আইন ও আদালত

দুই মামলায় প্রতিবেদন দেয়নি তদন্ত সংস্থা

ঢাকা, ১৪ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে ত্রুটির ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যাচেষ্টার পৃথক দুই মামলায় তদন্ত সংস্থা কোন প্রতিবেদন দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের ত্রটি সংক্রান্তে বিমান মন্ত্রনালয় কর্তৃক গঠিত কমিটি গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতিবেদন দাখিল করলেও পুলিশের তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) এখনও কোন প্রতিবেদন দাখিল না করায় পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র ছেলে ও তার প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র সংক্রান্তে দায়ের হওয়া মামলায়ও কোন প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় নতুন তারিখ ধার্য হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দুই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটির মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাবীব আাগমী ২৭ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট সরাফুজ্জামান আনসারী আগামী ১৩ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মামলাটি তদন্ত করছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক মাহবুবুল আলম। জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী পুলিশ সুপার হাসান আরাফাত।

প্রধানমন্ত্রীর মামলা 
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুদাপেস্ট যাওয়ার জন্য পূর্ব নির্ধারিত বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং এ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জরুরী অবতরণে বাধ্য হয়। বিমানের ইঞ্জিনে তেল বিপদসীমার নিচে নেমে যাওয়ার সংকেত পেয়ে ওই বিমানে সফরকারী সবাইকে নিয়ে পাইলট তুর্কিমিনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে নিরাপদে অবতরণ করে।

পরবর্তীতে সফরসঙ্গীদের অন্য বিমানে পাঠিয়ে দিলেও ত্রুটি সারিয়ে ওই বিমানেই চারঘণ্টা বিলম্বে পৌঁছেন গন্তব্যে। ত্রুটি সারতে গিয়ে ধরা পড়ে ওই বিমানের ইঞ্জিনের অয়েল ট্যাংকের নাট ঢিলা ছিল। ঘটনাটি মানবসৃষ্ট বলে অভিমত দেয়া হয়।

ওই ঘটনার পেছনের রহস্য খতিয়ে দেখতে বিমান মন্ত্রণালয় ২৮ নভেম্বর পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পৃথক ওই কমিটি তদন্ত শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর তাদের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।

অপরাধমুলক ওই ষড়যন্ত্রে বিমানের প্রধান প্রকৌশলীসহ নয় কর্মকর্তা জড়িত মর্মে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে যন্ত্রপাতি নিয়া অবহেলামূলক আচরণ করতঃ অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম সংগঠিত করার বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চিহ্নিত নয়জনের মধ্যে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বরখাস্ত হন বিমানের ছয় কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ১৪ ডিসেম্বর বরখাস্ত হন তিন প্রকৌশলী।

তদন্ত কমিটির ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দণ্ডিবিধির ১০৯/১১৮/১২০(খ)/২৮৭ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারার অভিযোগে বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) উইং কমান্ডার (অব.) এমএম আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে বিমানের ওই নয কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিমান বন্দর থানায় গত বছরের ২০ ডিসেম্বর রাতে মামলাটি করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সফরে গত বছরের ২৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বুদাপেস্ট যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজটি ঠিক করা হয়। আসামিরা বিমানের প্রকৌশল বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তা। এই উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল তাদের উপর। আগের দিন উড়োজাহাজ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তারা রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন।

অথচ সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানের পাইলট তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন। সেখানে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর ত্রুটি মেরামত করে ওই ফ্লাইটেই প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্টে পৌঁছান।

অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আসামিরা যোগসাজশে যন্ত্রপাতি নিয়া অবহেলামূলক আচরণ করতঃ অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম সংগঠন করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

ইতোমধ্যে বিমানের প্রকৌশলীসহ উচ্চ পদস্থ এগারো কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এরা হলেন, বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রোডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স) এস এ সিদ্দিক ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এস এম রোকনুজ্জামান, নাজমুল হক, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস এবং জাকির হোসাইন, টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান এবং জুনিয়র টেকনিশিয়ান শাহ আলম।

জয়কে অপহরণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র মামলা
২০১৫ সালের ৪ আগস্ট ডিবির পরিদর্শক ফজলুর রহমান এ বিষয়ে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যা পরে মামলায় রূপান্তরিত হয়।

মামলায় বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের আগে যেকোনো সময় হতে এ পযন্ত বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাস’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার আসামিরা একত্রিত হয়ে যোগসাজশে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। তা বাস্তবায়নে বিএনপির হাইকমান্ড দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অর্থায়ন করছে। এর পেছনে বিএনপি নেতাদের ‘হাত আছে’ বলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের করা অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে তদন্তের খাতিরে কারও নাম এজাহারে প্রকাশ করা হয়নি।

এ মামলায় সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। অন্যদিকে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে কারাগারে থাকা অবস্থায় এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনিও এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে পরে জামিন পান

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button