জেলার সংবাদ

তানোরে ‘রিবার্থ’ অপারেশন সমাপ্ত, ৮ জঙ্গি রিমান্ডে

ঢাকা, ১৩ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখার ২২ ঘণ্টা পর অভিযান শেষ হয়েছে।
সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা পর পর তিনটি শক্তিশালী বোমা নিষ্ক্রিয় করার পর এ অভিযান শেষ হয়।

পরে রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নিশারুল আরিফ রাতেই ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিং করে অভিযানটিকে অপারেশন ‘রিবার্থ’ নামে ঘোষণা দেন।

সেখান থেকে বেশ কিছু জিহাদী বই, সিডি ও টাকাসহ বিভিন্ন বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে থানায় মামলা করা হয় (মামলা নং-১৩)।

এতে নারীসহ ৮ জনকে আসামি দেখানো হয়েছে। তানোর থানার পিএসআই জাহেদুল ইসলাম খন্দকার বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- বাড়ির মালিক ও উপজেলার গৌরাঙ্গপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রমজান আলী (৫৬), তার স্ত্রী আয়েশা বেগম (৪৮), তাদের দুই ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (৩১) ও ইসরাফিল হোসেন (২৫), তার স্ত্রী রুমেসা বেগম (২০), ইব্রাহিমের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (২৮), রমজানের মেয়ে হাওয়া খাতুন (২০) এবং তার স্বামী রবিউল ইসলাম (২৬)। পুলিশ বলছে- এরা সবাই নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়েছিল।

মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সিদ্দিকুর রহমানকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার দেয়া হয়।

দায়িত্ব পেয়ে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে রাজশাহীর ৩নং আমালী আদালতে হাজির করা হলে তা মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আটক জঙ্গির মধ্যে ইসরাফিলের স্ত্রী রুমেসা বেগমের বড় দুলাভাই কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার সাদিপুর শিলাদহ গ্রামের রেজাউল করিমের পুত্র আব্দুস সবুর খাঁন ওরফে সোহেল ওরফে মাহফুজ (সাংগঠনিক নাম) দেশের কুখ্যাত জঙ্গি।

তার মাধ্যমে ইসরাফিলের পরিবার নব্য জঙ্গি খেলাফরের দাওয়াত পায়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জন জঙ্গি বিভিন্ন সময়ে ইসরাফিলের বাড়িতে যাতায়াত করতো এবং জিহাদ সম্পর্কে বোঝাতো। এতে করে সুইসাইডাল ভেস্ট তৈরি সম্পর্কে তারা ধারণা পায়।

 অপরদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে থানা পুলিশ ও জেলা সিআইডির ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জঙ্গি আস্তানার বিভিন্ন মালামাল ও জমির কাগজপত্র উদ্ধার করে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের জিম্মায় দেন।

তিনি দায়িত্ব পেয়ে তালাবদ্ধ করে দেন বাড়িটি। এরআগে ১৩ জুন দিবাগত রাতে সুইসাইডাল বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। এতে জঙ্গি বাড়ির দোতলার বারান্দায় টিনের ছাউনি উঠে যায় এবং মাটির ওয়াল ভেঙ্গে পড়ে।

এদিকে, ডাঙ্গাপাড়া জঙ্গি বাড়ি আস্তানা দেখার জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার মানুষের ঢল নামে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রমজান আলীর পুরো পরিবার বেশ কয়েক বছর আগ থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদসহ ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করতো।

কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও রমজান মাস্টার আওয়ামী লীগের সমর্থক ও ভোটার ছিলেন বলে জানান তার বড় ভাই আজাহার আলী।

এব্যাপারে তানোর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম জানান, আটককৃতদের মধ্যে চার নারীসহ ৮ জঙ্গির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে থানায় মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যেই আসামিদের আদালতে তোলা হয়। আদালতে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে তা আদালত মঞ্জুর করে বলে জানান ওসি।

প্রথম দফার অভিযানে মর্জিনার তিন মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তামান্না খাতুন (৮), তাসকিরা খাতুন (৪), ছয় মাসের শিশু তানসিরা এবং হাওয়া খাতুনের তিন মাস বয়সী এক শিশুকেও উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, এই চার শিশুর মধ্যে তাসকিরা ও তামান্নাকে তাদের স্বজনদের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। অন্য দুই শিশু থাকবে তাদের মায়ের সঙ্গে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার গভীর রাতে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও রাজশাহী জেলা পুলিশ রমজানের বাড়ি ঘিরে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চার শিশুসহ ১২ জনকে আটক করে পুলিশ।

পরে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫ রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। সোমবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বাড়িটি দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায়। অভিযানের ২২ ঘণ্টা পর অপারেশন রিবার্থ শেষ হয়।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button