খেলাধুলা

সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই অস্ট্রেলিয়ার অগ্নিপরীক্ষা

ঢাকা, ১০ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

সেই এজবাস্টন, সেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। আবার মুখোমুখি ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া।

বার্মিংহাম বারে জো রুট-ডেভিড ওয়ার্নারের মারামারির স্মৃতিও ফিরে আসছে কি! ইংলিশদের কাছে ৪৮ রানে সেই ম্যাচ হারের রাতে বারে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রুটের চোয়ালে ঘুষি চালিয়ে পরের ম্যাচের দল থেকে বাদও পড়েছিলেন ওয়ার্নার। আজ হারলে কিন্তু দ্বিতীয় সুযোগটা আর পাবে না অস্ট্রেলিয়া। তাদের সামনে এবারের মাঠের ইংল্যান্ড আরো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে। (বৃষ্টি যদি হিসাব পালটে না দেয়, তাহলে হারলে স্রেফ তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশের বিমান ধরতে হবে। জিতলেই আবার সেমিফাইনাল নিশ্চিত।

ফর্মে থাকা মিচেল স্টার্ক মনে করছেন এই পরিস্থিতি বরং অস্ট্রেলিয়ার জন্য সুবিধারই, ‘আমার মনে হয় এটাই ভালো। এমন নকআউট পরিস্থিতিতে আমরা যখন পড়ে যাই, তখনই সেরাটা বেরিয়ে আসে। আমাদের দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেই তা-ই হয়। আমরা তাই এই ম্যাচটার জন্য মুখিয়ে আছি। ’ ইংল্যান্ডের জন্য এটা আবার স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ। প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই স্বাগতিক হিসেবে ফেভারিট তকমা নিয়েই শেষ চার নিশ্চিত করে ফেলেছে তারা। তার পরও সামনে অস্ট্রেলিয়া বলে কথা। অ্যাশেজ হলে তো কথাই ছিল না। স্রেফ মর্যাদার প্রশ্ন বড় হয় যায় যেখানে অন্যান্য সমীকরণের চেয়ে। ওয়ানডেতেও ঠোকাঠুকিটা যে কম নয় রুট-ওয়ার্নারের বার্মিংহাম কাণ্ডই তো তার প্রমাণ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ইংলিশ দলেরও আজ তাই নিজেদের সেরা প্রমাণেই মাঠে নামার কথা। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জস বাটলার তো বলেই দিয়েছেন জয় নিয়েই তারা সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নামতে চান, ‘আমরা জিতলে কার বিদায় হবে, সেটা নিয়ে মোটেও ভাবছি না। আমাদের একটাই লক্ষ্য—জয় নিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়া। যে ছন্দে আছি আমরা সেটাই ধরে রাখতে চাই এ ম্যাচে। ’ এজবাস্টনের মাঠটিরও প্রশংসা বাটলারের কণ্ঠে, ‘এই মাঠে আমরা সব সময়ই ভালো খেলি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচেও জয়ের জন্য মুখিয়ে থাকব। ’ ২০১৩-এর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিই তো শুধু নয়, ২০০৪-এর আসরেও এই এজবাস্টনেই অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করেছিল ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অ্যাশেজের উত্তাপ নেই তো কী হয়েছে! এর প্রভাব যে ঠিকই পড়ে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদার সেই দ্বৈরথে। ২০১৩-তে যেমন অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ইংল্যান্ড ওই বছর নিজেদের মাঠে অ্যাশেজও রেখে দেয়। ২০০৪-এর জয়ের পর ২০০৫-এর অ্যাশেজেও তারই প্রভাব। ইংলিশদেরই তাতে জয়জয়কার। বাটলারদের মনের কোণে এবারও সেই সম্ভাবনার আলো না খেলে পারে না।

তা ছাড়া অস্ট্রেলিয়া খুব বাজে পরিস্থিতিতে এবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে। ভাগ্য তাদের সঙ্গে নেই বলাই যায়। নইলে কি দু-দুটো ম্যাচ বৃষ্টি ওমন ভেসে যায়! বাংলাদেশের বিপক্ষে তো জয়ের খুব ভালো সম্ভাবনাই ছিল তাদের। বৃষ্টির মারপ্যাঁচে এখন সেই তাদের সেমিফাইনাল না খেলার শঙ্কা। আর এ রকম সময় কিনা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া খেলোয়াড়দের বেতন-ভাতার পুরনো কাসুন্দি আবার সামনে এনেছে। নতুন বেতন কাঠামোয় খেলোয়াড়দের রাজি করানোর জন্য সিএ থেকে কালই একটি ভিডিও রিলিজ করা হয়েছে, যা দেখে ব্যাপক চটেছেন ওয়ার্নার, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কি চায় না আমরা চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতি? তাহলে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই ভিডিও প্রকাশ কেন?’ সত্যি এই অস্ট্রেলিয়াকে এখন মাঠের ইংল্যান্ড তো বটেই, এর বাইরে বৃষ্টি আর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার মতো অযাচিত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও লড়তে হচ্ছে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button