রাজনীতি

খালেদা-মওদুদের কারণে বাড়ি হারিয়েছিলেন তারা…

ঢাকা, ০৯ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকতে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোশাররফ এর পরিবারের সদস্যদের। আর আইনজীবী হিসেবে কলকাঠি নেড়ে ১৯৮২ সালে সুরকার আলতাফ মাহমুদের পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছাড়া করেছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জাতীয় সংসদে ওই দুই পরিবারের সদস্যরা এমন অভিযোগ করেছেন।

খালেদ মোশাররফের মেয়ে ও আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মাহজাবীন খালেদ ০৮ জুন বৃহস্পতিবার সংসদে মওদুদ আহমদকে গুলশানের বাড়ি উচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, খালেদা জিয়া ওই বাড়ির সামনে গিয়ে নাটক করে এসেছেন। এ নাটক জনগণ বোঝে।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বীর নায়ক খালেদ মোশাররফের স্ত্রী হিসেবে আমার মাকে সরকার যে বাড়ি প্রদান করে, সেখান থেকে উচ্ছেদের জন্য বেগম জিয়া তাঁর শাসনকালে একের পর এক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ২০০৫ সালে খালেদা জিয়ার বোনের ছেলে মাইক্রোবাসে করে গুন্ডা ভাড়া করে এনে বাড়ি খালি করার জন্য আমার মাকে হুমকি দেন। হুমকি দিয়ে ক্ষ্যান্ত হননি। বাড়ি থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আমাদের বের করে দিয়েছেন। আদালতের কোনো আদেশ ছিল না, ছিল না কোনো সরকারি বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। সম্পূর্ণ গুন্ডামি করে সন্ত্রাসীদের মতন এসে আমাদের বাড়ি দখল করে নেন তাঁরা।’
মাহজাবীন বলেন, এটি কর্মফল। সৃষ্টিকর্তা দুনিয়াতে বিচার দেখান। খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্ট ছাড়তে হয়েছে। গতকাল (বুধবার) মওদুদ আহমদকেও তাঁর বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। মওদুদ আহমদ একজন আইনজীবী হয়েও মামলায় হেরে তা মানতে পারছেন না।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক প্রতিক্রয়ায় ১৯৮২ সালে নিজদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরেছেন সুরকার আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ।

ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘দেশ স্বাধীন হবার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শহীদ পরিবারদের বেশকিছু বাড়ি নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে উপহার দিয়েছিলেন। সেসবের মধ্যে আমাদের বাড়িটি ছিল ১ নং মালিবাগে।

৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একদিনের নোটিশে সে বাড়িটি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়। একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে স্যুটকেসের ওপর মা বসিয়ে রেখেছিলেন আমায়। বসে বসে পুলিশের তাণ্ডব দেখেছিলাম সেদিন। দোতলা থেকে বাবার ব্যাগ ছুড়ে ফেলছিল ওরা। এলপি রেকর্ডগুলা চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলছিল বারান্দা থেকে। নিচতলার সঙ্গীতস্কুলের হারমোনিয়াম, তবলা, তানপুরা উঠোনের এখান-ওখানে ছুড়ে ফেলছিল ওরা। জানতাম না রাতে কোথায় থাকবো সেদিন।

সেই উচ্ছেদ প্রকল্পের প্রধান উদোক্তা মওদুদকে স্যুট পরে তার উচ্ছেদ হওয়া বাসার সামনে মাধবীলতা গাছের নীচে দাঁড়িয়ে বলতে শুনলাম যে, তিনি রাতে ফুটপাতে থাকবেন। হা-হা-হা মওদুদ সাহেব, ‘৮২ সালের উচ্ছেদের কথা ভুলি নাই। ভুলবো না। ইটটি মারিলে পাটকেলটি খাইতে হয়। ওহ্ আরেকটা কথা, সেদিন আমরা যদিও জানতাম না, কোথায় থাকবো তারপরও ফুটপাতে থাকবার কথা ভাবিনি। প্রতিবেশীর খালি বাসাটা তাৎক্ষণিক ভাড়া নিয়ে নিয়েছিলাম আমরা।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button