জাতীয়

উৎসবমুখর ঈদবাজার, জমজমাট কেনাকাটা

ঢাকা, ১৬ জুন, (ডেইলি টাইমস ২৪):

ঈদের আরো দু’সপ্তাহের মতো সময় বাকী। এরই মধ্যে জমে উঠেছে রাজধানীর ঈদ বাজার। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত বিপনীবিতানগুলোতেও উৎসবমুখর পরিবেশ। জাঁকজমক করেই সাজানো হয়েছে অধিকাংশ শপিং মল। ক্রেতারাও কেনাকাটায় পিছিয়ে নেই।

রমজানের শুরু থেকেই বাহারি রং ও ডিজাইনের পোশাকে ভরে উঠেছিল শপিং সেন্টার, শোরুমগুলো। আর রাজধানীবাসী ব্যস্ত কেনাকাটায়। ঈদে ছেলেদের পাঞ্জাবি চাই। মেয়েদের চাই থ্রিপিস, শাড়ি । এগুলো দিয়েই শুরু হয়েছে শপিং। বসুন্ধরা শপিংমল, যমুনা ফিউচার পার্ক, গুলশানের শপার্স ওয়ার্ল্ড, এলিফ্যান্ট রোড, বেইলী রোড, নিউ মার্কেট, গাউছিয়া থেকে শুরু করে অলি গলি ফুটপাথে চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে কেনাকাটা।

তবে ঈদের কেনাকাটায় বিশেষভাবে আলোচিত বসুন্ধরা সিটি শপিংমল। বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সব বয়সী মানুষের সরব উপস্থিতি। অনেকগুলো প্রবেশ পথ। তবু লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে শপিংমলে প্রবেশ করছিলেন ক্রেতারা। লিফট এবং চলন্ত সিঁড়িতেও গায়ে গা লাগা অবস্থা। মূল শ্রোতটি চলে যাচ্ছিল পোশাকের বিখ্যাত শোরুমগুলোর দিকে। দেশীয় ব্র্যান্ডের নতুন আউটলেট এরই মাঝে ক্রেতাদের প্রিয় ঠিকানা হয়ে উঠেছে। আলাদা আলাদা ফ্লোরে সাজানো হয়েছে পাঞ্জাবি ও থ্রিপিস। দুটো ফ্লোরে ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড়।

বিদেশী ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতেও বিক্রি ভাল। প্রতিটিতেই ওয়েস্টার্ন ঢংয়ে তৈরি পোশাক সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ইনফিনিটি, ক্যাটস আই, ফ্রিল্যান্ড, এক্সট্যাসি, ম্যানজক্লাবসহ কয়েকটি ব্র্যান্ডের শোরুমে ক্রেতাদের ভিড়। ঈদেও অভিন্ন দৃশ্য দেখা গেল। বিশালায়তন শোরুমগুলোতে পোশাকের বিপুল সম্ভার। নারী-পুরুষ এবং শিশুদের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।

চড়া দাম। তবে এ জন্য ঈদের কেনাকাটা থেমে নেই। বরং দোকানের ক্যাশ কাউন্টারে হুড়োহুড়ি অবস্থা। পাঞ্জাবির ক্রেতারা বিশেষ ভিড় করেছিলেন লুবনানের শোরুমে। ভারত থেকে আমদানি করা গর্জিয়াস পাঞ্জাবি এখানে। অধিকাংশই শেরওয়ানির মতো দেখতে। তরুণরা খুব আগ্রহ নিয়ে দেখছিলেন ও কিনছিলেন। লুবনানের ম্যানেজার রাজু জানালেন, অনেকগুলো ডিজাইন এরই মাঝে শেষ হয়ে গেছে। এখন কোন পাঞ্জাবি পছন্দ হলে কেউ আর রেখে যাচ্ছেন না। কারণ তারা জানেন, দ্বিতীয়বার এসে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

ভারতীয় হরেক নামের পোশাক: এবারো ভারতীয় বিভিন্ন সিরিয়াল ও মুভির নামে মেয়েদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে ঈদবাজারে। শাড়ির মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দাগিন্নী, ঊনিশ কুড়ি, বিবি নং-১ প্রভৃতি। এসব শাড়ীর প্রতি নারীদের আর্কষণও বেশী। মেয়েদের পোশাকের মধ্যে বেশি চাহিদা ‘রাউন্ড’-এর। এছাড়া রয়েছে বাহুবলি-২, রূপমতি, ঘাগড়া, সেলফি, সারারা, পাঞ্চু। এসব পাওয়া যাচ্ছে ৬শ’ থেকে দশ হাজার টাকার মধ্যে। পাশাপাশি গত বছর বাজারে আসা বাজিরাও মাস্তানি, শারারা, সুলতান, ডারলিং তেরে লিয়ে, মাস্তি, প্রভৃতি জামাও পাওয়া যাচ্ছে।

ভারতীয় পোশাকের প্রতিও রয়েছে নারীদের বাড়তি আকর্ষণ। টপ কটন সিল্ক, শিফন, বর্ষা, লোন, গঙ্গা, অরগেন্ডি ও বিপুল ব্র্যান্ডের মেয়েদের পোশাক ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গাউসিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী স্বপন আহমেদ বলেন, ‘ক্রেতাদের পছন্দ ও চাহিদা বেশি থাকায় ভারত থেকে আনা জামা এবং ভারতীয় নামে জামা দোকানে বেশি তোলেন ব্যবসায়ীরা।’

ছেলেদের শপিং বলতে পাঞ্জাবী: ঈদ কেনাকাটায় ছেলেদের বেলায় মূল আকর্ষণ পাঞ্জাবি। ঈদের দিন নতুন পাঞ্জাবি গায়ে না দিলেই নয়। দীর্ঘকাল ধরেই পুরুষের ঈদ ফ্যাশনের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে আছে পাঞ্জাবি। আর সব কেনাকাটা ঐচ্ছিক।

বরাবরের মতো এবারো সুতি কাপড়ের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আছে সামু সিল্ক, ইন্ডিয়ান সিল্ক, ইন্ডিয়ান চিকেন, তসর, খাদি, মটকা, মহীশূর, অ্যান্ডি কটন, জাপানী ইউনিটিকা, ধুতিয়ান, জয়শ্রী সিল্কসহ নানা জাতের কাপড়। লিলেন ও জর্জেট কাপড় বিশেষ আরামদায়ক। বিভিন্ন মার্কেটে খুব দেখা যাচ্ছে। দেশী ফ্যাশন হাউসের পাঞ্জাবিগুলোতে ভারি কাজ করা হয়নি। প্রিন্টের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। তাতেই দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে! ঈদ উৎসবে রঙ নির্বাচন জরুরী বিষয়। আবহাওয়া বিবেচনায় ফ্যাশন ডিজাইনাররা হাল্কা রং বেছে নিয়েছেন। সাদা, গোলাপি, নীল ইত্যাদি রঙের পাঞ্জাবিই বেশি। মাপের দিক থেকেও ভিন্নতা আছে। ঈদে বাজারে এসেছে লং, সেমি লং, এক্সট্রা লং পাঞ্জাবি। তরুণদের প্রথম পছন্দ আবার শর্ট পাঞ্জাবি।

ঈদে দেশী পাঞ্জাবির বিশেষ কদর। প্রথমেই আসে আড়ংয়ের কথা। আড়ংয়ের পাঞ্জাবি ছাড়া ঈদ করার কথা অনেকে ভাবতেও পারেন না। কারণও আছে। আড়ংয়ের পাঞ্জাবি মান, ডিজাইন, রং সব মিলিয়ে স্পষ্ট এগিয়ে। শোরুমগুলোতে তাই উপচে পড়া ভিড়। গত কয়েকদিন গুলশান, সায়েন্সল্যাবরেটরি ও আসাদগেটে শোরুম ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ফ্লোরে উপচে পড়া ভিড়।

এছাড়া আড়ং, অঞ্জনস, কে ক্র্যাফট, সাদা কালো, বাংলার মেলা, দেশাল, রঙ, বালুচর ইত্যাদি ফ্যাশন হাউসের পাঞ্জাবির কদর খুব বেশি। এসব ফ্যাশন হাউসের পাঞ্জাবিতে দারুণ সব নকশা করা। কোন কোন ক্ষেত্রে সুন্দর হাতের কাজ। দেশী ফ্যাশনের পাঞ্জাবির চাহিদাও খুব বেশি। আজিজ সুপার মার্কেটও পাঞ্জাবির বড় সংগ্রহ। এখানে পাঞ্জাবির বেলায় কটন, লিলেন ও জর্জেট কাপড়ের ব্যবহার চোখে পড়ছে। প্রাধান্য পেয়েছে প্রিন্টের কাজ।

পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে পাকিস্তানী কাবুলি সেট। পাঞ্জাবিতে আরও আছে ওয়েস্টার্ন ডিজাইন। এগুলো জিন্সের সঙ্গে পরা যায়। এক্সটেসি, ইনফিনিটি, ক্যাটস আই, মেনজক্লাব, স্মার্টেক্স, দর্জিবাড়ি ইত্যাদি শোরুমে তাই পা ফেলার জায়গা খুঁজে নিতে হচ্ছে।

ফুটপাতেও ভিড়: ঈদের কেনাকাটার ধুম পড়েছে রাজধানীর নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝেও। মার্কেটের মতো ফুটপাতেও উপচেপড়া ভিড়। কারণ, স্বল্প আয়ের মানুষের কেনাকাটার প্রধান জায়গা হলো রাজধানীর ফুটপাতের দোকানগুলো। অনেকটা কম দামে জিনিসপত্র কিনতে পারছেন তারা। আর দোকানীরাও দিচ্ছে মার্কেটের চেয়ে কমে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আমাদের দোকান ভাড়া লাগে না, কর্মচারী খাটাতে হয় না। তাই মার্কেটের চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা কমে বিক্রি করতে পারছি। ক্রেতারাও খুশি।

Show More

আরো সংবাদ...

Back to top button