমন ব্যক্তি এখন ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৭১২ জন। ২৫ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা রেখেছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩১জন। ৫০ লাখ টাকা থেকে ৭৫ লাখ টাকা আমানত রেখেছেন ৬০ হাজার ৫৩৯ জন। ৭৫ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা আমানত রেখেছেন ২৮ হাজার ৬৮৮ জন।

১ কোটি টাকা থেকে ৫ কোটি টাকার আমানত রেখেছেন, এমন ব্যক্তি রয়েছেন ৫১ হাজার ৭৮১ জন। ৫ কোটি টাকা থেকে ১০ কোটি টাকা রেখেছেন ৭ হাজার ৬৬৬ জন। ১০ কোটি টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা আমানত রেখেছেন ২ হাজার ৪২০ জন। ১৫ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকা রেখেছেন ১ হাজার ২১৪ জন। ৫০ কোটি টাকারও  বেশি আমানত রাখা ব্যক্তি রয়েছেন ৭৬৯ জন।

এদিকে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর সব কিছু ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে ব্যাংকের স্থায়ী আমানতে আবগারি শুল্ক আরোপের ইস্যুটি।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেসরকারি ব্যাংকে এক লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক (এক্সাইজ ডিউটি) যদি ৮শ টাকা কেটে রাখা হয় তাহলে সে কোনও লাভই পাবেন না। আর সরকারি ব্যাংকে কেউ এক লাখ টাকা তিন মাস মেয়াদে এফডিআর করলে মেয়াদ শেষে লাভের পরিবর্তে নিজের আসল টাকা থেকেই কম পাবেন গ্রাহক।

এ অবস্থায় অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অন্য কোথাও রাখার কথা ভাবছেন। এ প্রসঙ্গে বেসরকারি একটি অফিসের কর্মকর্তা জায়েদা আঁখি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী রবিবারই তিনি ব্যাংক থেকে তার টাকা উঠিয়ে অন্য কোথায় বিনিয়োগ করবেন।’

প্রসঙ্গত, বছরের যেকোনও সময় ব্যাংক হিসাবে এক লাখ টাকা ডেবিট কিংবা ক্রেডিট হলে এতদিন ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক কাটা হতো।  বৃহস্পতিবার  জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী এক লাখ টাকা ব্যাংকে লেনদেন করলেই তার ওপর ৮০০ টাকা শুল্ক প্রস্তাব করেন। আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কেউ ব্যাংকে টাকা রাখলে, তাকে আবগারি শুল্ক দিতে হবে ৮০০ টাকা, ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত কেউ আমানত রাখলে তাকে আবগারি শুল্ক আরোপ করা হবে ২ হাজার ৫০০ টাকা;  ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা অ্যাকাউন্টে রাখলে তার ওপর আবগারি শুল্ক আরোপ করা হবে ১২ হাজার টাকা। এছাড়া ৫ কোটি টাকার ওপরে ব্যাংকে টাকা রাখলে তাতে  আবগারি শুল্ক আরোপ করা হবে ২৫ হাজার টাকা।’

এ প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এমনিতেই আমানতকারীরা সুদহার কম পাচ্ছেন। এর সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখাও হচ্ছে। তার ওপর আবার শুল্কারোপ করা হলে আমানতকারীরা শঙ্কায় থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। ব্যাংকে টাকা রাখবে বলেই সরকার টাকা কেটে নেবে, এটা মেনে নেওয়া কঠিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে কর আরোপ করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। টাকার দরকার কিন্তু যে কোনোভাবে নয়।’ অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব কার্যকর হলে আমানতকারীরা ব্যাংকে টাকা রাখতে নিরুৎসাহিত হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button