রাজনীতি

হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে নির্বাচন চান না জাপা এমপি

ঢাকা, ০৮ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

নির্বাচন ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আরও এক/দুই মেয়াদে ক্ষমতায় দেখতে চান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য খুরশীদ আরা হক । বৃহস্পতিবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য খুরশীদ আরা হক বলেন, ‘আমরা কোনও ইলেকশন চাই না। প্রধানমন্ত্রী আছেন, থাকবেন। আরও পাঁচ-দশ বছর দেশ চালাবেন। খালেদা জিয়া বাংলাদেশে থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন। এটা শোভা পায় না।’

বাজেটের ওপর আলোচনাকালে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী কথা বুঝেন না। বুঝতেও চান না। উনি না বুইঝাই বাজেট করছেন। গরিবের সঞ্চয় থেকে যদি আবগারি কাটেন তবে ক্যামনে চলবে? এটা আমরা মানি না। বাজেট শুভঙ্করের ফাঁকি। মহিলারা সঞ্চয় করেন। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেবে। কেউ শান্তিতে নেই। আমি তো নাই।’

সংসদে মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে খুরশীদ আরা হক বলেন, ‘আমরা কী বলবো। একজন মন্ত্রীও নাই। আমরা বলেই যাচ্ছি।  মন্ত্রীরা খায়, আর পতাকা উড়ায়া গাড়ি চালায়। আমরা বসে থাকি।’

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শান্তির দেশ। এর থেকে শান্তি আর কোথাও নেই। আমি খালেদাকে নির্দেশ দেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলবেন না। লজ্জা নাই তার। মাথা যেন পাখির বাসা। প্রধানমন্ত্রী যে টাকা জমাইছে, তার দিকে নজর পড়েছে।’

এসময় তিনি টেলিভিশনে টকশো বন্ধ করে দিতে প্রধানমন্ত্রীকে শক্ত হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বাজেট আলোচনায় জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংক খাতে লুটপাট হচ্ছে। দেশ থেকে অর্থ পাচার হচ্ছে বিদেশে। কিন্তু লুটপাটকারী ও পাচারকারীদের বিচার হচ্ছে না। ’

তিনি আরও বলেন, ‘‘ঋণের নামে ব্যাংক লুট হচ্ছে প্রতিবছর। চার ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন ২৬ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। অথচ প্রতিবছরের বাজেটে ব্যাংকগুলোকে করের টাকা থেকে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। আর এভাবে ঋণ খেলাপিদের উৎসাহিত করছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি কয়েক বছরে ১৪ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা মূলধন থেকে দিয়েছেন ব্যাংকগুলোকে। এক বছরে দেশ থেকে ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এসব টাকায় কানাডা, মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’ করা হচ্ছে। কানাডার একটি এলাকার নাম হয়ে গেছে ‘বেগমগঞ্জ’। কারণ, ওই এলাকায় বাংলাদেশি বেগম সাহেবারা থাকেন ‘’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের কোথাও রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনা ঘটে না। সংসদে দাঁড়িয়ে গতবার অর্থমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, এ ঘটনার প্রতিবেদন তিনি প্রকাশ করবেন। কথা রাখেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটিতে কাদের নাম এসেছে, জানা গেল না।’

 তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘‘অর্থমন্ত্রী কোন যুক্তিতে বললেন, ‘এক লাখ টাকা থাকলেই সম্পদশালী।’ টাকা এখন আমরা অর্থমন্ত্রীর হাতেই তুলে দেবো। ব্যাংকে রাখব না।’’

বাজেট আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের পঞ্চানন বিশ্বাস, আবু জাহির, কাজী কেরামত আলী, আব্দুল মালেক, আব্দুল মজিদ খান, ওয়ার্কার্স পার্টির টিপু সুলতান প্রমুখ।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button