মুক্তমত

ঈদে যাত্রী পরিবহন

ঢাকা, ১০ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

আর ক’দিন পরই ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হবে। কেউ সড়কপথে, কেউ রেলপথে, কেউ নৌপথে, আবার কেউ আকাশপথের যাত্রী হবেন। প্রতি বছর যানবাহনের টিকিট সংগ্রহ থেকে শুরু করে বাড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যানবাহনের স্বল্পতা, টিকিট কালোবাজারি, সড়ক-মহাসড়কগুলোর দুরবস্থা, দুর্ঘটনা, যানজট ইত্যাদি কারণে প্রতি বছর ঈদের আগে জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে। ঈদের আগে পথ যাতে নিষ্কন্টক হয়, মানুষ যাতে বিনা ক্লেশে বাড়ি পৌঁছতে পারে, সেজন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা জরুরি হলেও আজও তা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সরকারি দুই পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ যাত্রী বহনে সক্ষম। ফলে সড়ক ও নৌপথে ঘরমুখো যাত্রীদের এবারও মূলত বেসরকারি বাস ও লঞ্চ সার্ভিসের ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে টিকিট কালোবাজারি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যানবাহন সংকট, বাস-লঞ্চে ওভারলোডিং ছাড়াও লক্কড়ঝক্কড় বাস ও লঞ্চ সার্ভিসের ভোগান্তির মধ্যে পড়ার আশংকা রয়েছে ঘরমুখো মানুষের।

বস্তুত এবারও ঈদে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক কোনো চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে না। নির্ঝঞ্ঝাট ও নিরাপদ ভ্রমণ বহুল প্রত্যাশিত হলেও তা হয়তো মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সড়কপথ হয়ে পড়বে স্থবির। তা সত্ত্বেও সড়ক-মহাসড়কগুলোর অবস্থার যাতে কিছুটা হলেও উন্নতি হয়, সেজন্য আগে থেকেই পদক্ষেপ নেয়া উচিত। ঈদের ছুটি ঘোষিত হওয়ার আগেই মহাসড়কে যত্রতত্র পার্কিং, ম্যাক্সি-টেম্পো চলাচল, রাস্তার মাঝখানে হাটবাজার বসা বন্ধ করা দরকার। প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ কাজে লাগানো যেতে পারে। ঈদের আগে বিভিন্ন যানবাহনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির রেওয়াজ দীর্ঘদিনের হলেও টিকিট নিয়ে প্রতি বছরই মানুষের মধ্যে হাহাকার লক্ষ করা যায়। দেখা যায়, বিক্রি শুরু হতে না হতেই টিকিট ফুরিয়ে যাওয়ার খবর শুনতে হয় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা টিকিট প্রত্যাশীদের। অন্যদিকে বেসরকারি লঞ্চগুলোর কেবিনের অগ্রিম টিকিট আগেভাগেই প্রভাবশালীরা নিয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের ভরসা হল লঞ্চের ডেক। কিন্তু সেখানেও গাদাগাদি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড়ি দিতে হয় তাদের।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সরকারিভাবে নৌপথে যাত্রী চাহিদা মেটাতে পারলে মানুষকে এরকম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হতো না। ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের কারণে প্রায়ই নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটে। সুষ্ঠু তদারকির অভাব ও কতিপয় অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারসাজিতে বছরের পর বছর ধরে নৌপথে অনিয়ম ও নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে হলে প্রচলিত নৌপরিবহন আইন যুগোপযোগী করার পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিসির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। রেলপথ নিয়ে নানা ধরনের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণের কথা শোনা গেলেও আজও দুর্ভোগ থেকে নিস্তার মেলেনি যাত্রীদের। ঈদের সময় রেলযাত্রীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনে এমনিতেই দুর্ভোগের অন্ত নেই। উৎসব-পার্বণে এ দুর্ভোগ যেন শতগুণ বেড়ে যায়। মানুষ যাতে নির্বিঘেœ ঈদ উৎসব উদযাপন করতে পারে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে- এটাই প্রত্যাশা।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button