বিনোদন

‘একই ছবিতে দুজন পরিচালকের নাম থাকা একটা পলিটিক্স’

ঢাকা, ০৬ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

কুসুম শিকদার। নিজের ক্যারিয়ারে অভিনয়টা নিয়েই এখন সবচেয়ে মনোযোগী। যদিও সেই অর্থে নিয়মিত নন। তবে যখনই এসেছেন পর্দায় তখনই আলোচনা তৈরি করেছেন। কুড়িয়েছেন প্রশংসা। কথা বললেন  বিনোদন প্রতিদিনের সাথে।
কেমন আছেন?
বেশ ভালো আছি।
আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন-
আমি এখন একদমই ব্যস্ত নই। কাজের কোন ব্যস্ততা নেই। নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছি। পরিবার-আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে সময় পার করছি। বেশ ভালো অবসর কাটাচ্ছি।
সামনে ঈদ। নাটক/সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত শোবিজ অঙ্গন। ঈদকে ঘিরে আপনার কোন ব্যস্ততা নেই?
না। ঈদকে উপলক্ষ করে এখনো কোন কাজ করছি না। দেখা যাক… সবকিছু নিয়ে ব্যাটে বলে মিললে করবো। অনেক প্রস্তাব পেয়েছি, কিন্তু ব্যাটে-বলে  মেলেনি বলে অভিনয় করতে রাজি হইনি।
নতুন সিনেমায় আপনাকে কবে দেখতে পাবো?
একথাটার সঠিক উত্তর আমি দিতে পারবো না। আমি এমনিতেই একটা সিনেমার পর অনেক সময় বিরতি দিয়ে আরেকটা সিনেমায় কাজ করি। ‘গহীনে শব্দ’ শিরোনামের ছবিটিতে অভিনয় করেছিলাম ২০১০ সালে। এর দুবছর পরে অভিনয় করি ‘লালটিপ’ ছবিতে। লালটিপের তিন বছর পর অভিনয় করলাম ‘শঙ্খচিল’ ছবিতে। এতে বোঝাই যায় সিনেমায় আমাকে অনেক দিন পর পরই দেখা যায়। তাই সামনে কবে আমাকে সিনেমায় দেখা যাবে সেটা বলা মুশকিল।
ভারতের সাথে যৌথ প্রযোজনায় যে সিনেমাগুলো নির্মিত হচ্ছে, তার বেশিরভাগই নীতিমালা না মানা নিয়ে বিতর্কিত। এ প্রসঙ্গে বলুন-
আসলে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার সিনেমা বলতে- দুদেশের প্রযোজকরা সমান টাকা লগ্নি করে বানানো সিনেমাগুলোকে বোঝায়। এ সিনেমাগুলো নিয়ে আমাদের দেশে একটা নীতিমালা রয়েছে, যেটা কেউই মানছে না। আমাদের সবারই উচিত নীতিমালা মেনে কাজ করা। যৌথ প্রযোজনার এমন অনেক ছবি আছে, যেগুলোতে বাংলাদেশী কোন নায়ক-নায়িকা নেই, অথচ সেগুলো যৌথ প্রযোজনার ছবি হিসেবে বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে। কিন্তু ভারতে মুক্তি পাচ্ছে তাদের দেশীয় ছবি হিসেবে। এর প্রমাণ হচ্ছে, আমাদের দেশে যৌথ প্রযোজনার ছবিগুলোতে দুজন পরিচালকের নাম দেখা যায়, একজন বাংলাদেশী অন্যজন কলকাতার। কিন্তু কলকাতায় যদি একই ছবির পোস্টার দেখেন সেখানে দেখবেন শুধু কলকাতার পরিচালকের নাম আছে, বাংলাদেশী কোন পরিচালকের নাম নেই। বলা যায় এটা একটা পলিটিক্স! আমার অভিনিত ‘শঙ্খচিল’ সিনেমায় একজন পরিচালকের (গৌতম ঘোষ) নামই ছিলো, যদিও উনি কলকাতার। বাংলাদেশের কোন পরিচালকের নাম দেওয়া হয়নি ছবিটিতে। আসলে পরিচালনা তো করে একজন, একই ছবিতে দুজন পরিচালকের নাম থাকা মানে সেটা একটা পলিটিক্স।
যৌথ প্রযোজনার ছবিগুলোতে বাংলাদেশী শিল্পীদের উপস্থিতি কম থাকে। এ প্রসঙ্গে বলুন-
আগেই বলেছিলাম, অনেক ছবি আছে যেগুলোর মূল চরিত্রে বাংলাদেশী কোন অভিনেতা-অভিনেত্রিকে দেখা যায়নি। দু-এক হয়তো ফাঁকফোকরে অভিনয় করেছেন। এটা আসলে আমাদের শিল্পীদের সমস্যা। আমরা সবাই যদি এক থাকি তাহলে এটা দূর করা সম্ভব। ছবিতে কে আছে না আছে সেটা দেখেই অনেক সময় অনেকে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যায়, এ জিনিসটার প্রতি খেয়াল করা দরকার। আর বাংলাদেশ থেকে যারা প্রযোজনা করে তাদেরও তো খেয়াল করা উচিত আমাদের দেশের শিল্পীদের উপস্থিতির ব্যাপারটা। প্রযোজকরা চাইলে পারে। যৌথ সিনেমার নামে পলিটিক্স কারোর জন্যই সুফল বয়ে আনবে না।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button