সাক্ষাৎকার

জাগতিক কোনো পুরস্কারের লোভে হাফেজ হইনি: হেলাল উদ্দিন

ঢাকা, ০৭ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

হাফেজ হেলাল উদ্দিন- ২০১৫ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় ৭৩টি দেশে প্রতিযোগীদের মাঝে ৩য় স্থান অধিকার করেন তিনি। এছাড়া ২০১৫ সালে বাংলাভিশন টিভিতে অনুষ্ঠিত পুষ্টি কুরআনের আলো প্রতিযোগতায় প্রথম হন হেলাল। তার পিতার নাম হাফেজ মাওলানা আনুদ্দীন এবং মাতার নাম আলেমা মারুফা বেগম। হেলাল মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র। মুন্সীগঞ্জের নুরপর গ্রামে ২০০২ সালে জন্ম গ্রহণ করেন হাফেজ হেলাল। তার এই অমূল্য অর্জন ও হিফজ জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।

আপনি হাফেজ হওয়ার আগ্রহটা কীভাবে পেলেন?

হেলাল উদ্দিন: আমি ৪র্থ শ্রেণী পযর্ন্ত স্কুলে পড়েছি। এরপর আমার পরিবারের সকলেই চাইছিলেন আমি স্কুলেই পড়ব এবং ডাক্তার বা অন্যকিছু হব। কিন্তু আমার বাবা আমাকে ছোট ভাইদের সাথে আমাকে মাদরাসায় ভর্তি করে দেন। এরপর আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মানসিকতা নিয়ে বাবা-মায়ের দোআয় হেফজ সম্পন্ন করি।

আপনি একজন বাংলাদেশী হিসাবে এত বড় একটি অর্জন করেছেন। এই ক্ষেত্রে আপনার অনুভূতিটা কী?

হেলাল উদ্দিন: এই বিষয়টা যখনই আমি ভাবি তখনই আমার ভালো লাগে। আমাদের প্রতিযোগিতা শেষে গ্রুপ ছবি উঠানোর জন্য মক্কা শরীফের ইমাম ও খতিব জনাব সুদাইসী সাহেব আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন। আমার তখনও তাকে দেখে এক প্রকার ভয় করছিল। তারপর তার সাথে আমি মুসাফা করি। এই স্মৃতি সব সময়ই আমাকে আনন্দ দেয়। সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগে। এত বড় মানুষের সাথে আমি মোসাফাহা করেছি- আসলে সবই আল্লাহর রহমত। তিনি-ই আমাকে তার রহমত দ্বারা সম্মানিত করেছেন। আমি তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।

আপনার এই অর্জনের পিছনে কার বা কাদের অবদান সব থেকে বেশি?

হেলাল উদ্দিন: প্রথমে আমার ওপর আল্লাহর বিশেষ রহমত ছিল তাই আমি হাফেজ হতে পেরেছি। তারপর আমার উস্তাদদের মেহনত ছিল। আমার মা-বাবসহ মামা ও নানা-নানির পরিবারের সবার অনেক দোআ ছিল। এদের এই অবদানের কারণেই আমি আজ এখানে আসতে পেরেছি।

এই প্রতিযোগিতার কারণে আপনার অনেক হাফেজদের সাথে মেশার সুযোগ হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে আপনি কি বাহিরের হাফেজদের মধ্যে এমন কোনো গুণ পেয়েছেন যেই গুণগুলো বাংলাদেশি হাফেজদের মধ্যে নেই।

হেলাল উদ্দিন: নাইজেরিয়ার হাফেজদের দেখেছি তারা অনেক পরিশ্রম করতো। এতটা পরিশ্রম করতে আমি অন্য কাউকে দেখিনি। সেই সাথে তারা দোআর মাঝেও বেশি বেশি মশগুল থাকতো। আমরা সেই তুলনায় এই সকল কাজ অনেক কম করতাম। তাদের এই বিষয়গুলো আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।

ভবিষ্যতে আপনি কী হতে চান?

হেলাল উদ্দিন: আমি আলেম হতে চাই। তার থেকে বড় কথা হচ্ছে- আমি আল্লাহর জন্য কুরআনের খেদমত করতে চাই।

আপনারা বাংলাদেশের জন্য এত সম্মান বয়ে এনেছেন অথচ সরকারিভাবে আপনার কোনো মূল্যায়ন নেই। এটা আপনার কাছে কেমন লাগে। এই বিষয়ে আপনার অনুভূতিটা কী?

হেলাল উদ্দিন: প্রথম কথা হচ্ছে, আমি এই বিষয়টা নিয়ে এভাবে ভাবি না। আমি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু পাওয়ার আশাও করি না। আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে- আমি যে সম্মান পেয়েছি তার থেকে বেশি সম্মান কি সরকার আমাদের দিতে পারবে? পারবে না। আমি আল্লাহর ঘরের সামনে আল্লাহর ঘরের ইমামের হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছি। এর থেকে বড় কোনো সম্মান হয় না। জাগতিক কোনো পুরস্কার অর্জনের লোভে আমি হাফেজ হইনি। আমি হেফজ করেছি একমাত্র আল্লাহ মহানের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। তিনি খুশি থাকলে আর কিছুর প্রয়োজন নেই।

কেউ যদি ভালো হাফেজ হতে চায় তাহলে তার কি কি করা প্রয়োজন?

হেলাল উদ্দিন: সর্বপ্রথম তাকে যেটা করতে হবে সেটা হচ্ছে- আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোআ করতে হবে। উস্তাদ ও মা-বাবার কাছ থেকে দোআ নিতে হবে। এর সাথে সাথে তাকে প্রচুর মেহনত করতে হবে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button