জাতীয়

সফর বিলাসে সরকারি কর্মকর্তারা

ঢাকা, ০৫ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

সফর বিলাসে ভাসছেন দেশের সরকারি কর্মকর্তারা। সরকারি কর্মকর্তারা কখনো সরকারি অর্থে, কখনোবা দাতা সংস্থার অর্থে বিদেশ সফরে ব্যস্ত থাকছেন। মাসে একাধিকবার দাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা, সভা-সেমিনারে যোগদান কিংবা প্রশিক্ষণের অজুহাতে বিদেশ সফর করছেন এসব কর্মকর্তা। ফলে ঝুলে থাকছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাসের পর মাস অনেক সরকারি কর্মকর্তার টেবিলে পড়ে থাকছে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল।

জানা গেছে, বর্তমানে বিদেশে রয়েছে ১০টি টিম। দেশের বাইরে রয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ছয়জন সচিব। গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি টিম বিদেশ সফর করেছে।

সম্প্রতি হাওর অঞ্চল যখন পানিতে ডুবছে তখনো বিদেশ সফরে গিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হাওর উন্নয়ন অধিদফতরের কর্মকর্তারা। শুধু এ দফতরের কর্মকর্তারাই নন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা গত ১ বছরে ১৬ বার বিদেশ সফরের গিয়ে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সফরের নামে বিদেশে গিয়ে ওই কর্তা ব্যক্তিগত কাজ করেছেন।

সরকারি সফরের সময় ১০ দিন ধরে ৪ দিন সরকারি কাজ করে বাকি ৬ দিন করেছেন ব্যক্তিগত কাজ। ওই ৬ দিনও যুক্ত হয়েছে সরকারি সফরের তালিকায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের এক সচিবও বিদেশে থাকতে বেশ পছন্দ করেন। প্রতি মাসেই তিনি দু’বার সরকারি সফরের কথা বলে বিদেশে যান। অভিযোগ রয়েছে, যে কাজে তিনি বিদেশে যান, তাতে একজন যুগ্ম সচিব বা অতিরিক্ত সচিব গেলেও চলে। কিন্তু তাদের না পাঠিয়ে বার বার ওই কর্তা বিদেশ যান।

এদিকে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন মন্ত্রী, সচিবের পিএস এবং এপিএসরা। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে যে কোনো সফরের ফাইলে সম্মতি পেতে তাদের হাতে রাখেন কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রতি মাসেই একজন কর্মকর্তা সরকারি অর্থে একাধিকবার বিদেশে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, স্বাস্থ্য, জনপ্রশাসন, ত্রাণ ও দুর্যোগ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে।

এ ঘটনা বেশি ঘটছে বড় বড় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে। কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বিদেশ সফরে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের শেখ হাসিনার অসন্তোষের কথা জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের নীতিমালা সংশোধনের কাজ চলছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘কর্মকর্তারা শুধু বিদেশ সফরে ব্যস্ত- কথাটি ঠিক নয়। প্রশিক্ষণ বা সরকারি কাজে কর্মকর্তারা বিদেশে যাচ্ছেন। তবে কেউ যদি এ সুযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি নেন, তা হলে এটি খারাপ। কর্মকর্তারা যত দক্ষ ও অভিজ্ঞ হবেন, যত বেশি প্রশিক্ষণ পাবেন, প্রশাসনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

উল্লেখ্য, সংশোধিত নীতিমালায় প্রশিক্ষণসহ দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ওপর কঠোর শর্ত অরোপ করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কারণে তিন বছর পর ৩০ দিন এবং দাপ্তরিক কাজে বছরে চারবারের বেশি বিদেশ সফর করতে পারবেন না। বিদেশ সফরের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও বিধান থাকছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button