অর্থ ও বাণিজ্য

তিন বছরে ব্যাংক ঋণ কমেছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

ঢাকা, ১৪ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সরকার। তবে বছর শেষে দেখা যায় ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করছে সরকার। গত কয়েক বছর ধরে এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত তিন বছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা কমেছে। মূলত, সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্থের যোগান আসায় ব্যাংক ঋণ কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের বর্তমান ঋণ রয়েছে ৮০ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এক লাখ আট হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ২৮ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা কমেছে। ২০১৫ সালের এক লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা ছিল। ফলে দেখা যাচ্ছে প্রতিবছরই ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ কমছে।
চলতি অর্থবছর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক  করেছে সরকার। গত অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। অবশ্য সংশোধিত বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৩১ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা ধরা হয়। আর বছর শেষে দেখা যায় সরকার খুব কমই ব্যাংক মুখি হয়েছে।
আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণ ছিল ২১ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। আর অন্যান্য তফসীলি ব্যাংক থেকে ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৬ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত উভয় খাতেই ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১৪ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য ব্যাংকের কাছে ৬৫ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে সরকারের।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই (জুলাই-এপ্রিল) সঞ্চয়পত্র বিক্রির আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এ সময়ে সঞ্চয়পত্রে নিট বিনিয়োগ এসেছে ৪২ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের পুরো সময়ে নিট বিনিয়োগ এসেছিল ৩৩ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের পুরো সময়ের জন্য সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। সে হিসাবে দেখা যাচ্ছে ১০ মাসেই লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণেরও বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।
দেখা গেছে, দেশে কার্যরত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্থায়ী আমানত রাখলে গড়ে পাঁচ থেকে ৬ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যা সঞ্চয়পত্রের সুদের তুলনায় অনেক কম। ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফা গড়ে ২ শতাংশ হারে কমানোর পরও সব স্কিমের বিপরীতে এখনো ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে সঞ্চয়পত্রে একই সুদহার থাকলেও প্রতিনিয়ত কমছে ব্যাংকের আমানতের সুদের হার। ফলে ব্যাংক থেকে আমানত তুলে সঞয়পত্রে বিনিয়োগ করছে মানুষ।
একইভাবে অন্যান্য জায়গা থেকেও বিনিয়োগ তুলে নিয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ লাভজনক হওয়ার পরও সেখানে অনেক ঝুঁকিও আছে। তাই অনেকেই সেখানে না গিয়ে ঝুঁকিহীন ও নিশ্চিত লাভের ক্ষেত্র সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন। ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে প্রচুর অর্থ পাচ্ছে সরকার। এতে ব্যাংক থেকে আর ঋণ না করলেও চলছে। এমনকি ব্যাংক ঋণও পরিশোধ করছে সরকার।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য তফসীলি ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাইরে সরকারের চাহিদা মাফিক ঋণের ৬০ শতাংশ পিডি (প্রাইমারি ডিলার) ব্যাংক পূরণ করার পর বাকি ৪০ শতাংশ নন-পিডি ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে হয়।
Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button