অর্থ ও বাণিজ্য

‘আমার ৮৪ বছরের অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতার ভালো বাজেট’: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, ০৮ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এবারের বাজেট একটি অত্যন্ত ভালো বাজেট। আমার ৮৪ বছরের যে অভিজ্ঞতা, কর্মদক্ষতা বা ব্যর্থতা সবকিছু নিয়েই এই বাজেট তৈরি করেছি। তবে সম্পূরক বাজেটে সেরকম কৃতিত্ব দাবি করিনি।
গতকাল মঙ্গলবার সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের আলোচনার ওপর সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে কয়েকজন সদস্য ব্যাংক হিসাবের ওপর আবগারি শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবে যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের আমানতের উপর কর ধার্য নতুন কিছু নয়, এটা আগেই ছিল। আপনারা বহু বছর ধরে অনবরত দিয়ে যাচ্ছেন। আমি এবার করের হারটা একটুখানি বাড়িয়েছি।
দেশ থেকে টাকা পাচার রোধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ যে দাবি জানিয়েছেন, সেটির বিষয়ে মুহিত বলেন, টাকা পাচার রোধের প্রস্তাব অবাস্তব। অর্থ পাচার যেটা হয় সেটা বেআইনি, এটা রুদ্ধ করার সুযোগ নেই। তবে যেটা আমরা করতে পারি তা হচ্ছে পাচারের সুযোগ কমানো। এর অর্থ হচ্ছে কালো টাকা দেশে যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া। আমরা এ বিষয়ে কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছি। আগামী মাসের মধ্যেই এটা দেখা যাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কালো টাকাকে সাদা করার জন্য কোনো প্রস্তাব গত কয়েক বছর ধরে দিচ্ছি না। তবে নিয়মিতভাবে কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা প্রচলিত আইনে রয়েছে। ২০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দুই বছর ধরে বিদ্যমান আছে। এই ব্যবস্থা চালু থাকবে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার নিয়ে তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কিছুটা কমানো হবে। সাধারণত সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বাজারের সুদের হারের থেকে একটু বেশি রাখা হয়। তবে খুব বেশি রাখা ?উচিত নয়। আমাদের সামগ্রিক একটি হিসাব হল, মার্কেট ইন্টারেস্ট রেটের থেকে কমপক্ষে দুই শতাংশ বা তার বেশি রাখা দরকার। সেই অনুযায়ী এই রেট যথাসময়ে পুনর্নির্ধারণ করা হবে, এজন্য একটু সময় লাগবে।
‘আমি জাতীয় পার্টির সদস্যও ছিলাম না, মন্ত্রী তো দূরের কথা’:-
সম্পূরক বাজেটের উপর গত দু’দিনের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) একাধিক সদস্য বলেন ‘বর্তমান অর্থমন্ত্রী জাতীয় পার্টির সরকারেরও অর্থমন্ত্রী হিসেবে দুইবার সংসদে বাজেট দিয়েছেন, এমনকি সেই বাজেট অনেক ভালো ছিল।’ এর জবাবে সম্পূরক বাজেটের আলোচনায় সমাপনী বক্তব্যের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী বলেন ‘আমি কখনও জাতীয় পার্টির সদস্যও ছিলাম না, মন্ত্রী তো দূরের কথা।
এইচ এম এরশাদ ১৯৮২ সালে  ঘোষণা করলেন যে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দলীয় সরকার গঠন করছেন। এর দুই বছর পর তিনি পার্টি গঠন করেন। পার্টির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চাইলে আমি পদত্যাগের কথা জানিয়ে দিই এবং পরে পদত্যাগ করি। এটা সবার জানা উচিত। ইতিহাসে আমি বোধ হয় একমাত্র মন্ত্রী, যিনি পদত্যাগপত্র লিখে পদত্যাগ করেন এবং মন্ত্রিপরিষদ অনুষ্ঠান করে যাকে বিদায় দিয়েছে। জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ অবশ্য এসময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button