রাজনীতি

বর্তমান সরকারের আমলে দুর্ঘটনা বেড়েছে: খালেদা জিয়া

ঢাকা, ১৪ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

খালেদা জিয়াসড়ক-মহাসড়কের বেহাল অবস্থায় বর্তমান সরকারের আমলে সারাদেশে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার এক ইফতার অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘সারাদেশেই প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা হচ্ছে। বিশেষ করে হাইওয়ের যে বেহাল অবস্থা, রাস্তার ছবি পত্র-পত্রিকায় আপনারা দেখেছেন। হাইওয়ের যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়বে। এই সরকারের আমলেই আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি, মৃত্যু আর মৃত্যু, মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চলেছে।’

গুলশানের ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে ২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির উদ্যোগে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সরকার মহা আনন্দে আছে। তারা দেশে-বিদেশে ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছেন। তারা আকাশে ওড়েন, মাটির কথা চিন্তাও করেন না। মাটির দিকে দেখেনও না, কী অবস্থায় আছে দেশ? সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারা (সরকার) অনেক উন্নয়নের কথা বলেন। কিন্তু রাস্তা-ঘাটের যে অবস্থা, সেটা দেখে কী বুঝা যায় উন্নয়ন হয়েছে দেশে? উন্নয়নের সুফল কী দেশের মানুষের কাছে পৌঁছেছে?’
রমজানে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
পাবর্ত্য অঞ্চলে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে আহতদের অবিলম্বে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানান খালেদা জিয়া। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সরকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তাও করে না। তারা জানে তাদের ক্ষমতায় থাকতে হবে। ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা কতগুলো কৌশল ঠিক করেছে। যাদেরকে হাতে রাখা দরকার তাদেরকে অবাধ সুযোগ দিচ্ছে, বলছে ‘নিজেরা করো’। প্রয়োজনে সেখানে যেটা সাহায্য-সহযোগিতা দরকার সেটা তারা করে দিচ্ছে। যাদের নিয়ে নির্বাচনে জেতা সম্ভব, যারা তাদের জিতিয়ে দিতে পারবেন, তাদের জন্য কাজ করছে সরকার। সাধারণ মানুষের এখানে ভোটের কোনও দাম নেই্। সেজন্য আমাদের দাবি, দেশে ভোট হতে হবে, গত ১০ বছর দেশে ভোট হয়নি।’
একাদশ নির্বাচনে সকলের অংশ গ্রহণের বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সকল রাজনৈতিক দল যাতে ভোটে অংশ গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আর ভোটটা যাতে সকল মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেই ব্যবস্থা রাখার জন্য প্রয়োজন একটা নির্বাচনকালীন সরকার। যে সরকার সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারবে নির্বাচন কমিশনকে।’
বিএনপি প্রধানের ভাষ্য, ‘কারণ, হাসিনা সরকার কিছু করবে না, তাদের প্রক্রিয়া ভিন্ন। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে চায় না। সেজন্য দেখেন, আজকে জনগণের এত দুঃখ-দুর্দশা, তাদের কিন্তু কোনও চিন্তা নেই। নিজেরা ভালো আছে, খাচ্ছে। যতটুকু রিলিফ আছে রিলিফ চুরি করছে, লুটপাট করছে, ব্যাংকের টাকা নিচ্ছে। এবার বাজেটে যত রকমের কর বসিয়েছে, ভ্যাট বসিয়েছে এবং মুদির দোকানেও ভ্যাট বসিয়েছে। তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?’
ইফতারে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ছাড়াও জোট নেতাদের মধ্যে ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতের মাওলানা আবদুল হালিম, জাগপার রেহানা প্রধান, এনডিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মূর্তজা, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, বিজেপির আবদুল মতিন সউদ, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, খেলাফত মজলিশের শেখ গোলাম আজগর প্রমুখ।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button