স্বাস্থ্য

পেশীতে খিঁচ? জেনে নিন দূর করার ৭ উপায়

ঢাকা, ১৩ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

নানান কারণে পেশিতে খিঁচ ধরার সমস্যা যে কারোই হতে পাড়ে। তবে ক্রীড়াবিদদের এই সমস্যায় বেশি ভুগতে দেখা যায়। প্রকৃতপক্ষে ৩৯% ম্যারাথন রানার, ৭৯% সাধারণ ক্রীড়াবিদ এবং ৬০% সাইকেল-আরোহীদের পেশী টানের সমস্যায় পড়তে দেখা যায়। সাধারণত পেছনের পায়ের পেশিতে এবং থাইয়ের সামনের অংশে পেশিতে টান পড়ে বা খিঁচ ধরে বেশি। কয়েক সেকেন্ড থেকে ১৫ মিনিটের বেশি সময় পর্যন্ত এই খিঁচ ধরা ভাব থাকতে পারে। পেশী খিঁচের ব্যথা অনেক মারাত্মক হয়ে থাকে। রাতে ঘুমের মধ্যেও টান পড়তে পারে পেশীতে। এই ব্যথা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব ঘরোয়া কয়েকটি উপায়ে। উপায়গুলো জেনে নিন।

১। ঠান্ডা পানির সেঁক

ব্যথা অনেক বেড়ে গেলে ঠান্ডা পানির সেঁক দিতে পারেন। এটি আপনার পেশির খিঁচ কমিয়ে দিয়ে পেশিকে রিল্যাক্স করে দিয়ে থাকে। একটি কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ রেখে মুড়ে নিন। এইবার কাপড়টি দিয়ে পেশি টানের স্থানে সেঁক দিন। এটি ১৫ মিনিট ধরে রাখুন। দিনে ২ ঘন্টা পর পর এই কাজটি করুন। কিংবা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন, এটিও আপনার পেশির ব্যথা কমিয়ে দিবে।

২। ইপসম সল্ট

ইপসম সল্টে থাকা ম্যাগনেসিয়াম পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। কুসুম গরম গোসলের পানিতে দুই কাপ ইপসম সল্ট মিশিয়ে নিন। এতে পা ভিজিয়ে রাখুন ২০ মিনিট। এটি পেশি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। তবে ডায়াবেটিস, হার্টের রোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা এটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন।

৩। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

পেশি খিঁচের অন্যতম একটি কারণ হয়ে থাকে দেহে পটাসিয়ামের অভাব। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারে উচ্চ পটাসিয়াম, বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের তরলের ভারসাম্য করে যা ড্রিহাইড্রেশন রোধ করে থাকে। এক গ্লাস গরম পানিতে এক টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এটি প্রতিদিন পান করুন। রাতের পেশী টান প্রতিরোধ করার জন্য এক চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার , এক চামচ মধু এবং এক টেবিল চামচ ক্যালসিয়াম ল্যাকটেট আধা গ্লাস পানিতে মিশিয়ে নিন। এটি প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে পান করুন।

৪। হলুদ সরিষা

হলুদ সরিষা কয়েক মিনিটের মধ্যে পেশির খিঁচ ভাল করে দিতে পারে। সরিষাতে অ্যাসিটিক অ্যাসিড আছে যা পেশী টানের ব্যথা দূর করে দিয়ে থাকে। এক চা চামচ সরিষা খান। এটি গরম দুধের সাথে খেতে পারেন।

৫। লবঙ্গের তেল

লবঙ্গ তেলের অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান পেশি টান এবং পেশির ফোলাভাব দূর করে থাকে। লবঙ্গের তেল কুসুম গরম করে নিন এবার এটি পেশি টানের স্থানে ম্যাসাজ করুন ৫ মিনিট। প্রয়োজন হলে এই ম্যাসাজ আবার করুন।

৬। পানি পান

পেশি খিঁচের প্রধান একটি কারণ হল ডিহাইড্রেশন। যখনই পেশিতে টান পড়বে তখন ১ থেকে ২ গ্লাস পানি পান করুন। খেয়াল রাখবেন দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পানের অভ্যাস থাকতে হবে। আপনার যদি ব্যায়াম করার কারণে পেশিতে টান পড়ে থাকে, তবে ব্যায়াম শুরুর ২ ঘণ্টা আগে কয়েক গ্লাস পানি পান করুন।

৭। স্ট্রেচিং ব্যায়াম

খুব সাধারণ কিছু স্ট্রেচিং ব্যায়াম পেশি টান থেকে রেহাই দিবে। পেশি টানের স্থানে ১০ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্ট্রেচিং ব্যায়াম করুন। এছাড়া আপনি সাঁতার কাটতে পারেন। এটিও আপনাকে পেশি টানের ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button