সাক্ষাৎকার

বিজ্ঞাপনটির নির্মাণে মানুষের আবেগকে পুঁজি করা হয়নি: আশুতোষ সুজন

ঢাকা, ১৩ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

চলতি বছর ৮ মার্চ নারী দিবস উপলক্ষে আশুতোষ সুজনের তৈরি নারী নিগ্রহ ও নির্যাতন বিরোধী বিজ্ঞাপনটি বাঙালির সমস্ত চৈতন্যে ব্যাপকভাবে স্পর্শ করে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের কাঁটাতার ডিঙিয়ে বিজ্ঞাপনটির মূল আহ্বান পৌঁছে যায় প্রতিবেশি রাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। সামাজিক গণমাধ্যমে বহুল শেয়ার তো হয়েছেই, পাশাপাশি গেল ৫ এপ্রিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বিজ্ঞাপনটি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বাদ যায়নি নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার মূল্যবান পাতাও। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে একটি বিশেষ লেখা প্রকাশ করেছে তারা। দেশিয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান জুঁই নারকেল তেল নারী দিবসের বিশেষ বিজ্ঞাপনচিত্র হিসেবে এটি নির্মাণ করেছে। এতে মূল মডেল হয়েছেন শাহনাজ সুমী। বিশ্ব বিবেকে টনক নাড়ানো বিজ্ঞাপনটি নিয়ে কথা বলে এর পরিচালক আশুতোষ সুজনের সঙ্গে।

বিজ্ঞাপনটি গড়ে ওঠার পেছনের কাহিনী বলুন…

আশুতোষ সুজন: আসলে ‘সান কমিউনিকেশন’ আমাকে বিজ্ঞাপনটি পরিচালনা করতে বলেছিল। আমাকে তারা স্ক্রিপ্ট দেখিয়ে জানতে চাইল- আমি কাজটি করব কি না। আমি বললাম- ‘হ্যাঁ করব।’

বিজ্ঞাপনে শাহনাজ সুমীকে মডেল নির্বাচিত করা হলো কীভাবে?

আশুতোষ সুজন: বিজ্ঞাপনটির কাস্টিং ডিরেক্টর ছিলেন ‘মৃত্তিকা গুণ।’ সান কমিউনিকেশন থেকে মডেল আহ্বান করা হয়েছিল, সেখান থেকেই শাহনাজ সুমী নির্বাচিত হন।

মডেল শাহনাজ সুমীর চুলগুলো কী সত্যি সত্যিই কেটে ফেলা হয়েছিল?

আশুতোষ সুজন: না। ওটা ছিল শুটিং প্রসেস।

বিজ্ঞাপনটিতে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্য একজন নারীকে চুল কেটে জাস্ট ‘ডিফেন্স’ করতে দেখা গেল। এতে তো পুরুষদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার কোনো মেসেজ ছিল না…

আশুতোষ সুজন: দেখুন, আমাদের দেশে ১০০ জন নারীর মধ্যে ৮৩ জন নারী কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ঐ বিজ্ঞাপনটির শেষে একটি কন্ট্রাক্ট নম্বর উঠতে দেখবেন। নির্যাতিত নারীরা ঐ নম্বরে কল দিয়ে সহয়তা পাবেন।

শোনা যায়- ‘বাংলাদেশিরা জাতি হিসেবে একটু বেশিই আবেগী।’ বিজ্ঞাপনটি তৈরিতে আবেগকে পুঁজি করার বিষয়টি ছিল কী?

আশুতোষ সুজন: না। মোটেও নয়। আবেগকে পুঁজি করা হয়নি। বিজ্ঞাপনটি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে নির্মিত।

এর শুটিং করতে কতদিন লেগেছে?

আশুতোষ সুজন: একদিন লেগেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপনটি দেখার পর বউদির (মৃত্তিকা গুণ, আশুতোষ সুজনের সহধর্মিণী) প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

আশুতোষ সুজন: ও তো খুবই খুশি। কারণ ও নিজেও তো বিজ্ঞাপনটি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

বিজ্ঞাপনটি বিশ্বদ্বারে প্রশংসিত হয়েছে। আপনার অনুভূতি কী?

আশুতোষ সুজন: আমার অনুভূতি খুবই ভালো। আমি বিষয়টিকে উপভোগ করছি।

প্রশংসা অনেক সময় প্রতিভা বিনাশী। বিনাশ রোধ করতে পারবেন তো?

আশুতোষ সুজন: তেমন কিছু হবে না। বললামই তো- আমি বিষয়টি খুব উপভোগ করছি।

এটি নির্মাণের পর আর কোনো বিজ্ঞাপন নির্মাণ করার ডাক পাচ্ছেন কী?

আশুতোষ সুজন: হ্যাঁ। রবির একটি বিজ্ঞাপন করার ডাক পেয়েছি।

এ যাবৎ মোট কয়টি বিজ্ঞাপন তৈরি করেছেন?

আশুতোষ সুজন: তিনটি।

ভবিষ্যতে আপনার ক্যারিয়ার বিজ্ঞাপন নির্মাণ কেন্দ্রিক হয়ে যাবে কী?

আশুতোষ সুজন: না। বিজ্ঞাপন ও সিনেমা দুটোই বানাব।

আপনার মুক্তি না পাওয়া সিনেমা ‘পিতা’ এর শেষ খবর কী?

আশুতোষ সুজন: যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার ‘পিতা’ চলচ্চিত্রের কাজটি করার কথা ছিল, তাদের সঙ্গে আমি কাজটি করব না। তবে ‘পিতা’ চলচ্চিত্রের কাজ থেমে থাকবে না।

ধন্যবাদ আপনাকে।

আশুতোষ সুজন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

প্রায় দুই মিনিটের বিজ্ঞাপনচিত্রটিতে দেখা যায়, একজন তরুণী পার্লারে যান তার লম্বা চুল ছোট করতে। বিউটিশিয়ান তরুণীর চুল যতই ছোট করেন, তরুণী শুধুই বলেন, ‘আরও ছোট করুন!’ শেষমেশ তরুণী বিউটিশিয়ানকে বলেন- ‘আরও ছোট করে দিন, যাতে এভাবে আর ধরা না যায়’- মূলত এ সংলাপটি-ই মানুষের মনে দাগ কেটে যায়।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button