খেলাধুলা

বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হল না

ঢাকা, ১৬ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

স্বপ্নের একটা ধাপ বাংলাদেশ সেমিফাইনালে পা রেখেই স্পর্শ করেছে। প্রথমবারের মতো সেরা আট দলের একটি হিসেবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে গিয়েই সেমিফাইনালে পা রাখাটা কম ব্যাপার নয়। এর পরের স্বপ্নটা ছিলো ফাইনালে পা রাখা।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় সে স্বপ্নপূরণ হলো না। বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ২৬৫ রানের লক্ষ্যে হেসে খেলে পৌছে গেলো ভারত। ৯ উইকেটের জয় নিয়ে ফাইনালে চলে গেলো বিরাট কোহলির দল। আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২৬৪ রান তুলেছিলো। জবাব দিতে নেমে শুরুতে এক মাশরাফি বিন মুর্তজার বল খেলতে যা একটু সমস্যায় পড়ছিলো ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। বাকীদের খুব স্বচ্ছন্দে খেলে বিনা উইকেটে ৮৭ রান তুলে ফেলে তারা। শেষ অবধি শিখর ধাওয়ানকে ৪৬ রানে আউট করে ওই মাশরাফিই একটু উল্লাসের সুযোগ এনে দেন।

বাকীটা সেঞ্চুরিয়ান রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির দারুন ব্যাটিংয়ের গল্প। ১১১ বলে সেঞ্চুরি করে রোহিত। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন ১২৩ রানে। আর অধিনায়ক কোহলি অপরাজিত থাকেন ৯৬ রানে। এই ইনিংস খেলার পথে বিরাট কোহলি সবচেয়ে কম ইনিংসে ৮ হাজার রান করার রেকর্ড নিজের করে নেন।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু হয়েছিলো বিপর্যয় দিয়ে। প্রথম ওভারের শেষ বলে একেবারে খালি হাতে ফিরে এলেন সৌম্য সরকার। তার বদলী সাব্বির রহমান রুম্মন এসে চারটে বাউন্ডারি মারলেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলেন না। তিনি ফিরে এলেন ১৯ রান করে। আর এরপরই বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখানো দারুন একটা জুটি করেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম।

তামিম-মুশফিক তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১২৩ রান। ২৮ ওভারে ২ উইকেটে ১৫৪ রান তুলে ফেলেছিলো বাংলাদেশ। তিন শ পার করা স্কোর তখন চোখেন সামনে। ঠিক এই সময়ই ঘটলো আরেকটা বিপর্যয়।

তামিম ফিরে এলেন ৭০ রান করে। এটা ছিলো চলতি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তামিমের তৃতীয় বার পঞ্চাশ পার করা স্কোর। যখন আউট হয়েছেন, তখন পর্যন্ত টূর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীও ছিলেন। তামিমের পরপর উইকেটে এসেই দ্রুত ১৫ রান করে ফিরে এলেন সাকিব। আর হতাশাজনক এক শট করে ৬১ রানে ফিরলেন মুশফিকও।

এরপর শেষ ভরসা ছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক। দু জনের কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। মাহমুদউল্লাহ ২১ ও মোসাদ্দেক ১৫ রান করে আউট। তখন আবার মনে হচ্ছিলো আড়াই শ রানও পার করতে পারবে না বাংলাদেশ। ওখান থেকেই লড়াই করার মতো স্কোর এনে দিলেন মাশরাফি।

অনেকদিন পর ব্যাটটা ঝলসালো অধিনায়কের। ২৫টি বল খেলেছেন। তাতেই ৫টি বাউন্ডারিতে সাজিয়ে করলেন ৩০ রান। অপরাজিত এই ইনিংস খেলে অধিনায়কই বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন ২৬৪ রানে।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button